Showing posts with label Santapriya Chakraborty. Show all posts
Showing posts with label Santapriya Chakraborty. Show all posts

Friday, 2 November 2018

Fan Fiction: Santapriya Chakraborty

 জটায়ু - সর্দারজী রাজস্থান মে ডাকু হ্যায় ইয়া নেহি হ্যায়?

ড্রাইভার - হ্যায় জি।
মন্দার বোস - রাজস্থানে রক্তপাত!
জটায়ু - বাঃ! বাঃ! ওয়ান্ডারফুল। দারুণ বলেছেন তো মশাই। আমি বরং এটা লিখে নি......

(ফেলুদার আগমন)

ফেলুদা - আর লিখে কাজ নেই লালমোহন বাবু‌‌। ওনামে আর ব‌ই বাজারে চলবে না‌।
জটায়ু - মানে? মানে?
ফেলুদা - গোঁদা বাংলায় বললে ঐ নামে আপনার নেক্সট উপন্যাস বেরোলে পাব্লিক খাবে না।
মন্দার বোস - এমন কথা বলছেন কেন মশাই? নামটার মধ্যেই তো কেমন একটা থ্রিল রয়েছে। "রাজস্থানে রক্তপাত"!
জটায়ু - তাহলে ফেলুবাবু আপনি বলছেন রাজস্থানে আর ডাকু নেই? আরাবল্লী ছেড়ে তারা সব পালিয়েছে?
মন্দার বোস - নাকি ডাকাতি ছেড়ে সন্ন্যাসী হয়ে হিমালয়ে গিয়ে ধ্যান করছে? হেঁ হেঁ হেঁ!!
ফেলুদা - এর কোনটাই নয়। আরাবল্লীর ডেকয়টসরা এখন দারুণ স্মার্ট। তারা আর রক্তপাত ঘটায় না। তারা এখন ধান্দা বদলেছে। তাতে রিস্ক‌ও কম, মুনাফাও বেশী। তার উপর সরকারি মহলের হাত রয়েছে মাথার ওপর। ওরা এখন সবাই কড়োরপতি।
জটায়ু - অ্যাঁ!!
ফেলুদা - অ্যাঁ নয় হ্যাঁ। তারা এখন "পাহাড় চুরি" করছে। খবর শোনেননি, আরাবল্লীর ১২৮ টা ছোটবড় পাহাড়ের মধ্যে ৩১ টা টোটাল ভ্যানিশ।
মুকুল -( খানিক উত্তেজিত হয়ে) যেভাবে দুষ্টু লোককে ভ্যানিশ করে দিয়েছিল ডাক্তার কাকু?
ফেলুদা - ঠিক তাই মুকুলবাবু। সেরকমই ভ্যানিশ।
মন্দার বোস - কি যে বলছেন মশাই কিছুই তো মাথায় ঢুকছে না। এতে লাভটাই বা কি?
ফেলুদা - লাভ অনেক। এই পাহাড়গুলো খননের পর তার পাথর বিক্রী হয়ে যাচ্ছে চড়া দামে‌। যতটা হচ্ছে বৈধভাবে তার থেকে বেআইনি খনন চলছে অনেক বেশী। আর তা বাবদ রাজস্থান সরকার বছরে ৫০০০ কোটি টাকা রয়্যালটি পাচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট আগামী​ ৪৮ ঘন্টার মধ্যে এ খনন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।
মন্দার বোস - তাও ভাল। আমি তো ভাবলুম স্বয়ং হনুমান এসে গন্ধমাদনের মত এই পাহাড়গুলো কাঁধে করে তুলে নিয়ে যাচ্ছে।
ফেলুদা - হনুমান‌ই বটে। রাজস্থানে ক্ষমতায় তো তাদেরই​ ভক্তরা। ফলে তারা যে ইন্সপায়ার্ড হয়ে একের পর এক পাহাড় সাবাড় করবে এতে আর নতুন কি! আপনি লালমোহন বাবু শুধু শুধুই ঐ জং ধরা অস্ত্রটি এদ্দূর বয়ে নিয়ে এলেন।
জটায়ু - তা যা বলেছেন।(ব্যাগ হাতড়ে) কিন্তু একি! অস্ত্র হাওয়া। শুধু খাপটি অবশিষ্ট রয়েছে.....😮😮

Sunday, 8 July 2018

Fan fiction: Santapriya Chakraborty

 (হোয়াটস‌অ্যাপ গ্রুপ "The sons of Ray" তে মেম্বারদের মধ্যে আলোচনা চলছে। বিষয় অবশ্য‌ই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে হট টপিক বিশ্বকাপ।)

Jatayu: কাল কেমন খেলা দেখলে তপেশ? গতবারের চ্যাম্পিয়ন এবার গ্রুপ স্টেজ থেকেই বিদায়, এ তো হরেন্ডাস ব্যাপার ভাই!
Topshe: ( 🤔একটা চিন্তাসূচক ইমোজি দিয়ে) তা যা বলেছেন! প্রথমে ইতালি নেদারল্যান্ডের বিশ্বকাপে সুযোগ না পাওয়া, তারপর গ্রুপ স্টেজ থেকে জার্মানদের বিদায়। অঘটনের পর অঘটন চলছে।
Mukul: আমি ব্রাজিলের ভক্ত।
Mandar Bose: (❤️লাভ রিয়াক্ট দিয়ে) আমিও তো বাবা ব্রেজিলের ভক্ত! যাবে নাকি আমার সাথে সেখানে? তোমায় রিও শহর ঘোরাবো।
Feluda:(😡 ‌অ্যাঙ্গরি ইমোজি দিয়ে) আপনি কতবার গেছেন মশাই রিও তে? এমন বলছেন যেন ধর্মতলা থেকে বাস ধরলেই রিও ডি জেনেরোতে পৌঁছে যাবেন!!
Topshe: 😁😀
Jatayu: 😀😁😂
Dr. Nokol Hajra: (😡রেগে গিয়ে) তোমার তো দেখছি পুরোনো অভ্যাস গেল না! সুযোগ পেলেই ফেকছো, ওনার ভাষণ টাষণ কি একটু বেশী শুনছ নাকি আজকাল?
Mandar Bose left the group.
Maganlal Mehhraj: আহা! মান্দার বাবু তো চটে গেলো। ওনাকে রিজয়েন করিয়ে দিন ফেলুবাবু।
Topshe added Mandar Bose.
Captain Spark: আমার কিন্তু মনে হচ্ছে এবার আর্জেন্টিনাই চ্যাম্পিয়ন। শেষমেষ যেভাবে প্রি কোয়ার্টারে কোয়ালিফাই করল, এককথায় ফাটাফাটি!👍
Jatayu: আচ্ছা আর্জেন্টিনা জিতলে ওদের ইডেন গার্ডেন্সে ডেকে সোনার চেন, মিষ্টি দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হবে নাকি? ওদের তো রং আবার নীলসাদা কিনা!!
Topshe: 😀😁
Mukul: 😀😁😂
Feluda: 😁 সাথে বোধহয় ওনার আঁকা ছবি বা কবিতাও দেওয়া হতে পারে। অনেকটা ঐ মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকে ফাস্ট সেকেন্ডদের মত।
Pulak Ghoshal: (😋😋) গুড সেন্স অব হিউমার প্রদোষবাবু। 👏👏
তবে আমার বাজি কিন্তু এবার বেলজিয়াম। লুকাকু আর এডেন হ্যাজার্ড ফর্মে থাকলে অন্য টিমগুলো দেখবেন স্রেফ হাওয়া হয়ে যাবে।💪💪
Gupi Gayen: ও বাঘা দা! বলি অনেকদিন তো বোরানো টেরানো হয় না, চল না রাশিয়া ঘুরে আসি। বিশ্বকাপটাও দেখা যাবে।
Bagha Bayen: তা যা বলেছ! যবে থেকে বুদ্ধিজীবি সেজে রাস্তায় মিছিলে হেঁটেছি, এতগুলো কমিটির চেয়ারম্যান বানিয়ে দিয়েছে যে বিদেশ তো দূর, রাজ্যের বাইরে যাওয়ার‌ও ফুরসত হয়নি।😖
Gupi Gayen: জুতো জোড়া তবে বের করি? 👞👞
Bagha Bayen: করেই ফেলো। দেখেই আসি চল বিশ্বকাপ।
Maganlal Meghraj: বাঘা বাবু আপনাদের জুতোর কিমত কেত? আমি ফিফটি থাউজ্যান্ড ডলার পর্যন্ত বিয়ার করতে পারি। বেঁচে দিন আমাকে ও স্যু!
Bagha Bayen: এগুলো বিক্রীর জন্য নয় মগনবাবু। ও চিন্তা ভুলে যান।
Gupi Gayen: 👍👍যা বলেছ বাঘা দা!
Feluda: মগনলাল বাবু এটা আপনার ব্যবসার জায়গা নয়। আর ওনারা এটা বেঁচবেন না, কাজেই ও চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। আর বেআইনি পথে গেলে ফেলু মিত্তির যে তার প্রধান‌ অন্তরায় সেটা আশা করি বুঝে গেছেন।🔫
Maganlal Meghraj: 😠😠
Jatayu: 👏👏
Tarinikhuro: বিশ্বকাপ দেখার সৌভাগ্য হয়েছে আমার একবার। ১৯৮৬ তে, মেক্সিকোতে। কোয়ার্টার ফাইনালে মারাদোনার সেই বিখ্যাত "হ্যান্ডস অভ গড" গোল আর ছজনকে কাটিয়ে "গোল অফ দ্যি সেঞ্চুরি" মাঠে বসে প্রত্যক্ষ করেছি আমি। দুঃখ একটাই, পেলের খেলা দেখা হল না!😢
Jatayu:🙏🙏🙏
Topse: 🙏🙏🙏
Feluda: 🙏🙏🙏
Jatayu: তা আমাদের দেশ কবে বিশ্বকাপ খেলবে? একবার নাকি সুযোগ পেয়েও খেলতে যায়নি, পায়ে বুট ছিলনা বলে। আবার কি কখন‌ও সুযোগ আসবে?
Sidhu jyatha: সেটা ১৯৫২ এর ঘটনা। তবে জুতো না থাকাটাও যেমন‌ একটা কারণ তেমন তদানীন্তন সরকার‌ও বিশ্বকাপে টিম পাঠানোর চেয়ে অলিম্পিকে টিম পাঠানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছিল। তাই খরচ বাঁচাতে বিমানভাড়া, হোটেল খরচা দিয়ে টিম পাঠায়নি। তখন কিন্তু আমরা ফুটবলে এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ শক্তি। অলিম্পিক্সে ১৯৫৬ তে ফোর্থ হয়েছিলাম। এশিয়ান গেমসেও গোল্ড পেয়ছি ১৯৫১, ১৯৬২ তে।
Topshe: আর কি তবে সুদিন ফিরবে না আমাদের ফুটবলে?
Feluda: এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে বলা শক্ত। তবে ক্রিকেট নির্ভরতা ছেড়ে ফুটবলে পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। চাই সঠিক পরিকল্পনা। দেশের ফুটবলটকে শুধু বাংলা, নর্থ ইস্ট আর সাউথের রাজ্যগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পুরো দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। একটা সিস্টেমের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে আমাদের। সাফল্য আসবেই। ঠিক যেমন গত দুবছরে আমরা ফিফা রাঙ্কিং ১৭৩ থেকে ৯৭ তে উঠেছি।
Sidhu jyatha: ঠিক বলেছ ফেলুচাঁদ। সঠিক পথে এগোলে সাফল্য আসবেই।
Jatayu: তবে কি পরের বার কাতারে বিশ্বকাপে ইন্ডিয়ার খেলা দেখতে গিয়ে একটা গল্প লিখব নাকি মশাই! নাম দেব "কাতারে কেরামতি"।😀😁
- শান্তপ্রিয়.

Thursday, 5 April 2018

Ball tampering by Santapriya Chakraborty

 'আপনি মশাই কোনদিন বল টেম্পারিং করেছেন? নাকি সেসবের কোনদিন দরকার পড়েনি?', লালমোহনবাবু প্রশ্নটা করে ফেললেন একপ্রকার অধৈর্য্য হয়েই। কারণ তোপসে ও ফেলুদা নিজেদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ এই বিষয়ে কথা বলছিল। বিষয় অবশ্য‌ই সাম্প্রতিক অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে সবচেয়ে কলঙ্কিত ঘটনা।

ফেলুদা বলল 'আমি ডানহাতি লেগস্পিনার ছিলাম। রিস্ট স্পিনার। তাই আমার কখন‌ও ওসবের দরকার পড়েনি। তবে পেস বোলারদের চুইংগাম দিয়ে বল ঘষতে দেখেছি কয়েকবার। কিন্তু সে জিনিস এখনকার মত এত নোংরা আকার ধারণ করেনি'। ফেলুদার গলায় আক্ষেপের সুর। কারণ ও স্কুলকলেজ লাইফে প্রচুর ক্রিকেটে খেলেছে। ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটির হয়ে অনেক ট্রফিও জিতেছে। খেলাটাকে ও ভালবাসে।
লালমোহনবাবু একটু তাচ্ছিল্যের সুরে বললেন ' জাতটাই এরকম মশাই। এরা জেতার জন্য যাকিছু করতে পারে। ভদ্রলোকর খেলাটাকে এরা ভদ্র রাখল ক‌ই?'
তোপসে বলল, 'সেটা কিছুটা ঠিক, তবে বল টেম্পারিং এর দোষে অনেক নামী দামী ক্রিকেটার‌ও অভিযুক্ত হয়েছেন। আমাদের শচীন তেন্ডুলকর তো একটা টেস্ট সাসপেন্ড‌ও হয়েছিলেন। মাইক আথারটন, শাহিদ আফ্রিদি, জেমস অ্যান্ডারসন বা ডুপ্লেসি, তালিকাটা দীর্ঘ।'
'তবে ছেলেটির প্রতিভার দিকটা কেউ দেখল না মশাই। যতটুকু খবর রাখি স্মিথ‌ই যে এই মুহূর্তে পৃথিবীর সেরা টেস্ট ব্যাটসম্যান তা জানি। ১ টা বছর নির্বাসন একটু বাড়াবাড়ি হয়ে গেল না!' বললেন ভদ্রলোক।
একটা চারমিনার ধরিয়ে ফেলুদা বলে চলল ' আসল ব্যাপারটা কি জানেন, আমরা আমাদের হিরোদের কখন‌ও খারাপ দেখতে পারিনা। সে খেলাতেই হোক, বিনোদনে হোক কিংবা রাজনীতিতে হোক। যেহেতু স্মিথ একজন পছন্দের খেলোয়াড় তাই তার ব্যানটা বাড়াবাড়ি মনে হচ্ছে। অথচ ক্রিকেটে নিয়ম বহির্ভূত কাজ সে আগেও করেছে, শাস্তিও পেয়েছে। এবারে তো একেবারে জেতার জন্য মরিয়া হয়ে ষড়যন্ত্রে সামিল। কিন্তু লোকজন তবু সহানুভূতির বন্যা ব‌ইয়ে দিচ্ছেন। ঠিক যেভাবে সলমন খানের হরিণ মেরে শাস্তি পেতে ২০ বছর লেগে যায় কারণ তিনি প্রভাবশালী, জনতা তার পাশে। সঞ্জয় দত্ত জেল থেকে বেল নিয়ে ১০০ কোটির সুপারহিট ছবি করে। রাজনৈতিক নেতা মন্ত্রীরা চুরি, ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত হয়েও ভোটে জেতে। সাজাপ্রাপ্ত জেলফেরত নেতার সভায় বক্তৃতা শুনতে লাখো মানুষ ভিড় করে'।
একটু থেমে বলল 'স্বভাব বদল করুন লালমোহনবাবু। অপরাধটা অপরাধ‌ই, সে যেই করূক। অপরাধের বিচার যেন ব্যক্তির অবস্থা বা প্রতিপত্তি, ক্ষমতা দেখে না করা হয়। সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলার ক্ষমতা সবার থাকে না।......কিছু বুঝলেন?'
লালমোহনবাবু কিছুটা উসখুস করে খানিক বাদে জবাব দিলেন 'বুঝেছি, স্মিথ ওয়ার্নারের ট্যালেন্ট একদিকে আর তাদের শাস্তি পাওয়া সম্পূর্ণ অন্যদিক। আফটার‌অল ক্রিকেট ইজ অ্যা জেন্টলম্যানস গেম।.....। সেখানে নো কমপ্রোমাইজ'।

Tuesday, 6 February 2018

Fan Fiction by Santapriya Chakraborty

 আচ্ছা মশাই! শাহজাহান, আরঙজেব হল গিয়ে মুঘল, আর এই খলজিরা তো তাদের বেশ কিছুটা আগে? তবে সুলতান কারা? দাস বংশের ব্যাপারটাই বা ঠিক কী? আর এই রাজপুত.....

লালমোহনবাবু আর‌ও একগুচ্ছ প্রশ্ন করতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু তাকে থামিয়ে ফেলুদা বলল 'আপনাকে মশাই আমি শুধু খলজি বংশের ইতিহাস আর সমকালীন রাজপুতদের শাসনকালটা একটু উল্টেপাল্টে দেখে আসতে বলেছিলাম। আর আপনি তো দেখছি সব ঘেঁটে ঘ বানিয়ে বসে আছেন!'
ব্যাপারটা হচ্ছে আমাদের আজ "পদ্মাবত" দেখতে যাওয়ার কথা থাকায় ফেলুদা লালমোহনবাবুকে দু'দিন আগে ইতিহাস ব‌ইটা একটু চোখ বুলিয়ে নিতে বলেছিল। ‌ও বলে, নতুন কিছু দেখার আগে বা নতুন জায়গায় যাওয়ার আগে সেটা সম্বন্ধে একটু পড়াশোনা করে নিলে ইন্টারেস্টটা একটু বেশী পাওয়া যায়। কিন্তু ভদ্রলোক সব তালগোল পাকিয়ে সিনেমাফেরত তার নিজের গাড়ীতে বসে একটার পর একটা প্রশ্ন করে চলেছেন।
তার জট ছাড়াতে ফেলুদা বলল ' মহম্মদ ঘুরীর মৃত্যুর পর ১২০৬ থেকে ১৫২৬ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত যে পাঁচটি বংশের দখলে দিল্লীর তখ্ত ছিল তাদেরকেই ‌একত্রে সুলতান বংশ বলে। ‌এগুলি হল মামুক, খলজি, তুঘলক, সৈয়দ ও লোদী বংশ। এই মামুক বংশের প্রতিষ্ঠাতা কুতুবদ্দীন আইবক ছিলেন একজন ক্রীতদাস। ছেলেবেলাতেই ইরানের বাজারে বিক্রী হ‌ওয়ার পর অনেক হাত ঘুরে অবশেষে মহম্মদ ঘুরীর কাছে আসেন এবং তার দাস হিসেবে কাজ করতে থাকেন। পরবর্তীকালে ঘুরীর মৃত্যুর পর দিল্লীর সিংহাসন দখল করেন। ক্রীতদাস থেকে দাস, আর তা থেকেই দাসবংশ। অর্থাৎ সুলতান রাজ্যত্বের এই মামুক বংশ‌ই দাস বংশ রুপে খ্যাত। আর মোঘল শাসনকালের সূচনা লোদী বংশের শেষ সুলতান ইব্রাহিম লোদীকে পানিপথের যুদ্ধে বাবর পরাজিত করার পর। এরপরের ইতিহাস আশা করি আপনার জানা?' - প্রশ্ন করল ফেলুদা।
লালমোহনবাবু হেসে বললেন 'তা জানা, মুঘল পিরিয়ডটা বরাবর‌ই আমার ফেবারিট। স্কুলে থাকতে "আলমগীর" নাটক করে ফাস্ট প্রাইজের মেডেল পেয়েছিলুম।' তারপর আমার দিকে চেয়ে বললেন ' তবে যাই বল ভাই তপেশ, এই খলজি চরিত্রটির মধ্যে একটা ইয়ে ইয়ে ব্যাপার আছে‌। এরকম হিংস্র, ভয়ানক,নিষ্ঠুর আবার খানিক উন্মাদ চরিত্র খুব বেশী নেই বোধহয় ইতিহাসে! আছে নাকি ফেলুবাবু?', জিগ্গেস করলেন ভদ্রলোক।
ফেলুদা একটা চারমিনার ধরিয়ে গাড়ীর কাঁচ নামিয়ে দুটো ধোয়ার রিং ছেড়ে বলল 'মুষ্কিলটা কোথায় জানেন? আপনারা কোন জিনিস একবার দেখেই সেটা যাচাই না করে একটা ধারণা নিজের মনে বানিয়ে নেন। এই ফিল্মের খলজী চরিত্রটির সাথে বাস্তব আলাউদ্দীন খলজীর বিস্তর ফারাক। পরিচালক মশাই ছবির স্বার্থে সুকৌশলে তাতে পরিবর্তন এনেছেন। সেটা খানিক গ্রহণযোগ্য হলেও শিক্ষিত মানুষজন সেটাকেই সর্বৈব সত্যি ধরে নেবে তা মানা যায় না। চরিত্রটিতে যে বেশকিছু ভাল দিক‌ও যে রয়েছে সেটা খলজি বংশের ইতিহাস পড়লে জানা যায়। তিনিই ভূ-ভারতে প্রথম রেশন ব্যবস্থা চালু করেন, বাজারদর নিয়ন্ত্রণ করার বন্দোবস্ত করেন। জমি জরিপ করে রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা করেন। তাছাড়া রাজ্যে সুশাসন গড়ে তুলতে মদ্যপান, জুয়া খেলা বন্ধ করেন তিনি। দিল্লীর সুলতানদের মধ্যে তিনিই প্রথম এক সুসংগঠিত সেনাবাহিনী গড়ে তোলেন। কাজেই এরকম এক শাসককে আপনি আড়াই ঘন্টার একটা সিনেমা দেখে চরিত্রায়ন করে ফেললেন লালমোহনবাবু! এটা কি আপনার মত একজন প্রখ্যাত সাহিত্যিকের শোভা পায়?'
ভদ্রলোক জিভ কেটে বললেন 'কি করব মশাই! চোখের সামনে যা দেখব, বা যা দেখানো হবে সেটাকেই তো সত্যি বলে ভাবব। আমাদের আর দোষ কী বলুন! ইতিহাসের খোঁজ অত কে রাখে?'
ফেলুদা জবাবে বলল 'কিছু খোঁজ রাখা ভাল। যদি রাখতেন তবে বাগবাজারে মোহন ময়রার দোকান থেকে সিঙারা কিনে বেরানোর সময় তোপসেকে যে আপনি জিগ্গেস করলেন এ অঞ্চলে কবে বাঘ পাওয়া যেত, সেটা আর করতেন না। অর্থাৎ আপনার ধারণা ঐ অঞ্চলে বাঘ ছিল বলেই বাগবাজার নাম।'
কথার রেশ ধরে আমি বললাম ঐ অঞ্চলে ইংরেজ ব্যবসায়ী পেরিন সাহেবের এক বিশাল বাগান ছিল আঠারো শতকের গোড়ার দিকে। সেই বাগান কিংবা বাগিচা থেকেই বাগবাজার নাম, এর সাথে বাঘের কোন সম্পর্ক নেই।
কথা শুনে ভদ্রলোক খানিক লজ্জিত হয়ে বললেন 'যেই শহরে থাকি তা সম্বন্ধেই কত কম জানি মশাই। তাই তো ভাবি, কলিকাতা হচ্ছে ব্রিটীশদের সাধের শহর, ভারতের পুরানো রাজধানী। সেখানে কি আর বাঘ থাকে! হেঁ হেঁ হেঁ..'
ফেলুদা বলল 'আপনি আবার গোল্লা পেলেন লালমোহনবাবু। আপনার ‌জ্ঞানের ভান্ডার এক্ষেত্রেও কম পড়ল। বাঘ ছিল, এ শহরে সেদিন‌ও বাঘ ছিল। জোব চার্নক আসার বেশ কিছু বছর পরেও এ শহরে বাঘ ছিল। এখনকার চৌরঙ্গী তখন ঘন জঙ্গল, গোবিন্দপুর মানে আজকের ধর্মতলা কিংবা কালিঘাট, ভবানীপুর চত্বরেও বাঘের হানায় মানুষের প্রাণ যেত হামেশাই। আজকের কলকাতা তখন‌ কোথায়!'
লালমোহনবাবুর মুখ হাঁ দেখে ফেলুদাই বলে উঠল 'জানুন লালমোহনবাবু, জানুন। নতুন জিনিস জানুন। আজ থেকে নতুন জিনিস জানা প্র্যাকটিস করুন।'
(তোপসের কলমে)
...শান্তপ্রিয়

Friday, 8 September 2017

Fan fiction: Santapriya Chakraborty

 গোদরেজের নতুন সোফাটার ওপর বসে বেশ একটা গদগদ ভাব নিয়ে লালমোহনবাবু বললেন 'আপনি মশাই অনেকদিন বাঁচবেন। একটু আগেই আপনার কথা বলছিলুম আমার চাকরটিকে। কতদিন যাওয়া হচ্চে না ঐ আপনাদের তল্লাটে। আর তার একটু পরেই আপনি এসে হাজির।'

সব শুনে ফেলুদা একটু রসিকতার ধাঁচে বলল ' হ্যাঁ, আপনাকে না দেখতে পেয়ে রজনী সেন রোডের প্রতিটা ল্যাম্পপোস্টগুলো পর্যন্ত জটায়ুর অভাব বোধ করছিল। আর আজ আপনি আমার কথা ভাবলেন, আমি এসে হাজির আমার ভাইটিকে নিয়ে আপনার বাড়িতে। একে টেলিপ্যাথি ছাড়া আর কি বলবেন??'
লালমোহনবাবু বেশ জোড়ে একটা হাঁচি দিয়ে বললেন 'শুধুই কি টেলিপ্যাথি মশাই! মনের টান টা অনুভব করলেন না?? এত বছরের সম্পর্ক, তার তো একটা জোড় থাকবেই। কি বল ভাই তপেস?'
আমি সম্মতি জানিয়ে বললাম ' তা তো বটেই। তা আপনার শরীর এখন কেমন? জ্বর তো আপনাকে খুব একটা কাহিল করতে পারেনি বলেই মনে হচ্ছে।'
বেশ একটা হামবড়া ভাব দেখিয়ে বললেন 'হুর! এসব ছুটকো ছাটকা সর্দি কাশি জ্বর
কি এ শর্মা কে অত সহজে কাত করতে পারে!! প্রখর রুদ্র যদি ছ'ছটা গুলি খেয়ে তার পরক্ষণেই উঠে দাড়িয়ে ফাইট করতে পারে, তবে তার স্রষ্টা হয়ে আমারও যে একটা স্পেশাল ক্ষমতা থাকবে না সেটা কি হয়??'
এরপর লালমোহনবাবু ওর চাকরটিকে ডেকে তিনকাপ চা আর সিঙাড়া দিতে বললেন। তারপর নিজের নতুন কেনা স্মার্টফোনটা দেখিয়ে জানতে চাইলেন কেমন হয়েছে। ফেলুদা দেখে জিজ্ঞাসা করল 'এই যন্ত্রটি আবার কবে কিনলেন? আপনি তো ল্যাপটপেই আপনার প্রয়োজনীয় কাজ সারতেন। তা হঠাৎ এটির প্রয়োজন পড়ল কেন??'
লালমোহনবাবু একটু কুন্ঠাভাব দেখিয়ে বললেন ' আসলে ইদানীং ছবি তোলার শখটা খুব বেড়েছে আর কি । সবসময় তো আর ক্যামেরা নিয়ে বেরোনো সম্ভব হয় না। তাছাড়া বাড়ির বাইরে সোশাল সাইটগুলি ব্যবহার করতে গেলে স্মার্টফোন টা থাকা যে আবশ্যক'।
ফেলুদা সম্মতিসূচক মাথা নেড়ে টেবিলের উপর শ্রীনাথের রেখে যাওয়া চায়ের পেয়ালাটা তুলে নিয়ে বলল 'তা ঠিক, কিন্তু আপনি এতদিন আপনার শরীর খারাপের খবরটা জানান নি কেন? এমনকি আমার ফোনগুলি পর্যন্ত ঠিকঠাক রিসিভ করতেন না! আপনার চাকরটির সাথে দেখা হওয়ায় ওই কথাটি বলল, আর আপনি ইদানীং বাড়ি থেকেও বের হচ্ছে না সেটাও জানাল।
লালমোহনবাবু বললেন 'ওসব কিছু না। আসলে ক'দিন নতুন লেখাটা নিয়ে একটু বিজি ছিলাম আরকি! হেঁ হেঁ হেঁ'।
ফেলুদা কোন উত্তর না দিয়ে একদৃষ্টে লালমোহনবাবুর দিকে চেয়ে রইলেন। তারপর হঠাৎ একলাফ দিয়ে উঠে ভদ্রলোকের ফুলহাতা পাঞ্জাবিটার বাঁহাতা টা এক ঝটকায় টেনে ছিঁড়ে ফেলল। অতর্কিত আক্রমণে লালমোহনবাবুও কোন বাধা না দেওয়ার সুযোগ না পেয়ে হতভম্ব হয়ে গেলেন।
কিন্তু তার ফলে যেটা আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠল তাতে আমার চক্ষু ছানাবড়া হয়ে গেল। ফেলুদা গম্ভীর কন্ঠে বলল 'নিজেকে ঘরে গুটিয়ে রাখা, কারও সাথে যোগাযোগ না রাখা, জ্বরের ভান করে বাড়িতে লুকিয়ে থাকা, এই গরমে বাড়ির মধ্যে ফুলহাতা পাঞ্জাবি পড়ে থাকা, এগুলি কোন স্বাভাবিক চালচলনের লক্ষ্মণ নয় লালমোহনবাবু। গতকাল আপনার চাকরটির সাথে রাস্তায় না দেখা হলে আমি ভাবতেই পারতাম না যে স্বনামধন্য রহস্য রোমাঞ্চ সিরিজ প্রখর রুদ্রের সৃষ্টিকর্তা জটায়ুর মাথার ব্যামো দেখা দিয়েছে'।
লালমোহনবাবু কোন কথার উত্তর না দিয়ে চুপচাপ ঠায় দাঁড়িয়ে রইলেন। তখনও ভদ্রলোকের ছেঁড়া পাঞ্জাবির হাতাটা থেকে একটা হাতে আঁকা "নীল তিমি" উঁকি মারছে......
...শান্তপ্রিয়    

Tuesday, 8 August 2017

Fan fiction: Santapriya Chakraborty

গোদরেজের নতুন সোফাটার ওপর বসে বেশ একটা গদগদ ভাব নিয়ে লালমোহনবাবু বললেন 'আপনি মশাই অনেকদিন বাঁচবেন। একটু আগেই আপনার কথা বলছিলুম আমার চাকরটিকে। কতদিন যাওয়া হচ্চে না ঐ আপনাদের তল্লাটে। আর তার একটু পরেই আপনি এসে হাজির।'

সব শুনে ফেলুদা একটু রসিকতার ধাঁচে বলল ' হ্যাঁ, আপনাকে না দেখতে পেয়ে রজনী সেন রোডের প্রতিটা ল্যাম্পপোস্টগুলো পর্যন্ত জটায়ুর অভাব বোধ করছিল। আর আজ আপনি আমার কথা ভাবলেন, আমি এসে হাজির আমার ভাইটিকে নিয়ে আপনার বাড়িতে। একে টেলিপ্যাথি ছাড়া আর কি বলবেন??'
লালমোহনবাবু বেশ জোড়ে একটা হাঁচি দিয়ে বললেন 'শুধুই কি টেলিপ্যাথি মশাই! মনের টান টা অনুভব করলেন না?? এত বছরের সম্পর্ক, তার তো একটা জোড় থাকবেই। কি বল ভাই তপেস?'
আমি সম্মতি জানিয়ে বললাম ' তা তো বটেই। তা আপনার শরীর এখন কেমন? জ্বর তো আপনাকে খুব একটা কাহিল করতে পারেনি বলেই মনে হচ্ছে।'

বেশ একটা হামবড়া ভাব দেখিয়ে বললেন 'হুর! এসব ছুটকো ছাটকা সর্দি কাশি জ্বর কি এ শর্মা কে অত সহজে কাত করতে পারে!! প্রখর রুদ্র যদি ছ'ছটা গুলি খেয়ে তার পরক্ষণেই উঠে দাড়িয়ে ফাইট করতে পারে, তবে তার স্রষ্টা হয়ে আমারও যে একটা স্পেশাল ক্ষমতা থাকবে না সেটা কি হয়??'

এরপর লালমোহনবাবু ওর চাকরটিকে ডেকে তিনকাপ চা আর সিঙাড়া দিতে বললেন। তারপর নিজের নতুন কেনা স্মার্টফোনটা দেখিয়ে জানতে চাইলেন কেমন হয়েছে। ফেলুদা দেখে জিজ্ঞাসা করল 'এই যন্ত্রটি আবার কবে কিনলেন? আপনি তো ল্যাপটপেই আপনার প্রয়োজনীয় কাজ সারতেন। তা হঠাৎ এটির প্রয়োজন পড়ল কেন??'

লালমোহনবাবু একটু কুন্ঠাভাব দেখিয়ে বললেন ' আসলে ইদানীং ছবি তোলার শখটা খুব বেড়েছে আর কি । সবসময় তো আর ক্যামেরা নিয়ে বেরোনো সম্ভব হয় না। তাছাড়া বাড়ির বাইরে সোশাল সাইটগুলি ব্যবহার করতে গেলে স্মার্টফোন টা থাকা যে আবশ্যক'।

ফেলুদা সম্মতিসূচক মাথা নেড়ে টেবিলের উপর শ্রীনাথের রেখে যাওয়া চায়ের পেয়ালাটা তুলে নিয়ে বলল 'তা ঠিক, কিন্তু আপনি এতদিন আপনার শরীর খারাপের খবরটা জানান নি কেন? এমনকি আমার ফোনগুলি পর্যন্ত ঠিকঠাক রিসিভ করতেন না! আপনার চাকরটির সাথে দেখা হওয়ায় ওই কথাটি বলল, আর আপনি ইদানীং বাড়ি থেকেও বের হচ্ছে না সেটাও জানাল।

লালমোহনবাবু বললেন 'ওসব কিছু না। আসলে ক'দিন নতুন লেখাটা নিয়ে একটু বিজি ছিলাম আরকি! হেঁ হেঁ হেঁ'।

ফেলুদা কোন উত্তর না দিয়ে একদৃষ্টে লালমোহনবাবুর দিকে চেয়ে রইলেন। তারপর হঠাৎ একলাফ দিয়ে উঠে ভদ্রলোকের ফুলহাতা পাঞ্জাবিটার বাঁহাতা টা এক ঝটকায় টেনে ছিঁড়ে ফেলল। অতর্কিত আক্রমণে লালমোহনবাবুও কোন বাধা না দেওয়ার সুযোগ না পেয়ে হতভম্ব হয়ে গেলেন।

কিন্তু তার ফলে যেটা আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠল তাতে আমার চক্ষু ছানাবড়া হয়ে গেল। ফেলুদা গম্ভীর কন্ঠে বলল 'নিজেকে ঘরে গুটিয়ে রাখা, কারও সাথে যোগাযোগ না রাখা, জ্বরের ভান করে বাড়িতে লুকিয়ে থাকা, এই গরমে বাড়ির মধ্যে ফুলহাতা পাঞ্জাবি পড়ে থাকা, এগুলি কোন স্বাভাবিক চালচলনের লক্ষ্মণ নয় লালমোহনবাবু। গতকাল আপনার চাকরটির সাথে রাস্তায় না দেখা হলে আমি ভাবতেই পারতাম না যে স্বনামধন্য রহস্য রোমাঞ্চ সিরিজ প্রখর রুদ্রের সৃষ্টিকর্তা জটায়ুর মাথার ব্যামো দেখা দিয়েছে'।

লালমোহনবাবু কোন কথার উত্তর না দিয়ে চুপচাপ ঠায় দাঁড়িয়ে রইলেন। তখনও ভদ্রলোকের ছেঁড়া পাঞ্জাবির হাতাটা থেকে একটা হাতে আঁকা "নীল তিমি" উঁকি মারছে......

- শান্তপ্রিয়

Note: this is my personal blog. The copyright of the story lies solely and entirely with the author.

Monday, 26 June 2017

Fan fiction: Santapriya Chakraborty

 ঘড়ির কাঁটা ছ'টার ঘরে প্রবেশ করতেই ফেলুদা আর একবার তাড়া দিয়ে বলল 'তোপসে রেডি হয়ে নে শিগগির, লালমোহনবাবু এলেন বলে!' ফেলুদা জানিনা কিভাবে কোথাও বেরোনোর তাড়াহুড়ো থাকলে দু মিনিটেই রেডি হয়ে যায়। আমার কিন্তু খানিক সময় লেগেই যায়।

বললাম 'আজ একটা বিশেষ দিন, এতসব বিখ্যাত লোকজন আসবে, একটু ভাল করে না ড্রেস করলে হয়!' আমার কথা শেষ হতে না হতেই বাইরের খোলা দরজাটা দিয়ে বৈঠকখানায় ঢুকেই লালমোহনবাবু বলে উঠলেন 'ঠিক বলেছ ভায়া। আজ যে আমার পরম সৌভাগ্যের দিন। এতজন বিশিষ্ট মানুষের সান্নিধ্য পাব, আমার তো ভেবেই থ্রিলিং লাগছে! তাইতো আলমারি খুলে আজ আমার পিতৃদেবের বিবাহের পাঞ্জাবিটা নামিয়ে পড়লুম। কেমন লাগছে ভাইইই?'
ফেলুদাই বলে উঠল 'বেড়ে লাগছে। মাঞ্জাটা ভালই দিয়েছেন। তা পারফিউমটা কি বিদেশি?' লালমোহন বাবু বললেন 'ইয়েস স্যার! আমার পাড়ায় থাকে ন্যাপলা, সেই জার্মানি থেকে এনে দিয়েচে। আমার হাতে দিয়ে বললে স্বয়ং হিটলার এটি মাখতেন। তোমার জন্য নিয়ে এয়েচি কাকা। আজ সিল ভাঙলুম প্যাকেটটার। আসলে ঐসব মানুষজনের সামনে একটু পার্সোনালিটি ডেভলপমেন্ট দরকার কিনা!, হেঁ হেঁ হেঁ।' ফেলুদা বলল 'পার্সোনালিটি ডেভলপ্ড হয় না লালমোহনবাবু , ওটা নিজে থেকেই আসে। আর আপনি আজ অন্ততঃ ঐ ভুলভাল ইংরেজী বলে পার্সোনালিটি আনার চেষ্টা করবেন না।'
"যথা আজ্ঞা স্যার' বলেই লালমোহনবাবু পাঞ্জাবির হাতাটা তুলে জাপানি হাতঘড়িটা দেখলেন। বললেন 'উই হ্যাভ ফর্টি ফাইভ মিনিটস্ ইন আওয়ার হ্যান্ড। পার্টি তো সন্ধে সাতটায়। যাওয়ার পথে একটা ফুলের তোড়া নেব ভাবছিলুম মশাই। আর সাথে নকুড়ের সন্দেশ।'
জটায়ুর মাদ্রাজী সবুজ এম্বাসডারটা চৌরঙ্গী রোডে পড়তেই হরিপদবাবু বললেন 'প্রায় পৌঁছে গেছি স্যার'। 1/1, বিশপ লেফ্রয় রোড, বাড়িটার সামনে দাঁড়িয়েই লালমোহনবাবু বললেন 'গায়ে কাঁটা দিচ্চে মশাই। ওরকম একটা মানুষের সাক্ষাৎ কিছুক্ষণের মধ্যেই পাব। উফ্! সত্যজিৎ রায় বলে কথা!।'
আমারও বেশ উত্তেজনা হচ্ছিল এত বড় একজন মানুষের বাড়িতে এসে। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের "লিজিয়ঁ দা অনর" সম্মান পাওয়ার সুবাদেই আজ এই পার্টির আয়োজন করেছেন স্বয়ং মানিকবাবু। আর তার উদ্যোক্তা তাঁর পত্নী বিজয়া রায়। ফেলুদার সাথে আলাপ থাকলেও আমি বা লালমোহনবাবু কেউই মানিকবাবুর সাথে পরিচিত নই। তাই বোধহয় আমরা একটু নার্ভাস ছিলাম।
আমন্ত্রিতদের তালিকায় সিনেমাজগতের কিছু বিশিষ্ট মানুষের পাশাপাশি আমাদের সিধু জ্যাঠা ও তারিণীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে তারিণীখুড়োও ছিলেন। গিরিডি থেকে প্রফেসর শঙ্কুও এসছেন দেখলাম। আর সৌমিত্রবাবু তো প্রধান অতিথি হিসেবে রয়েছেনই।
কিছুক্ষণ পর মানিকবাবু এসে ফেলুদার পিঠ চাপড়ে দিয়ে বললেন 'বেশ কাজ করছ হে তুমি আজকাল। খবরটবর আমি পাই তোমার ঐ সিধুজ্যাঠার থেকে। এগিয়ে যাও। বাঙালীর মুখ উজ্জ্বল কর।' ফেলুদা অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বলল 'সবই আপনার থেকেই শেখা। আপনি না থাকলে আমরা আর কোথায়!'
লালমোহনবাবুর উদ্দেশ্যে বললেন 'জটায়ুর ইদানীং লেখার কাজ কেমন চলছে? বোর্নিওর বিভীষিকার পর আর কিছু লিখলে নাকি হে?' ভদ্রলোক হাসিমুখে উত্তর দিলেন ' ইয়েস স্যার লিখেছি। আরও দু'টো। "কারাকোরামে হারাকিরি" আর "ম্যানহাটানে ম্যানইটার"। দুটোই বেস্ট সেলার স্যার।' মানিকবাবু হেসে বললেন 'চালিয়ে যাও'।
সৌমিত্রবাবুর সাথেও আমাদের আলাপ হল। অত্যন্ত অমায়িক ভদ্রলোক। ফেলুদাকে দেখে বললেন 'অল্প বয়সে আমার ঠিক তোমার চেহারা ছিল। মুখেরও অদ্ভূত মিল।' তাঁর ফিল্মি কেরিয়ারের নানা গল্পও শোনালেন। নতুন এই ফরাসি পুরস্কার পেয়ে তাঁর অনুভূতির কথা তুলে ধরলেন সকলের সামনে।
একে একে তারিণীখুড়ো থেকে শুরু করে প্রফেসর শঙ্কু এবং উপস্থিত সকলের সাথেই আলাপ পরিচয় হল।
তাল কাটল অন্য একটি ঘটনায়। আটটা নাগাদ সাদা ধুতি, জওহর কোট পরা এক ভদ্রলোক ঘরে ঢুকতেই। তাকে দেখেই সর্বসমক্ষে ভিরমি খেলেন লালমোহনবাবু। ঐ ভদ্রলোক আর কেউ নন, আমাদের বহুপরিচিত মগনলাল মেঘরাজ। তাকে দেখে আমিও বেশ চমকে উঠেছিলাম। পরে শুনলাম আমন্ত্রিতদের তালিকায় ইনিও আছেন।
জটায়ুর জ্ঞান ফিরলে মগনলাল বললেন ' কি আঙ্কল্! হামাকে দেখেই আনকন্সাস হয়ে গেলেন? হামি এখন ট্রু বিজনেসম্যান, নো গলত্ ধান্দা। রিয়েল এস্টেট। প্রপার হোয়াইট কলার ব্যবসা। কোন ভয় নাই আপনার।'
লালমোহনবাবু বললেন ' ইয়ে মানে দুপুরে রোদে একটু ঘোরাঘুরি করেচি তো, তাই মাথাটা ঘুরে গেল আরকি!'
ফেলুদার সঙ্গে মগনলালের কথাবার্তায় দেখলাম উভয়পক্ষেরই কিছু তীক্ষ্ণ বুদ্ধিদীপ্ত বাক্য বিনিময়।
রাতে ডিনার টাইমে অপুর সংসার আর সোনার কেল্লা এই দুটো ছবির কিছু অদেখা ক্লিপিংস দেখানোর আয়োজন করা হয়েছিল। তা বেশ ইন্টারেস্টিং আর মজাদার ছিল। রাত ন'টা নাগাদ সৌমিত্রবাবুরই একটা থ্যাঙ্কফুল স্পিচ দিয়ে পার্টি শেষ হল।
আমি আর ফেলুদা ট্যাক্সি ধরে ফিরেছিলাম। কারণ লালমোহনবাবু ওখান থেকেই তার গড়পারের বাড়ীতে ফিরেছিলেন। আর যাওয়ার সময় বলে গেলেন কাল বিকেলে আসবেন আমাদের বাড়ীতে আড্ডা দিতে। বললেন 'আজকের হ্যাংওভারটা কাটাতে একটু সময় লাগবে মশাই।'
সকালে ফেলুদার ডাকাডাকিতে ঘুম ভাঙল। দেখি সাড়ে সাতটা বাজে। কেন এত দেরি হল ঘুম ভাঙতে? তবে কি কাল রাতে কোল্ড ড্রিংকে মগনলাল কিছু মিশিয়ে টিশিয়ে দিয়েছিল নাকি! ফেলুদাকে জিজ্ঞেস করতেই মাথায় গাট্টা মেরে বলল 'আজকাল গাঁজা টাজা টেনে ঘুমাচ্ছিস নাকি রে বোকচোন্দর?? ভোরবেলা থেকেই দেখছি ঘুমের মধ্যে কিসব বিড়বিড় করে চলেছিস।'
গাট্টাটা খেয়ে তন্দ্রাভাবটা কাটতে মনে পড়ল আমার তো দু'দিন আগে পা মচকেছে। আমি তো গত পরশু ও কাল বিছানাতেই শোয়া। তবে কি আমি......................অ্যাঁ!!!!
(তোপসের কলমে)
...শান্তপ্রিয়