Friday, 27 April 2018

Byomkesh meets Feluda by Debraj Goswami

ব্যোমকেশ ও ফেলুদা , প্রথম আলাপ

১৯৬৭ সাল । ফেলুদার গোয়েন্দাগিরির একেবারে প্রথম যুগ । শ্যামপুকুরের কৈলাস চৌধুরীর কেসটার সমাধান করেছে ফেলুদা মাত্র কদিন আগেই ।তখন আমরা তারা রোডের বাড়িতে থাকি ।সকালের দিকে মাঝে মাঝে লেকে হাঁটতে যাই । তারপর একটা বেঞ্চিতে গিয়ে বসি । সিধু জ্যাঠা এসে পড়েন ইতিমধ্যে । ঘণ্টা খানেক আড্ডা দিয়ে বাড়ি ফিরে আসি । মাত্র মাস তিনেক আগেই এই লেকের ধারটা ছিল জনশূন্য । পর পর বেশ কয়েকটা খুনের ঘটনা ঘটেছিল তখন । তারমধ্যে একটা তো একেবারে এই বেঞ্চিগুলোরই একটার ওপরে । একজন দিনমজুর ঘুমচ্ছিল । তার পিঠের বাঁ দিকে শজারুর কাঁটা ফুটিয়ে দিয়ে তাকে খুন করা হয় । খবরটা কাগজে পড়ে ফেলুদা আমাকে সঙ্গে নিয়ে খুনের যায়গাটা দেখতে গিয়েছিল । ওই বেঞ্চির কাছাকাছি ঘাসের মধ্যে একটা পোড়া সিগারেট খুঁজে পেয়েছিল ফেলুদা । সেটা দেখে ও বলেছিল , যদি সিগারেটটা খুনি খেয়ে থাকে তাহলে দেখবি লোকটা বেজায় কৃপণ ।

কি করে বুঝলে ?

দ্যাখ যারা নিয়মত সিগারেট খায় , কতটা খাওয়ার পর সেটা ফেলে দেবে তার একটা নিজস্ব হিসেব থাকে । যদি অ্যাশট্রেতে পোড়া সিগারেটগুলো লক্ষ করিস দেখবি সেগুলোর মাপও মোটামুটি এক । কিন্তু যারা মাঝেমাঝে খায় বা খুব কম খায় এবং একটু হিসেবি তারা দেখবি চট করে ফেলে দেয় না , পারলে প্রায় ফিল্টার পর্যন্ত টেনে শেষ করে, তারপর ফেলে । এখানেও তাই। যায়গাটা কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস হলে অন্যরকম ভাবতাম , কিন্তু ফিল্টারে পানের পিক লেগে রয়েছে । কাজেই যে খেয়েছে সে হয় কৃপণ অথবা তার অর্থনৈতিক অবস্থা খুব একটা ভাল নয় ।

এর পরেও আর একটা খুনের ঘটনা ঘটেছিল একই ভাবে । তারপর কাগজ পড়েই জানতে পারি খুনি ধরা পড়েছে । খুনি একজন গায়ক , নাম প্রবাল । আমরাও রেডিওতে তার গান মাঝে মাঝে শুনেছি । তার সম্পর্কে যে বর্ণনা বেরিয়েছিল সেটা ফেলুদার অনুমানের সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছিল । ও কিছু বলে নি , শুধু একপেশে হাসিটা হেসেছিল । আমি জানি এই কেসটা ওর হাতে এলে ও এটার সমাধান অনায়াসেই করতে পারত । কিন্তু এই কেসটার সঙ্গে একজন নামকরা ব্যাবসায়ির পারিবারিক ঘটনা জড়িত ছিল । তারা বিখ্যাত ব্যোমকেশ বক্সিকে কাজের ভার দিয়েছিল এবং উনিও ওঁর স্বাভাবিক দক্ষতায় খুনিকে ধরে দেন । খবরটা বেশ বড় করে বেরিয়েছিল কাগজে ।

এর কিছুদিন পরে আমরা লেকের ধারে হাঁটছি , এখন যায়গাটা আবার আগের মতই জনপ্রিয় , কারন শজারুর কাঁটার খুনি ধরা পড়েছে , ফেলুদা একজনকে দেখে দাঁড়িয়ে পড়ল । বছর পাঞ্চান্ন বয়েসের সাদা ধুতিপাঞ্জাবি পরা এক ভদ্রলোক । উন্নত নাক , চোখে একটা মোটা চশমা , শার্প চেহারা , কানের পাশের দিকের চুলে অল্প পাক ধরেছে , কিন্তু চামড়া টানটান । লেকের দিকে মুখকরে একটা বেঞ্চিতে বসে আছেন । ফেলুদা ওঁর দিকে এগিয়ে গেল ।

নমস্কার , আপনি কি ব্যোমকেশ বাবু ?

আজ্ঞে হ্যাঁ , প্রতি নমস্কার করে বললেন ভদ্রলোক ।

আমার নাম প্রদোষ চন্দ্র মিত্র , আমি কাছেই তারা রোডে থাকি ।

ব্যোমকেশ বাবুর ভ্রু কুঁচকে গেল । প্রদোষ মিত্তির । মানে আপনার নামই তো ফেলু ? আপনার আর আমার পেশা তো একই তাইনা ? আপনি তো সম্প্রতি কৈলাস বাবুর কেসটা সলভ করেছেন ?

আজ্ঞে হ্যাঁ , আমাকে আপনি বলবেন না । আমি বয়েসে আপনার থেকে অনেকটাই ছোট ।

বেশ বেশ ,তা তুমি তো বেশ বুদ্ধিমান ছেলে ।

কিন্তু কৈলাসবাবুর কেসটা তো কাগজে বেরোয় নি । আপনি কি করে জানলেন ব্যাপারটা ?
ব্যোমকেশ বাবু আমাদের ওঁর পাশে বসার ইশারা করে একটু মুচকি হেসে বললেন সেই ব্লু বেরিলের কেস তো ? আচ্ছা তুমি তো আমাকে চেন , খবর রাখো , আন্দাজ কর দেখি কিভাবে আমি খবরটা পেলাম ।

ফেলুদা একটু ভেবে বলল , আচ্ছা আপনাদের একটা বইয়ের ব্যাবসা আছে না , কলেজ স্ট্রীটে । অজিতবাবু সেটার দেখাশোনা করেন । কৈলাস বাবুর লেখা শিকারের বইও বইপাড়া থেকেই ছেপে বেরোয় । মানে ওঁর ওই পাড়ায় যাতায়াত আছে নিয়মিত । তাহলে কি অজিতবাবুর সুত্রে আপনাদের আলাপ আছে ?
শাবাশ । তোমার অনুমান নির্ভুল । আসলে অজিত কৈলাস বাবুর লেখা একটা বই ছাপার জন্য ওঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে । সেই সুত্রে আমার সঙ্গেও আলাপ হয় । উনি আমার কাছেই এসেছিলেন প্রথমে । কিন্তু তখন আমি শজারুর কাঁটার কেসটা নিয়ে খুব ব্যাস্ত । অমৃতবাজারে তোমার দেওয়া বিজ্ঞাপন আমি পড়েছিলাম । আমিই ওকে সাজেস্ট করি তোমার কাছে যাওয়ার জন্য । আর আমার নামটা উহ্য রাখতে বলি যাতে তোমার ওপর কোন অতিরিক্ত চাপ না আসে । আমি কেসটা নিলে কেদার সুবিধে করতে পারতো না কারন আসল কৈলাসবাবুর সঙ্গে আমার আগেথেকেই আলাপ ছিল । গোয়েন্দা পাল্টে যাওয়ার সুযোগটাই ও নিয়েছিল । কিন্তু তুমি তো দক্ষতার সঙ্গেই কেসটা সমাধান করেছো , এবং তোমার অজান্তেই আমার মুখরক্ষা করেছো । কৈলাসবাবু পরে ফোন করে সব বর্ণনা দিয়ে তোমার দারুন প্রশংসা করেছেন । তুমি কি খুব ব্যাস্ত , তা না হলে চল , কাছেই আমার বাড়ি , চা খাবে ।

ফেলুদা বলল আমি জানি আপনার বাড়ি কেয়াতলায় । কিন্তু আজ নয় আগামী কাল যাব আপনার বাড়ি যদি অসুবিধে না থাকে । আসলে আমার এক জ্যাঠামশাই রোজ এখানে আসেন আমাদের সঙ্গে দেখা করতে , তাঁকে বলা নেই , না দেখতে পেলে হয়তো চিন্তা করবেন ।

ব্যোমকেশ বললেন তথাস্তু , তাহলে কাল সকালে এইখানেই চলে এস , তারপর একসঙ্গে যাওয়া যাবে ।
এই ছিল ফেলুদা আর ব্যোমকেশ বক্সীর প্রথম আলাপ । ১৯৬৭ সালে ব্যোমকেশ যখন শজারুর কাঁটার কেসটা সলভ করেন তখনই ফেলুদা কৈলাস চৌধুরীর পাথরের কেসটা পায় । পরদিন যখন আমরা ব্যোমকেশ বাবুর বাড়ি যাই সেটাও ছিল এক দারুন অভিজ্ঞতা । অন্য একদিন সে গল্প বলবো ।

Wednesday, 25 April 2018

Satyajit Ray Dharani by Ananyo Chakraborty

সাত সকালে ঘুম থেকে ওঠা ফেলুদার বহুদিনের অভ্যেস। যোগাভ্যাসটাও করে রোজ নিয়ম করে। আমি যখন উঠি তখন ফেলুদা হয় চা খেতে খেতে কাগজ পড়ে নাহয় কোন বইয়ে ডুবে থাকে। কিন্তু আজ সকালে বসার ঘরে এসে দেখি ফেলুদা গম্ভীর মুখে পায়চারি করছে, হাতে ধরা একটা কাগজের টুকরো। সাধারণত এইরকম অবস্থায় আমি ফেলুদাকে কোন প্রশ্ন করে বিরক্ত করিনা। আজও করলাম না। চোখের ইশারায় শ্রীনাথের থেকে জানলাম ফেলুদা আজ চা-ও খায়নি। নিঃশব্দে সোফায় এসে বসতেই ফেলুদা আমার দিকে সেই কাগজের টুকরোটা এগিয়ে দিয়ে গম্ভীর ভাবে বললো, 'এটা পড়।'

আমি কাগজটা নিয়ে খুলে দেখলাম তাতে একটা ছড়া লেখা। লেখাটা এরকম...
দাবার চালে কোণাকুণি
বাম ছাড়লো তার শেষ,
সঙ্গে জোড়ে কুল চূড়ামণি
চাঁদ বাইতে চাঁদের দেশ।
সেই দেশেতেই স্মরণ আজি
এসো সবাই ত্বরা
বাড়িও না পা সেই পথে
যেথায়, নামের পাশে ধরা।

'এটা কে দিলো ফেলুদা! এতো দেখছি হেঁয়ালি !'

'এটা হেঁয়ালি তা বোঝার জন্যে মাথায় কিছু না থাকলেও চলে। কিন্তু হেঁয়ালিটা কিসের সেটা বুঝতে হবে। সকালে খবরের কাগজের মধ্যে এই কাগজটা ঢোকানো ছিল এমনভাবে যাতে কাগজটা খুললেই চোখে পড়ে। এখন প্রশ্নটা হল, কে এবং কেন?'

'কিছু উদ্ধার করতে পারলে?" বোকার মতো প্রশ্নটা করতেই দরজায় কলিংবেলের আওয়াজ, আর তারপরেই শ্রীমান জটায়ুর হন্তদন্ত প্রবেশ।

'হাইলি সাস্পিসাস ব্যাপার মশাই! সকাল সকাল কে আমাকে নিয়ে মস্করা করছে দেখুন! খবরের কাগজের ভেতরে কি এক দুর্বোধ্য ছড়া লিখে পাঠিয়েছে মশাই। কিছুই বুঝতে না পেরে আপনার কাছে আসাই ঠিক মনে করলাম।' জটায়ু একটা কাগজ বাড়িয়ে দিলেন ফেলুদার দিকে। দেখে মনে হল একই ধরনের কাগজ। ফেলুদা কাগজটা নিয়ে দেখে আরও গম্ভীর হয়ে আমার দিকে বাড়িয়ে দিলো। অবাক হয়ে দেখি সেখানেও সেই এক ছড়া লেখা, দুটোই বাংলায় টাইপ করা, একই ধরনের পাতায় প্রিন্ট নেওয়া।

আমি জটায়ুকে ফেলুদার কাগজটা দেখাতেই ওনার চোয়াল যেন ঝুলে পড়লো। 'আপনাকেও !! একই লেখা! কি সাঙ্ঘাতিক! এসব কার কারসাজি মশাই?"

'আপনার গাড়িটা এনেছেন?' ফেলুদা জটায়ুর দিকে তাকিয়ে প্রশ্নটা করলো।

'হ্যাঁ, বাইরেই রয়েছে। বেরোবেন নাকি? ইয়ে, মানে গুপ্তধন-টন নাকি মশাই !! '

ফেলুদা আমার দিকে তাকিয়ে বলল, 'পাঁচ মিনিটে রেডি হ তোপসে।

রজনী সেন রোড থেকে বেরিয়ে মুদিয়ালি আসতেই ফেলুদা ড্রাইভারকে বলল ভবানিপুরের দিকে যেতে। আমি আর জটায়ু উসখুস করছি। ফেলুদা আমার দিকে তাকিয়ে বলল, 'দাবার চালে কোণাকুণি, মানে কি?'

'কোণাকুণি মানে...গজ।' বললাম আমি।

'সাবাস! বাম ছাড়ে তার শেষ, বাম অর্থাৎ লেফট, তার শেষ অক্ষর ছেড়ে দিলে লেফ।'

'কি সব বলছেন কিছুই বুঝছিনা মশাই। গজ, লেফ, চাঁদ... এসব কি? রহস্যময় ব্যাপার ! আপনার সাথে এরকম হেঁয়ালি করার সাহস রাখে কে এই খোদ কোলকাতায়?'

'কূল চূড়ামণির কোন সুযোগ্য শিষ্য...' ফেলুদা মুচকি হেসে জটায়ুর দিকে তাকিয়ে বললো,' চাঁদ বাইতে চাঁদের দেশ... একে চন্দ্র, অর্থাৎ এক বাই এক। আর গজ অর্থাৎ বিশপ। লালমোহন বাবু, কোনো গুপ্তধন নয়, তবে এক মহারাজের প্রাসাদে যাচ্ছি আমরা।'

'এক বাই এক বিশপ !! মহারাজ ! আমি সত্যি কিছুই বুঝতে পারছিনা ফেলুদা।' আমি আত্মসমর্পণ করাই শ্রেয় মনে করলাম।

'মারবো মাথায় এক গাঁট্টা। ' ফেলুদা বললো, 'সকালে উঠে যোগাভ্যাস কর।'

ভবানিপুর পোস্ট অফিসটা পেরোতেই ফেলুদা ড্রাইভারকে বললো ডানদিকে ঘোরাতে। রাস্তার নাম দেখেই চমকে উঠলাম আমি। বিশপ লেফ্রয় রোড... গজ অর্থাৎ বিশপ, লেফট টি ছেড়ে লেফ, আর সঙ্গে জোড়ে কুলচূড়ামণি, তার মানে 'রয়'। এক বাই এক, বিশপ লেফরয় রোড, স্বয়ং সত্যজিৎ রায়ের বাড়ি ! বিদ্যুৎচমকের মতো মনে পড়লো আজ ২৩শে এপ্রিল, ওনার মৃত্যুদিন...

স্মরণসভায় প্রোফেসর শঙ্কুও এসেছিলেন। ফেলুদা ওনাকে প্রণাম করতেই উনি হেসে জড়িয়ে ধরলেন ফেলুদাকে, একটু আড়ালে ডেকে কিছু আলোচনাও করলেন। খুব শিগগিরি আমাদের বাড়ি আসবেন কথা দিলেন। ফেরার পথে জটায়ু বললেন, 'এই বাড়িতে এসে যেন তীর্থস্থান ভ্রমণের অনুভূতি হলো। হেঁয়ালির সবই তো বুঝলাম মশাই, কিন্তু ওই শেষ দুটো লাইন... বাড়িও না পা সেই পথে / যেথায়, নামের পাশে ধরা...এটার অর্থ কি বুঝলাম না তো। '

ফেলুদা মুচকি হেসে বললো, 'পাশের রাস্তাটার নাম খেয়াল করেছেন? সত্যজিৎ রয় ধরণী...

Thursday, 5 April 2018

Ball tampering by Santapriya Chakraborty

 'আপনি মশাই কোনদিন বল টেম্পারিং করেছেন? নাকি সেসবের কোনদিন দরকার পড়েনি?', লালমোহনবাবু প্রশ্নটা করে ফেললেন একপ্রকার অধৈর্য্য হয়েই। কারণ তোপসে ও ফেলুদা নিজেদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ এই বিষয়ে কথা বলছিল। বিষয় অবশ্য‌ই সাম্প্রতিক অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে সবচেয়ে কলঙ্কিত ঘটনা।

ফেলুদা বলল 'আমি ডানহাতি লেগস্পিনার ছিলাম। রিস্ট স্পিনার। তাই আমার কখন‌ও ওসবের দরকার পড়েনি। তবে পেস বোলারদের চুইংগাম দিয়ে বল ঘষতে দেখেছি কয়েকবার। কিন্তু সে জিনিস এখনকার মত এত নোংরা আকার ধারণ করেনি'। ফেলুদার গলায় আক্ষেপের সুর। কারণ ও স্কুলকলেজ লাইফে প্রচুর ক্রিকেটে খেলেছে। ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটির হয়ে অনেক ট্রফিও জিতেছে। খেলাটাকে ও ভালবাসে।
লালমোহনবাবু একটু তাচ্ছিল্যের সুরে বললেন ' জাতটাই এরকম মশাই। এরা জেতার জন্য যাকিছু করতে পারে। ভদ্রলোকর খেলাটাকে এরা ভদ্র রাখল ক‌ই?'
তোপসে বলল, 'সেটা কিছুটা ঠিক, তবে বল টেম্পারিং এর দোষে অনেক নামী দামী ক্রিকেটার‌ও অভিযুক্ত হয়েছেন। আমাদের শচীন তেন্ডুলকর তো একটা টেস্ট সাসপেন্ড‌ও হয়েছিলেন। মাইক আথারটন, শাহিদ আফ্রিদি, জেমস অ্যান্ডারসন বা ডুপ্লেসি, তালিকাটা দীর্ঘ।'
'তবে ছেলেটির প্রতিভার দিকটা কেউ দেখল না মশাই। যতটুকু খবর রাখি স্মিথ‌ই যে এই মুহূর্তে পৃথিবীর সেরা টেস্ট ব্যাটসম্যান তা জানি। ১ টা বছর নির্বাসন একটু বাড়াবাড়ি হয়ে গেল না!' বললেন ভদ্রলোক।
একটা চারমিনার ধরিয়ে ফেলুদা বলে চলল ' আসল ব্যাপারটা কি জানেন, আমরা আমাদের হিরোদের কখন‌ও খারাপ দেখতে পারিনা। সে খেলাতেই হোক, বিনোদনে হোক কিংবা রাজনীতিতে হোক। যেহেতু স্মিথ একজন পছন্দের খেলোয়াড় তাই তার ব্যানটা বাড়াবাড়ি মনে হচ্ছে। অথচ ক্রিকেটে নিয়ম বহির্ভূত কাজ সে আগেও করেছে, শাস্তিও পেয়েছে। এবারে তো একেবারে জেতার জন্য মরিয়া হয়ে ষড়যন্ত্রে সামিল। কিন্তু লোকজন তবু সহানুভূতির বন্যা ব‌ইয়ে দিচ্ছেন। ঠিক যেভাবে সলমন খানের হরিণ মেরে শাস্তি পেতে ২০ বছর লেগে যায় কারণ তিনি প্রভাবশালী, জনতা তার পাশে। সঞ্জয় দত্ত জেল থেকে বেল নিয়ে ১০০ কোটির সুপারহিট ছবি করে। রাজনৈতিক নেতা মন্ত্রীরা চুরি, ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত হয়েও ভোটে জেতে। সাজাপ্রাপ্ত জেলফেরত নেতার সভায় বক্তৃতা শুনতে লাখো মানুষ ভিড় করে'।
একটু থেমে বলল 'স্বভাব বদল করুন লালমোহনবাবু। অপরাধটা অপরাধ‌ই, সে যেই করূক। অপরাধের বিচার যেন ব্যক্তির অবস্থা বা প্রতিপত্তি, ক্ষমতা দেখে না করা হয়। সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলার ক্ষমতা সবার থাকে না।......কিছু বুঝলেন?'
লালমোহনবাবু কিছুটা উসখুস করে খানিক বাদে জবাব দিলেন 'বুঝেছি, স্মিথ ওয়ার্নারের ট্যালেন্ট একদিকে আর তাদের শাস্তি পাওয়া সম্পূর্ণ অন্যদিক। আফটার‌অল ক্রিকেট ইজ অ্যা জেন্টলম্যানস গেম।.....। সেখানে নো কমপ্রোমাইজ'।

Sunday, 1 April 2018