'আপনি মশাই কোনদিন বল টেম্পারিং করেছেন? নাকি সেসবের কোনদিন দরকার পড়েনি?', লালমোহনবাবু প্রশ্নটা করে ফেললেন একপ্রকার অধৈর্য্য হয়েই। কারণ তোপসে ও ফেলুদা নিজেদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ এই বিষয়ে কথা বলছিল। বিষয় অবশ্যই সাম্প্রতিক অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে সবচেয়ে কলঙ্কিত ঘটনা।
Please note this is my personal blog. The objective of this personal blog is to have an online archive of all the fan fiction stories / pastiches that’s been written about Feluda for my personal consumption on the go. Therefore, searching for this blog via search engines has been turned off. If you have reached my blog, please be aware that I do not claim any copyright to any of the content here. The copyright lies solely and wholly with the author/creators/other appropriate holders etc.
Thursday, 5 April 2018
Ball tampering by Santapriya Chakraborty
ফেলুদা বলল 'আমি ডানহাতি লেগস্পিনার ছিলাম। রিস্ট স্পিনার। তাই আমার কখনও ওসবের দরকার পড়েনি। তবে পেস বোলারদের চুইংগাম দিয়ে বল ঘষতে দেখেছি কয়েকবার। কিন্তু সে জিনিস এখনকার মত এত নোংরা আকার ধারণ করেনি'। ফেলুদার গলায় আক্ষেপের সুর। কারণ ও স্কুলকলেজ লাইফে প্রচুর ক্রিকেটে খেলেছে। ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটির হয়ে অনেক ট্রফিও জিতেছে। খেলাটাকে ও ভালবাসে।
লালমোহনবাবু একটু তাচ্ছিল্যের সুরে বললেন ' জাতটাই এরকম মশাই। এরা জেতার জন্য যাকিছু করতে পারে। ভদ্রলোকর খেলাটাকে এরা ভদ্র রাখল কই?'
তোপসে বলল, 'সেটা কিছুটা ঠিক, তবে বল টেম্পারিং এর দোষে অনেক নামী দামী ক্রিকেটারও অভিযুক্ত হয়েছেন। আমাদের শচীন তেন্ডুলকর তো একটা টেস্ট সাসপেন্ডও হয়েছিলেন। মাইক আথারটন, শাহিদ আফ্রিদি, জেমস অ্যান্ডারসন বা ডুপ্লেসি, তালিকাটা দীর্ঘ।'
'তবে ছেলেটির প্রতিভার দিকটা কেউ দেখল না মশাই। যতটুকু খবর রাখি স্মিথই যে এই মুহূর্তে পৃথিবীর সেরা টেস্ট ব্যাটসম্যান তা জানি। ১ টা বছর নির্বাসন একটু বাড়াবাড়ি হয়ে গেল না!' বললেন ভদ্রলোক।
একটা চারমিনার ধরিয়ে ফেলুদা বলে চলল ' আসল ব্যাপারটা কি জানেন, আমরা আমাদের হিরোদের কখনও খারাপ দেখতে পারিনা। সে খেলাতেই হোক, বিনোদনে হোক কিংবা রাজনীতিতে হোক। যেহেতু স্মিথ একজন পছন্দের খেলোয়াড় তাই তার ব্যানটা বাড়াবাড়ি মনে হচ্ছে। অথচ ক্রিকেটে নিয়ম বহির্ভূত কাজ সে আগেও করেছে, শাস্তিও পেয়েছে। এবারে তো একেবারে জেতার জন্য মরিয়া হয়ে ষড়যন্ত্রে সামিল। কিন্তু লোকজন তবু সহানুভূতির বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন। ঠিক যেভাবে সলমন খানের হরিণ মেরে শাস্তি পেতে ২০ বছর লেগে যায় কারণ তিনি প্রভাবশালী, জনতা তার পাশে। সঞ্জয় দত্ত জেল থেকে বেল নিয়ে ১০০ কোটির সুপারহিট ছবি করে। রাজনৈতিক নেতা মন্ত্রীরা চুরি, ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত হয়েও ভোটে জেতে। সাজাপ্রাপ্ত জেলফেরত নেতার সভায় বক্তৃতা শুনতে লাখো মানুষ ভিড় করে'।
একটু থেমে বলল 'স্বভাব বদল করুন লালমোহনবাবু। অপরাধটা অপরাধই, সে যেই করূক। অপরাধের বিচার যেন ব্যক্তির অবস্থা বা প্রতিপত্তি, ক্ষমতা দেখে না করা হয়। সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলার ক্ষমতা সবার থাকে না।......কিছু বুঝলেন?'
লালমোহনবাবু কিছুটা উসখুস করে খানিক বাদে জবাব দিলেন 'বুঝেছি, স্মিথ ওয়ার্নারের ট্যালেন্ট একদিকে আর তাদের শাস্তি পাওয়া সম্পূর্ণ অন্যদিক। আফটারঅল ক্রিকেট ইজ অ্যা জেন্টলম্যানস গেম।.....। সেখানে নো কমপ্রোমাইজ'।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment