Friday, 9 September 2022

লালমোহন বাবু ও দুর্গা পুজো by Supriya Bandyopadhyay

নাঃ,বুঝলে তপেশ, গরমটা আর কমছে না। এই প্রখর রৌদ্রে শরৎকাল শরৎকাল ভাবটা কেমন ভেপসে যাচ্ছে। আমার আবার মাথা জোড়া টাক। বুঝতেই পারছো, এমন গরম থাকলে পুজোয় ঠাকুর দেখার দফারফা‌। তোমার আর তোমার দাদার অবশ্য মাথা ভরা ঘন চুল। তোমরা পারবে। 

লালমোহন বাবু একটু যেন মুষড়ে পড়ে বলে উঠলেন।

কিন্তু আপনাকে ছাড়া তো আমাদের পুজো জমবে না লালমোহন বাবু। ফেলুদা হাতের চারমিনার থেকে টোকা মেরে ছাই টা ashtray তে ফেলে দিয়ে বললো।

বলছেন? লালমোহনবাবু একগাল‌ হেসে বললেন এবার।  আপনারা আমাকে চান সে আমি বুঝি। তাহলে ঝুলেই পড়বো , মশাই আপনাদের সঙ্গে। কিন্তু আপনি তো আবার celebrity. পুজোয় রাস্তায় বেরোলে তো আর রক্ষে নেই। একেবারে ছেঁকে ধরবে। কী ভাই তপেশ, কিছু বলো? হাতের একটা ভঙ্গিতে ছেঁকে ধরা দেখিয়ে লালমোহন বাবু আমার দিকে তাকালেন।

আচ্ছা গ্রামের পুজো দেখতে গেলে কেমন হয়! এই যেমন টাকির রাজবাড়ি অথবা শান্তিনিকেতনে র সুরুলের রাজবাড়ী র পুজো? আমি বললাম।

এ তো অতি উত্তম প্রস্তাব। আমার নতুন হন্ডা অ্যামেজ এ চড়ে বেশ পথের শোভা দেখতে দেখতে যাওয়া যাবে।‌ লালমোহন বাবু উৎসাহিত হয়ে বলে উঠলেন।

প্রস্তাব টা মন্দ নয়। কলকাতার ভিড় এড়িয়ে একটু নিরিবিলিতে পুজো কাটানো। ফেলুদা লালমোহন বাবুর দিকে তাকিয়ে একটু হেসে বললো।

চমৎকার। হাততালি দিয়ে উঠলেন লালমোহন বাবু। তাহলে টাকি টা ই ফাইনাল করি। কী মশাই আপনার আপত্তি নেই তো? লালমোহন বাবু কেমন যেন একটু দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে বললেন।

না আপত্তির কি থাকতে পারে। টাকি তে ইছামতি নদী পাবেন । ওখানে দশমী র  দিন দুই বাংলা থেকেই ঠাকুর আসে বিসর্জনের জন্য। জানেন তো? ফেলুদা বললো।

বা,বা,বা,বা.... আমার কতদিনের স্বপ্ন।এমন বিসর্জন দেখব। লালমোহন বাবু উত্তেজিত হয়ে বলে উঠলেন।

তো সে স্বপ্ন পুরণ তো আগেই হতে পারতো! এতো আর‌ আফ্রিকার কিলিমাঞ্জারো দেখবার স্বপ্ন নয়! ফেলুদা ঠোঁটে একটা বাঁকা হাসি টেনে বললো।

না, তা নয়। তবে সব কিছু র ই একটা যোগাযোগের ব্যাপার আছে, বুঝলেন মশাই

 সেটা না হলে দেখবেন কলকাতায় বসেও জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি দেখা হয়ে উঠবে না। কি বলো ভাই তপেশ? লালমোহন বাবু বললেন।

কথাটা যে মিথ্যা নয় ঘাড় নেড়ে তা স্বীকর করতেই হলো।

তাহলে প্ল্যান করে ফেল্ । ফেলুদা কে উৎসাহিত হতে দেখলাম।

আচ্ছা এই যে শেখ হাসিনা এসে ঘুরে গেলেন ভারতে, এতে করে দুই দেশের সম্পর্ক তো আরো মজবুত হবে, বলুন। তাহলে এই ফাঁকে আমরা টুক করে নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে ঘুরে আসতে পারি না?

লালমোহন কথাটা বলে হাঁ করে ফেলুদার দিকে চেয়ে র‌ইলেন।

আপনি কি টাকি থেকেই বাংলাদেশ চলে যাবেন ভাবছেন নাকি? ফেলুদা প্রশ্ন করলো।

হ্যাঁ, সম্পর্ক ভালো যখন নিশ্চয় ই যাতায়াত অবাধ হবে। লালমোহন বাবুর উত্তর।

সর্বনাশ ! আপনি কি নৌকো করেই পাড়ি দেবেন ভাবছেন? বি এস এফ আর বাংলাদেশ রাইফেলস কিন্তু রাইফেল উঁচিয়ে সারা দিনরাত ওখানে পাহাড়া দিচ্ছে। একবার,দুবার হুইসেল, তারপরেই ঠাঁই, ঠাঁই ,ঠাঁই!

ফেলুদা গুলি চালাবার ভঙ্গি করে বললো।

রক্ষে করুন মশাই, আমি ওর মধ্যে নেই। তবে একটা কথা - শুনছি গোরু টোরু সব এভাবেই পার হয়ে যাচ্ছে। লালমোহন বাবু ফিসফিস করে বলে উঠলেন।

আপনি যদি নিজেকে গোরুর সমগোত্রীয় ভেবে ফেলেন তবে চেষ্টা করে দেখতে পারেন। তবে তাতেও বিপদ আছে। কাগজে পড়ছেন তো?

যাঃ, তা কেন। বুঝলে তপেশ তোমার দাদা আজকাল একেবারে below the belt চালিয়ে দিচ্ছেন।

যাকগে তাহলে ঐ কথাই র‌ইল পুজোয় টাকি।

এ ব্যাপারে শরৎ পণ্ডিতের গল্প  জানা আছে কি ? প্রশ্ন '" এ টা কি? উত্তর - এ টাকি । "লক্ষ্য করুন এক‌ই অক্ষর সাজিয়ে প্রশ্ন ও উত্তর একসঙ্গে এসে গেল।

বাঃ, বাঃ এ তো সাংঘাতিক ব্যাপার মশাই। আমার পরের গল্পে এরকম কিছু লিখতে হবে। লালমোহন বাবু বলে উঠলেন।

দেখবেন আবার " উধোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে না চড়ে। ব্যাপার টা কিন্তু সহজ নয়। তাহলে কিন্তু উটের পাকস্থলি হয়ে যাবে।"

হাঃ, হাঃ, হাঃ যা বলেছেন মশাই। লালমোহনবাবুর নির্মল হাসিতে ঘর ভরে গেল। 

পুজো এসে গেছে। বাতাসে পুজোর গন্ধ।মনেও।

Monday, 5 September 2022

Prodosh Chandra Mitter by Jaideep Gupta



Pradosh Chandra Mitter - yes, he is the same person as you imagined, but not with exact characteristics. He is not a detective by profession but solving crime is indeed his passion. His well-known companion Lalu babu is with him. In this book Pradosh solves three mysteries.

Buy here