Showing posts with label Corona. Show all posts
Showing posts with label Corona. Show all posts

Thursday, 15 July 2021

Unlockdown-ey Feluda by Saraswati Nath (Incomplete)

Episode 1

সকালে যোগব্যায়াম সেরে বৈঠকখানায় এসে বসতেই ফেলুদা বলল ,"QUARANTINE বানান জানিস?"

সকাল সকাল এরকম একটা বেমক্কা প্রশ্ন শুনে ভ্যাবাচাকা খেলেও সেই ভাবটা কাটিয়ে আমি বললাম, " হ্যাঁ ফেলুদা।ওই তো Q,U,A,R,A,N,T,I,N,E=QUARANTINE।"

ফেলুদা:"good"

"কিন্তু কেন বলছো ফেলুদা? নতুন case পেয়েছো?"

ফেলুদা:"নারে, লালমোহনবাবুর নতুন উপন্যাস ' কলকাতায় করোনা' publish করার আগে পড়তে দিয়েছেন। বানানটা প্রত্যেকবার ভুল হয়েছে।"

আমি কিছু বলতে যাব এমন সময় কলিং বেল বেজে উঠলো। ঘড়িতে দেখলাম প্রায় নটা বাজে। বুঝলাম লালমোহন বাবু।

দরজা খুলতেই হাসি মুখে ঢুকলেন ভদ্রলোক। বললেন,"কি মশাই কেমন হয়েছে উপন্যাসটা?"
ফেলুদা বলল," বেশ কতগুলো spelling mistake ছাড়া বাকি মোটামুটি ঠিক আছে।"

" আসছে পুজোয় বইটা বেরোবে। আচ্ছা মশাই , আপনার কি এখন অবসর? "-------"হ্যাঁ লালমোহনবাবু, এখন আর কে crime করবে?"

এমন সময় দরজার সামনে একটা গাড়ি এসে থামল। আমি উঠে দরজা খুলতে যাচ্ছিলাম ফেলুদা বলল" অত হ্যাংলামো কিসের? বেলটা বাজতে দে। " বলতে বলতেই ক্রিং ক্রিং শব্দে বেজে উঠলো বেল। দরজা খুলতেই ঘরে ঢুকলেন এক মধ্যবয়সী ভদ্রলোক। চুল কাঁচায়- পাকায় মেশানো, পরনে fullsleeve shirt, jeans, মুখে double mask, হাতে gloves,চোখে সোনালি ফ্রেমের চশমা। হাত sanitise করে একটা চেয়ার টেনে নিয়ে প্রায় ছয় ফুট দূরে সরে বসে আমাদের প্রত্যেককে নমস্কার করে বললেন," আপনাদের মধ্যে প্রদোষ চন্দ্র মিত্র কোন জন?"

ফেলুদা ইতিমধ্যেই মাস্ক পরে এসে প্রতিনমস্কার করে বলল " আমিই প্রদোষ চন্দ্র মিত্র।"

ভদ্রলোক বললেন" আমি আপনার খোঁজ পাই আপনার পুরোনো এক মক্কেলের কাছ থেকে। আমি একজন ডাক্তার।নাম শ্যামাপ্রসাদ সেন।আপনার কাছে এসেছি একটি বিশেষ ব্যাপারে।"

ইতিমধ্যে আমি মাস্ক পরে , শ্রীনাথকে চায়ের কথা বলে এসেছি। "বলুন" , ফেলুদা মিনি টেপ রেকর্ডারটা চালু করে দিল। শ্রীনাথ - এর এনে দেওয়া চা খেয়ে ভদ্রলোক বলতে শুরু করলেন।

***

Episode 2

"আমি basically বর্ধমানের বাসিন্দা। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি কলকাতায় থাকছি। কাজের জায়গা অর্থাৎ hospital টা কলকাতাতেই।আপনি জানেন নিশ্চয়ই যে এখন vaccination চলছে। গতকাল এক মাড়োয়ারী অথবা পশ্চিমা ভদ্রলোক এসেছিলেন আমাদের হসপিটালে। যেহেতু আমি সিনিওর most ডাক্তার তাই আমার সাথে দেখা করে পরিচয় দিলেন ব্যবসায়ী হিসেবে। তিনি করলেন এক অন্যায় আবদার। তিনি রেমডেসিভির ,oxygen cylinder এবং দুটি oxygen concentrator কিনতে চান। জনসেবার জন্য।আমাদের হাসপাতালেরই এখন বেসামাল অবস্থা। সুতরাং এই পরিস্থিতিতে আমরা তা করতে পারি না এই বলে ওনাকে অনেক বোঝাতে চেষ্টা করলাম। কিন্তু তিনি এক জেদ ধরে রইলেন।২৫ হাজার পর্যন্ত দিতে রাজী তিনি।"

এই পর্যন্ত শুনেই ফেলুদা বলল, "ভদ্রলোকের নাম কি?"

----- "মেঘরাজ । মগনলাল মেঘরাজ।"

শুনেই আমি চমকে উঠলাম। আবার ওই লোকটা। ওর সাথে আর কতবার মোকাবিলা করতে হবে? ফেলুদা চমকেছে কিনা বোঝা গেলনা। মুখ তো ঢাকা। লালমোহনবাবু জল খেতে গিয়ে মেঘরাজের নাম শুনে বিষম খেয়েছেন।

শ্যামাপ্রসাদবাবু আবার বলতে শুরু করলেন, "আমি রাজী না হওয়ায় ভদ্রলোক বললেন তিনি নিয়েই ছাড়বেন । দুদিন সময় দিয়েছেন। আগামী পরশু ২০ কার্টুন ভ্যাকসিন, ৫ টি concentrator ,১০ হাজার মাস্ক,২৫ হাজার ppe kits,৩০০ oxygen cylinder, ২৫ কার্টুন রেমডেসেভির আসছে। সে কথা তিনি জানেন ।কি করে জানলেন সেটাও আমাদের ভাবনার বিষয়। আমি বাধ্য হয়েই security ডেকে ওনাকে বের করতে পারি।

ফেলুদা: " খুব কড়া মেজাজে কি তিনি কথা বলেছেন? "

-----"তা তো বলেছেন। "

-----" আপনি না করেই ভালো করেছেন। জনসেবার জন্য কিনছেন না। কিনছেন বিদেশে পাচারের জন্য। উনি একজন দালাল। কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করাই ওঁর কাজ। যাওয়ার সময় আপনার whatsapp number আর ফোন নম্বরটা দিয়ে যাবেন।"বলেই ফেলুদা পা'টা এমনভাবে নামালো যাতে ভদ্রলোক আসতে পারেন সেটা বোঝা যায়।

ভদ্রলোক একটা কাগজে নম্বর লিখে চলে গেলেন। লালমোহনবাবু বিরস মুখে শুধু বললেন," আবার মেঘরাজ?"

***
Episode 3

মাঝে মাঝেই আমি আর ফেলুদা আমাদের পুরোনো adventure গুলো নিয়ে আলোচনা করি। পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে মগনলাল মেঘরাজই ওর মতে যাকে বলে জবরদস্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। তিনি যে এতদিন পরে আবার নতুন খেলা দেখাবেন সেটা ভাবিনি। সেটা যথাসময়ে না হয় বলা যাবে। পরেরদিন কেটে গেল শ্যামাপ্রসাদবাবু সম্বন্ধে কিছু তথ্য জোগাড় করে । ফেলুদা নিজের পুরোনো কিছু ডাক্তার বন্ধুদের কাছে WhatsApp করে রেখেছিল। আজ উত্তর পাওয়া গেল। ভদ্রলোক সত্যিই মস্ত বড় ডাক্তার। দু:স্থ লোকেদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা করেন। কোনো অহঙ্কার নেই। কলকাতায় লেক টেম্পল রোডে এক ফ্ল্যাটের বাসিন্দা। লালমোহনবাবু এসে বললেন," ঘরে মন থাকতে চাইলো না। তাই চলেই এলুম। Case কতদূর এগুলো?" ফেলুদা বলল, " সবে তো শুরু। এখন তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।" এরপর আমার দিকে তাকাতেই আমি সকালে আসা সমস্ত তথ্য তাঁকে দিয়ে দিলাম। শুনে ভদ্রলোক তাঁর খুব প্রশংসা করতে লাগলেন। এত অবধি সব ঠিক ছিল। কিন্তু বোমাটা ফাটল পরদিন সকালে। ঘুম ভাঙতেই দেখি ফেলুদা কার সাথে ফোনে কথা বলছে -" hello, বলুন।" ------------- -" সেকী !কি হলো?" ------------- - " বাকিরা জানে?" ------------ -" আচ্ছা আমি কুড়ি মিনিটের মধ্যে আসছি।"বলেই ফোনে কেটে দিল। " তাড়াতাড়ি ready হয়ে নে। বেরোতে হবে। পারলে লালমোহনবাবুকেও ফোন করে ডেকে নে। " লালমোহনবাবু এসে " কি হয়েছে? " জিজ্ঞেস করাতে তাঁকে প্রায় জোর করে ঠেলে নিয়ে গাড়িতে উঠে হরিপদবাবুকে বলল " চলুন লেক টেম্পল রোডে।" এবার আমাদের দিকে ফিরে বলল " মিস্টার সেন। বললেন বিশাল বড় কেলেঙ্কারি হয়েছে। ফোনে সবটা বলা যাবে না বলে বাড়িতে যেতে বললেন।"
***
Episode 4

লেক টেম্পল রোড থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে গেলাম ভদ্রলোকের ফ্ল্যাটে। ফ্ল্যাটের নাম আলেয়া দেখে লালমোহনবাবু বললেন" মশাই, আলেয়ার পিছনে ছোটা কিন্তু অর্থহীন।"

ফেলুদা মেকী ধমকের সুরে বলল" আপনি অর্থহীন কথাবার্তাগুলো বন্ধ করুন তো এখন।"
 
ফ্ল্যাটে ঢুকতেই ভদ্রলোক অত্যন্ত সম্ভ্রমের সাথে আমাদের আপ্যায়ন করলেন। জানিনা কি হয়েছে তবু আগের দিন দেখা ভদ্রলোকের চেহারার সাথে আজকের চেহারা মেলে না। এরপর ভদ্রলোক বলতে শুরু করলেন" আপনাকে সেদিন যা যা বলে এসেছিলাম, ঠিক তাই তাই আজ ঘটে গেছে। ordered জিনিসের মধ্যে ওই আইটেমগুলো কম। ড্রাইভার দুজনকে রাস্তার ধারে অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া গেছে। গাড়িটা রাস্তার ওপর ছিল। সামনের কাঁচ ভাঙা। পুলিশ উদ্ধার করেছে ড্রাইভারদের এবং গাড়িটাকে। " এই পর্যন্ত শুনেই লালমোহনবাবু বলে উঠলেন"highly suspesious. " " উল্টোদিক থেকে একটা ম্যাটাডোর এসে গাড়িটাকে ধাক্কা দেয়। সেই সময়ই চারজন লোক ওদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং chloroform (ড্রাইভারদের কথা অনুযায়ী মিষ্টি গন্ধ মাখা রুমাল) দিয়ে অজ্ঞান করে দেয়। তারপর প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে গেছে।" ফেলুদা বলল" hospital এর সবাই জানে?" -" না , শুধু seniour ডাক্তাররা জানেন।panic সৃষ্টি হবে বলে জুনিয়র ডাক্তাররা জানে না। " ----- " ঘটনা স্থল কোথায়?" -" জি .টি রোডের কাছে।" -----:" থানায় diary করেছেন?" -" হ্যাঁ। please আমাদের এ বিপদ থেকে উদ্ধার করুন। শুধু আমরা নয়, সমগ্র মানবজাতি আজ বিপদে।" ------" ok, i will try my best."বলেই উঠে পড়ল। দেখাদেখি আমরাও উঠে পড়লাম। apartment থেকে বাইরে এসে লালমোহনবাবু বললেন " মশাই ,এই case কি করে solve করবেন আমার মাথায় আসছে না।" -" ফেলু মিত্তিরের মাথায় এলেই হবে। "একথার পর ফেলুদা সমস্ত রাস্তা একেবারে নির্বাক। এরপর সমস্ত দিন ফেলুদা কাটাল medicine সংক্রান্ত বই পড়ে, সিধু জ্যাঠার কাছ থেকে কিছু তথ্য জোগাড় করে, ডাক্তার বন্ধুদের কিছু email,text করে। পরদিন সকালে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এল ফেলুদা। বুঝলাম যা জানার তা জেনে নিয়েছে। সাহস করে জিজ্ঞেস করলাম" কিছু জানতে পারলে?" " জেনেছি অনেক কিছু। কিন্তু সবই একটা জায়গাতে গিয়ে জট পাকিয়ে যাচ্ছে। তাই এক জায়গায় যেতে হবে।" বলেই dress change করতে উঠে গেল। যাওয়ার আগে অবশ্য বলল তৈরী হয়ে নিতে। --- " লালমোহনবাবুকে খবর দেব?" ----" না। যেখানে যাবো ওনাকে না নিয়ে যাওয়াটাই safe।" বাড়ী থেকে বের হয়ে একটা taxi করে এলাম একটা বাড়ীর সামনে। দেখেই চিনলাম । ফেলুদার সবথেকে প্রিয় প্রতিদ্বন্দ্বী মগনলাল মেঘরাজের বাড়ী। একইসঙ্গে বুঝলাম কেন লালমোহনবাবুকে আনেনি ফেলুদা। কারণ তাঁকে নিয়ে রগড় করাটা এই লোকটার মজ্জাগত। ক্রমশ


Note: this is my personal blog. The copyright of the story lies solely and entirely with the author.

Sunday, 4 July 2021

Vaccine e Gamaxine by Debaditya Chatterjee


 "Haripada babu quarantined bole apnake ei jhukki ta nite holo felubabu kichhu mone korbenna", Binito hoye bollen Lal Mohan Babu

"Jhukki ki bolen moshai eto aram, etodin por second dose nie ektu rastae gari chalano", Heshe bollo Feluda

"Apni ja romhorshok kando ghotalen apni toh ekhon ei mohanogorir hero moshai!"

Lal Mohan Babur mukhe uttejonar chhap. Amaro Feluda k nie gorbo bodh kom noy ar seta howar e kotha, jevabe jal vaccine chokri Debanjan Deb k shayesta korlo tate koto manush je beche gelo seta bole bojhano daye.

"Ami mone kori Lal Mohan babu j prithibi te ar joto oporadh achhe tar moddhe ei jal vaccine dewa ta shob theke opore", Gombhir hoye bollo Feluda

“Tahole ebar jara jal vaccine lagieche tader ki hobe Feluda?", Ami proshno korlam

"Seta dekhte hobe examine kore je karur kono khoti hoyeche kina ba er por covid vaccine ar dewa jabe kina", Feluda bolte bolte turn niye gari thamalo.

Amara pouchhe gechhi Acropolis mall. Kichhu ektu kheye bari jabo, Lal Mohan Babur Acropolis ta dekha hyeni tai unie bollen je mall jokhon khulei gechhe ar etodin por three musketeers jokhon beriei porechi toh ektu ghurei bari phirbo.

"Tobe jai bolo vai topesh amar 42 tomo uponash ta ebar utre jabe plot ta sajie felechi, ebar bujhle amar hero prokhor rudro thik tomar dadar moto shayestha korbe ekta jal vaccinekari ke, tar jonno take chemistry nie anek porashuno o korte hobe.", Gari theke namte namte bollen Lal Mohan Babu

"Dekhben , chemistry khub jotil, thoththe abar kono vul truti na hoy nohole uter pakosthholi hoyjabe", Khanik heshe bollo Feluda

"He he...Na na moshai apnar shanniddhe jokhon achhi vul howar chance kom", Markamara hasi ta hese bollen Lal Mohan Babu.

"Toh ebar gopper nam ki?", Ami jiggssh korlam

Lal Mohan Babu uttejito hoye siri die uthte uthte hothat theme bole uthlen,"Vaccine e Gamaxine!"



Thursday, 2 July 2020

Oonter Panchali by Suhrid Devsharma



উটের পাকস্থলী   



এক মাস হলো আনলকডাউন শুরু হয়েছে৷ কিন্তু আমরা তাও একুশ নম্বর রজনী সেন রোড ছেড়ে বিশেষ বেরোচ্ছি না। কি হবে বেরিয়ে? আমার স্কুলের অনলাইন ক্লাস চলছে, তাতেই আমি আর শিক্ষকেরা গলদঘর্ম। 

ফেলুদা প্রায় মাস চারেক কোনও কেস হাতে পায়নি, তাই ওর রোজগারও বন্ধ। কিন্তু তা বলে ও যে মুখ গোমড়া করে বসে আছে তা নয়। ফেলুদা কখনোই হাল ছাড়ার পাত্র নয়, তাই ব্যায়াম আর মহাভারত নিয়ে মেতে আছে আর আমাকে মহাভারতের trivia প্রশ্নে একই সাথে উত্ত্যক্ত আর পুলকিত করছে।      

আজ সকালের কথাই ধরা যাক। শ্রীকৃষ্ণ আর অর্জুনের শঙ্খগুলোর নাম জিজ্ঞাসা করে বসলো। আমিও আমার জ্ঞানের ভান্ডার খুলে 'পাঞ্চজন্য' আর 'দেবদত্ত' বলে দিয়ে "উফ, কি দিলাম!" ভেবে নিজেই নিজের পিঠ চাপড়াচ্ছি, কিন্তু ফেলুদা চাপড়াতে দিলে তো? অমনি ও আবার "নামগুলোর কারণ কি, বল তো?" প্রশ্ন করে বসলো।  

কোনও মানে হয়? অতো জানলে তো কালীপ্রসন্ন সিংহের মতো আমিও মহাভারতের উপর একটা বই লিখতে পারতাম। ফেলুদা উত্তরটাও দিলো না। ও বললো যে বিকেলে লালমোহনবাবু আসবেন, তখন ওঁকেও প্রশ্ন করে দেখবে উনি জবাব দিতে পারেন কিনা।                   

প্রায় চার মাস আমাদের সাথে দেখা না হওয়ায় আজ ভোরে নাকি লালমোহনবাবুর মনে হয়েছে তিনি অনেকদিন ফেলুদা'কে গুরুদক্ষিণা দেননি। 

এদিকে তাঁর পাড়ায় নতুন multicuisine restaurant খুলেছে, যেখানে বাঙালি, গোয়ান, উত্তরভারতীয় আর দক্ষিণভারতীয় খাবার পাওয়া যায়। রেস্টুরেন্টের নাম ভাজা-ইডলি-রাজমা-সরপোতেল, সংক্ষেপে 'ভাইরাস'। এখনও সেখানে বসে খাওয়া যাচ্ছে না, কিন্তু তিনি নাকি পার্সেল করে সেখানকার খাবার নিয়ে আমাদের বাড়ি এসে রাতের খাওয়া আমাদের সাথেই সারবেন।    

হরিপদবাবুও দু-সপ্তাহ আগে তাঁর মধ্যমগ্রামের বাড়ি থেকে এসে আপাতত লালমোহনবাবুর বাড়িতেই থাকছেন। গাড়ি চালানোর কাজ তেমন নেই বলে কিন্তু জটায়ু ওঁকে ছাড়িয়ে দেননি। মাইনেও দিয়েছেন নিয়মিত। তবে ফেলুদার মতো হরিপদবাবুও বিনা পরিশ্রমে পারিশ্রমিক নিতে চান না, তাই তিনি জটায়ুর Man Friday হয়ে সাময়িকভাবে বাজার আর রান্না করার ভার নিয়েছেন। 

আজ সকালে নাকি গাড়ি স্টার্ট দিয়েও দেখে নিয়েছেন গাড়ি ঠিকঠাক চলছে, সুতরাং সবুজ এম্ব্যাসাডরের দেখা পাওয়ার আশায় আমি অন্যমনস্ক হয়ে অনলাইন অঙ্কের ক্লাসে অনেকগুলো silly mistake করে class test'য়ে কুড়িতে এগারো পেয়ে ফেলুদা'র কাছে গাঁট্টা খেলাম। 

সন্ধ্যা ছটা নাগাদ জটায়ু এসে পৌঁছালেন। মুখে মাস্ক শুধু নয়, তার উপর মোটরসাইকেল হেলমেটে যে স্বচ্ছ প্লাস্টিকের ঢাকনা থাকে, সেরকম একটা মুখের সামনে লাগিয়ে এসেছেন। এগুলোকে face shield বলে, আজকাল নাকি খুব বিক্রি হচ্ছে। উনি হাতে দস্তানা আর গায়ে একটা রেনকোটও পরে এসেছেন। সাজগোজের বহর দেখে আমাদের বাড়িতে আসছেন না চাঁদে যাচ্ছেন বোঝা মুশকিল। 

ঘরে ঢোকার আগে রেনকোটের পকেট থেকে ওঁকে একটা পিস্তল বার করতে দেখে আমি অবাক হয়ে গেলাম। কোল্ট নাকি? তারপর ভালো করে লক্ষ্য করে দেখলাম ওটা পিস্তলের মতো দেখতে হলেও আসলে একটা thermometer gun, যেটা দিয়ে দূর থেকেই অন্যদের শরীরের তাপমাত্রা মাপা যায়। উনি ফেলুদা আর আমার তাপমাত্রা মেপে তারপর নিজেরটাও মাপলেন আর আমাদের আশ্বস্ত করার জন্য একগাল হেসে বললেন, "নর্মাল। তাহলে চিন্তা নেই।"

তারপর ঘরে ঢুকে মাস্ক, দস্তানা আর রেনকোট খুললেও face sheild'টা পরেই থাকলেন৷ আর খুব সাবধানে আমার হাতে একটা বিশাল থলি ধরিয়ে দিয়ে বললেন "প্রন ভিন্ডালু, হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি, শাহী পনীর আর ছানা'র জিলিপি এনেছি, তাড়াতাড়ি ফ্রিজে তুলে রাখো।" এছাড়া চায়ের সঙ্গে খাওয়ার জন্য মুড়ুক্কু আর বিকানেরি ভুজিয়াও এনেছেন, সেগুলোও নাকি ভাইরাসেই পাওয়া যায়। 

হাত পা ধুয়ে এসে লালমোহনবাবু আরাম করে সোফায় বসলেন আর চা এসে গেলো। আমি আর ফেলুদা নিয়ম মেনে ওঁর থেকে ছ-ফুটের'ও বেশি দূরে দুটো মোড়া নিয়ে বসেছি, তাই একটা বাটিতে অনেকখানি ভুজিয়া আর অল্প কয়েকটা মুড়ুক্কু নিয়ে নিলাম, যাতে বারবার আমাকে উঠতে না হয়। 

"তারপর লালু-দা", চা খেতে খেতে বললো ফেলুদা, "কেমন চলছে আপনার আনলকডাউন? নতুন গল্পের কোনও আইডিয়া পেলেন? নাকি এবার রহস্য রোমাঞ্চ ছেড়ে 'গড়পারের গৃহস্থ' বলে একটা ঘরোয়া ধারাবাহিক লিখে টেলিভিশন চ্যানেল'কে বেচবেন?"

"ক্ষেপেছেন?", একগাল হেসে বললেন জটায়ু। "আমি লিখবো ঘরোয়া কান্নাকাটি আর কুচুটেপানায় ভরা ধারাবাহিক? ওসব লিখতে গেলে আমার কলমের নিব ভেঙে যাবে না? তা নয়, এবার ভ্রমণ কাহিনী লিখবো ভাবছি। আপনার সঙ্গে তো কম ঘোরা হলো না। কিন্তু জটায়ু নামে তো আর ভ্রমণকাহিনী লেখা যায় না, তাই নিজের একটা নতুন ছদ্মনামও রাখতে চাই, ঠিক যেমন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় নীললোহিত নামে ভ্রমণকাহিনী লিখতেন।" 

"তা কিছু নাম ঠিক করলেন কি?", ফেলুদা প্রশ্ন করলো। "লাললোহিত নয় আশাকরি।"

লালমোহনবাবু একটু অবাক'ই হলেন। "প্রথমে তাই ভেবেছিলাম, তারপর মনে হলো লোকে ভাববে টুকে পাস করেছি। কিন্তু লাল রঙটা ছাড়তে পারছিলাম না। আবার আমার প্রথম ছদ্মনামটা ওতো powerful, তাই ভাবছিলাম যদি কোনও পাখির নামে নাম রাখা যেতো।", বললেন তিনি। 

"লালঝুঁটি রাখলেই পারেন", বললাম আমি। "লালও থাকলো, আবার কাকাতুয়াও।"

নাম'টা লালমোহনবাবু'র মনে ধরলো না। "কাকাতুয়া তো আর জটায়ুর মতো শক্তিশালী নয়। আমার চাই অসীম শক্তি। কি যে করি?"


ফেলুদা'র মুখে হাসি ফুটে উঠলো। "কাকাতুয়া আর শক্তি মিশিয়ে একটা নাম মাথায় এসে গেলো। আপনি আপনার নতুন ছদ্মনাম রাখুন 'ক্র‍্যাকাটোয়া'। কাকাতুয়ার মতো শোনালেও আসলে ওটা একটা অতি বিধ্বংসী আগ্নেয়গিরি। আর নামে একটা বেশ exotic ভ্রমণের গন্ধও আছে, তাই না?"


লালমোহনবাবু উচ্ছসিত হয়ে উঠলেন। "বেড়ে হয়েছে। শুনলেই মনে হয় দক্ষিণ আমেরিকায় পৌঁছে গেছি। কোথায় যেন আগ্নেয়গিরিটা - চিলি'তে কি?"


"উফ, লালুদা। আপনার কথায় উটের পাকস্থলী কেন বারে বারে ফিরে আসে বলুন তো? তুই বল তোপসে।", ফেলুদা বললো। 


"ক্র‍্যাকাটোয়া তো ইন্দোনেশিয়ায়। জাভা আর সুমাত্রা'র মাঝখানে একটা দ্বীপ। আগে বেশ বড়ো ছিলো, তারপরে ১৮৮৩ সালে অগ্নুৎপাত হয়ে অনেক ছোট হয়ে গেছে।", আমি বললাম। লালমোহনবাবু জীভ কাটলেন। 


ভুজিয়া শেষ, তাই বাকি মুড়ুক্কুগুলোও অনিচ্ছাসত্ত্বেও খেতে হলো। এর চেয়ে জটায়ু ডালমুট আনলেই পারতেন, আমার মনে হলো। 


"তা হঠাৎ ভ্রমণ কাহিনী'র কথা ভাবলেন কেন বলুন তো?", মুড়ুক্কু'র সাথে চিবিয়ে চিবিয়েই কথাগুলো বললাম।


"কি জানো, ভায়া তপেশ? এই ভাইরাসের ঠেলায় তো ঘোরাঘুরি মাথায় উঠেছে, আবার কবে লোকে ট্রেনে-প্লেনে করে বেড়াতে যাবে কে জানে? তাই ভাবলাম আমাদেরই তো কতো বেড়ানোর অভিজ্ঞতা আছে। সেগুলোই বেশ ভালো করে লিখলে মানুষ সেই লেখা পড়ে কতো আনন্দ পেতে পারে, তাই না?"


"এটা মোক্ষম বলেছেন", ফেলুদা বললো। "কিন্তু এই ভ্রমণে কি প্রখর রুদ্রও থাকছে, নাকি আপনি ওর স্থান অধিকার করেছেন?" 


"ছি ছি, তা কি পারি? প্রখরের জায়গা নিতে পারে একমাত্র প্রদোষ। আমি আপনার ছায়াসঙ্গী হয়েই ঘুরেছি, সেভাবেই লিখবো। তপেশরঞ্জনও অবশ্যই থাকবে লেখায়।", জটায়ু খুব ডগমগ হয়ে উত্তর দিলেন।        


"তা বেশ", ফেলুদা বললো। "প্রথমে কোন জায়গা নিয়ে লিখবেন ঠিক করেছেন? জয়সলমীর, কাটমান্ডু, বেনারাস, ইলোরা না শিমলা? বা সোজা চলে যাবেন প্রাচ্যের লন্ডন, মানে হংকং'য়ে? নাকি বাড়ির কাছে ঘুরঘুটিয়া দিয়েই বউনি হবে?"


"আজ্ঞে, রাজস্থান নিয়েই প্রথমে লিখবো ভাবছি। ওখানেই আপনাদের সাথে আলাপ কিনা। তাছাড়া উটের পাকস্থলী'র ভুলটা সেই যাত্রাতেই আপনি শুধরে দিয়েছিলেন। আমি তো ভেবে রেখেছি কোনদিন যদি আপনার biography লিখি তাহলে ইংরেজিতেই সেটা লিখবো আর বইটার নাম দেবো Camel's Intestine. কেমন হবে বলুন তো?" জটায়ু যথারীতি তাঁর চিন্তাধারায় ফেলুদার সীলমোহর চান। 


"এটাও একটা ছোটখাটো উটের পাকস্থলী হলো বৈকি", ফেলুদা বললো। জটায়ু'র মুখটা চুপসে যেতে দেখে ফেলুদা বললো "আপনি যে উটের কথা ভাবছেন, অর্থাৎ রামদেওরা যাওয়ার সময়ে যাতে চড়ে আপনার গলা শুকিয়ে গেছিলো, সেই এক কুঁজওয়ালা উট'কে বলে Dromedary. আর মূলত চীন আর মঙোলিয়ার দু-কুঁজওয়ালা উট হলো Camel বা Bactrian camel."


"ওই হলো আর কি!", বলে জটায়ু ব্যাপার'টাকে উড়িয়ে দিলেন। "দুটো ব্যাপার কিন্তু নিশ্চিত। আমার প্রথম ভ্রমণকাহিনী'র নাম হবে 'সোনার কেল্লা ফতে', আর সেই বইয়ের ভূমিকা লিখবেন আপনি। কি, লিখবেন তো, ফেলুবাবু?"


"লিখতে পারি, কিন্তু একটা শর্ত আছে। আপনি তো উটের পাকস্থলী ছড়িয়েই যাচ্ছেন, তাই আপনাকে মহাভারত থেকে দুটো প্রশ্ন করবো, সেগুলোর একটারও যদি উত্তর দিতে পারেন, তাহলে লিখবো, নচেৎ নয়।", বললো ফেলুদা।    


"আর যদি দুটোই পারি?" জটায়ু'র গলায় তাঁর চরিত্রের সঙ্গে বেমানান আত্মবিশ্বাস। 


"তাহলে আমি আপনার বইয়ের ভূমিকা'ই শুধু লিখবো না, বই বিক্রি'র জন্য প্রচারও করবো।", বললো ফেলুদা। কিন্তু ওর গলায় একটা খটকা'র সুর অনুভব করলাম যেন। 


"সহজ সরল প্রশ্ন", ফেলুদা বলে চললো। "মহাভারতের যুদ্ধে শ্রীকৃষ্ণ আর অর্জুনের শঙ্খ হলো যথাক্রমে পাঞ্চজন্য আর দেবদত্ত। কেন এই নাম?"


আমি ভাবছি লালমোহনবাবুও আমার মতো হাবুডুবু খাবেন, কিন্তু আশ্চর্য্য, উনি হাততালি দিয়ে "জানি, জানি" বলে উঠলেন। 


"বিষ্ণু একবার পাঞ্চজন্য বলে এক দানবকে চক্রবান পর্বতে বধ করেন। এই পাঞ্চজন্য দানবের বসবাস করার জায়গা ছিলো একটা শঙ্খ, যা তার exoskeleton'ও বলা চলে। সেই শঙ্খ'ই বিষ্ণু নিয়ে নেন। আর শ্রীকৃষ্ণ তো বিষ্ণুরই অবতার, তাই দুইয়ে দুইয়ে চার।", বললেন লালমোহনবাবু। 


আমি হতবাক হয়ে উত্তর'টা ঠিক কিনা জানার জন্য ফেলুদার মুখের দিকে তাকালাম। ফেলুদা মাথা নেড়ে জানালো উনি ঠিক বলেছেন। 


"দ্বিতীয়টা আরও সহজ", বললেন লালমোহনবাবু। "দেবদত্ত মানে দেবতার দান। ময়দানবকে বরুণ দেব এই শঙ্খ দিয়েছিলেন, তারপর খান্ডবদহনের সময়ে অর্জুন তার প্রাণ বাঁচানোয় ময়দানব তাঁকে প্রচুর উপহার দেয়। শোনা যায় এই শঙ্খও ছিলো তার মধ্যে। এই শঙ্খকে বরুণ শঙ্খ'ও বলা হয়।"


এবার ফেলুদাও অবাক। ও আর আমি দুজনেই হাততালি দিয়ে উঠলাম। উটের পাকস্থলীর গিঁট থেকে এভাবেও যে নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়া যায় তা আমি সত্যি ভাবতে পারিনি। ফেলুদাও পারেনি মনে হয়।


"ধন্য আপনি", বললো ফেলুদা৷ "কিন্তু এতো জানলেন কি করে বলুন তো?"


হেসে উঠলেন জটায়ু। "আপনার সঙ্গে ঘুরে আর আপনার গোয়েন্দাগিরি দেখে আমার মগজে তো একটু ধার হতেই পারে, তাই না?", বললেন তিনি। "মাসখানেক আগে যখন আপনাদের সঙ্গে ভিডিও চ্যাট করছিলাম তখন লক্ষ্য করি টেবিলের উপর ডাঁই করা অনেকগুলো মহাভারতের বই। তখনই আমার মনে হয় এর পর আপনার সঙ্গে দেখা করতে এলে আমাকে boy scout'দের মতো 'Be Prepared' হয়েই আসতে হবে। তাই আমাদের সেই বন্ধু, মহাপন্ডিত অম্বর সেন মহাশয়ের থেকে ক্যুরিয়ার করে ওঁর অনেকগুলো মহাভারতের বই ধার করে নিজের কাছে আনিয়ে নিই। অম্বর সেন'কে মনে আছে নিশ্চই? ওই যে, নিজেই নিজের অন্তর্ধান রহস্য সৃষ্টি করেছিলেন যে ভদ্রলোক।"


আমার মনে পড়ে গেলো। সিধু জ্যাঠা আর ফেলুদা ছাড়া উনিই আমার দেখা সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তি। ফেলুদার বুদ্ধি'র মোকাবিলা করতে জটায়ু ভালো লোক'কেই বেছেছেন। 


গল্পগুজব চলতে লাগলো। রাত বাড়লো, আর আমরা ভাইরাস রেস্টুরেন্টের খাবার খেয়ে প্রন ভিন্ডালু'কে দশে পাঁচ, হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি'কে দশে সাত, শাহী পনীর'কে দশে দুই আর ছানা'র জিলিপি'কে দশে দশ দিয়ে হাত মুখ ধুতে গেলাম। 


তারপর আরও কিছুক্ষণ আড্ডার পরে লালমোহনবাবু বললেন, "এবার তাহলে উঠি, ফেলুবাবু। আজকে এখানে এসে খুব ভালো লাগলো। নাহলে রোজ রোজ ভাইরাসে এতো লোকের আক্রান্ত হওয়ার খবর দেখে মনটা ভার হয়ে যাচ্ছিলো। মাঝে মাঝে মনে হয় আনলক না হলেই ভালো হতো। ওটা শুরু হওয়ার পর থেকেই তো হু-হু করে কেস বেড়েছে।"     


ফেলুদা হেসে ফেললো। "WHO-WHO বলতে কি বোঝাচ্ছেন বলুন তো?", ও বললো। "আর যেতে যেতে আরেকটা উটের পাকস্থলী না পাকালেই কি চলছিলো না, লালুদা?"


লালমোহনবাবু World Health Organisation'য়ের ব্যাপার'টা ধরতে না পারলেও আবার সেই উটের পাকস্থলী শুনে চমকে উঠলেন। "আবার কি করলাম?", হতচকিত ভাবে বললেন তিনি।


"আসলে দোষটা আপনার একার নয়। পুরো দেশেই এখন এই ব্যাপার।", বললো ফেলুদা। "বিভিন্ন দলের নেতারা একে অপর'কে দোষারোপ করছে, সংবাদমাধ্যম ভয় দেখাচ্ছে, জনতা বুঝে উঠতে পারছে না ভাইরাসটা বাঘ, শেয়াল, ইঁদুর না ডাইনোসর। কেউ কেউ কোনও নিয়ম না মেনে নিজেদের আর অন্যদের বিপদ ডেকে আসছে, আবার কেউ কেউ অতিরিক্ত ভয়েই নিজেকে কাবু করে ফেলছে।"


লালমোহনবাবু মাথা চুলকে বললেন, "তা হয়তো ঠিক। কিন্তু আনলকডাউন যে আরও বিপদ ডেকে এনেছে সেটা তো মানবেন?"    


"তাই কি?", ফেলুদা বললো। " যখন লকডাউন চলছিলো তখন কিন্তু আপনার গলায় অন্য সুর ছিলো। অন্য সবার মতো আপনিও চাইছিলেন লকডাউনটা তাড়াতাড়ি কাটুক। আর এখন সবাই সবাই'কে বলছে যে লকডাউনটা অসহ্য হলেও কিন্তু আনলকডাউন না হলেই ভালো হতো। তার মানে তারা অনর্থক দুশ্চিন্তা আর সমালোচনা নিয়েই থাকতে চায়, সমাধানে তাদের বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই।"


"কেন এমন বলছো, ফেলুদা?", আমি বললাম। "আমরা সমাধান করবো কি করে?"


"এই যে আমার বারণ সত্ত্বেও তুই মাঝেসাঝেই বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে পাড়ার মোড়ে যাচ্ছিস, সেটা কি সমাধানের অঙ্গ বলে তোর মনে হয়?", ফেলুদা বললো। "একমাত্র সমাধান কিন্তু vaccine নয়, তা হলো break the chain (of infection). আর সেটা কোনও দেশের সরকার বা কোন ওষুধের কোম্পানি নয়, একমাত্র আমজনতাই করতে পারে। আনলকডাউন কিন্তু সংক্রমণ বাড়ায়নি, তা বাড়িয়েছে বিবেচনাহীন মানুষ।"


লালমোহনবাবু তাও হাল ছাড়লেন না। "আপনার কথা না হয় মেনেই নিলাম। কিন্তু গত এক মাসে যে অনেক বেশি কেস হয়েছে সেটা তো মানবেন?", তিনি বললেন।  


"কি করে মানি, বলুন?", ফেলুদা এবার একটু বিরক্ত হয়েই বললো। "লকডাউনের সময়ে কতোজনের পরীক্ষা হয়েছে আর আনলকডাউনে কতোজনের, তার হিসাব কি আপনার কাছে আছে? সেই তথ্য তো সংবাদমাধ্যম'ও লুকিয়ে রাখছে। এমন কি হতে পারে না, যে অনেকেই আগে থেকে সংক্রমিত ছিলো, আর বেশি পরীক্ষার ফলে এখন রোগ ধরা পড়েছে মাত্র? কিন্তু সংবাদমাধ্যম চায় ভয় দেখাতে, তাই 'অশ্বত্থামা হত, ইতি গজ' করেই ছেড়ে দিচ্ছে। অথচ প্রতি একশোটা পরীক্ষায় কতোজন সংক্রমিত আর কাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে, সেটা জনতা জানেও না, জানার আগ্রহও নেই। আমি যদি কোনও gymnasium আর কোন মিষ্টির দোকানে গিয়ে লোকেদের blood test করাই, তাহলে তো মিষ্টির দোকানের খরিদ্দার'দেরই বেশি blood sugar ধরা পড়বে। কিন্তু তার মানেই কি পৃথিবীর সবার diabetes আছে?"


"তার মানে তুমি বলতে চাও যে ভাইরাস নয়, এই 'ইতি গজ' সংবাদমাধ্যমই হলো শত্রু?", আমি বললাম। 


"কিছুটা হয়তো তাই৷ কিন্তু তার চেয়েও বড়ো শত্রু আছে। মগনলাল বা মন্দার বোসের চেয়েও যে দুর্ধর্ষ দুশমন।" ফেলুদা'র মুখটা বিষাদে ছেয়ে গেলো। "তা হলো এই মমতাহীন সমাজ। যারা রুগী'র মৃত্যু হলে তার ভিডিও তুলে চারিদিকে ছড়িয়ে দেয়। আর এখন তো সবাই ভাইরাসের চেয়ে সমাজ'কেই ভয় পাচ্ছে বেশি। রুগীদের পরিবারদের শত্রুপক্ষ মনে করে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে মানুষই তো মানুষের দুশমন হয়ে উঠছে। একে উটের পাকস্থলী বলবো না তো কি বলবো বল তো?"


আমি মাথে নেড়ে সায় জানালাম। লালমোহনবাবু কানে হাত দিয়ে বললেন, "আপনি ঠিকই বলেছেন। আমিও মনে মনে গত একমাস এই সব নিয়ে সমস্ত ভুল ভেবেছি আর অন্যদের ভাবিয়েছি। আর আমার ভুল হবে না। আমি আবারও বুঝলাম কেন আমার ভাগে মগজধোলাই আর আপনার ভাগে মগজাস্ত্র। ধন্যবাদ ফেলুবাবু।"


"একটা কথা বলবো, ফেলুদা?", শেষ কথা আমিই বললাম। "তোমার থেকে আজকে যে শিক্ষা পেলাম, আমার মনে হয় সেটার গল্প লিখে ছাপিয়ে দিলে মানুষের উপকার হবে। গল্পের নাম তো ঠিক করাই আছে - উটের পাকস্থলী। ভালো হবে না?" 


ফেলুদা হেসে উঠলো। লালমোহনবাবু'ও।   


সমাপ্ত

Tuesday, 30 June 2020

Lockdowney Feluda by Anurag Chatterjee (Suspense Line by Line)

 A great attempt by a young fan:



Note: this is my personal blog. The copyright of the story lies solely and entirely with the author.


Saturday, 28 March 2020

Shonku x Feluda by Tapas Chattopadhyay

আজ ফেলুদার ইনবক্স-এ কোনো এক অজ্ঞাত আইডি থেকে ইমেইল এসেছে। সচরাচর ফেলুদা এইধরনের ইমেইল খোলেনা। কিন্তু এই ইমেইলটার লোগোতে সাতরঙা গোল চশমার ছবি দেখে কিছুক্ষণ গম্ভীর হয়ে ভেবে তারপর খুলেই ফেললো।

ইমেইলটার বিষয়বস্তু এইরকম:
১৩ই মার্চ, দুপুর ১টা
"প্রিয় ফেলু,
আমি গত দশদিন ধরে চীনের একটা গোপন ডেরাতে আস্তানা গেড়েছি। যোগাযোগের মাধ্যমেও গোপনীয়তা বজায় রাখতে হচ্ছে, তাই তোমার মেলের উত্তর দিতে দেরি হলো। আমার হঠাৎই এইভাবে চীনে আসা কতদূর সার্থক করতে পারবো জানি না, তবে গত কয়েকদিন যে সব ঘটনা ঘটেছে তাতে কিছুটা আশাপ্রদ বলেই মনে হচ্ছে।
এখানকার ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজির এক প্রফেসরকে প্রায় অপহরণ করেই আমার এই গোপন ডেরাতে নিয়ে এসেছি। কোভিড-১৯ এর মারাত্মক প্রভাবে ওনার অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। আমার মিরাকিউরল প্রয়োগে এখন অনেকটা সুস্থ।
গত কয়েকদিন ধরে আমার রিমেমব্রেন যন্ত্রের সাহায্যে ওই চীনা প্রফেসরের সমস্ত পূর্বস্মৃতি আমি রেকর্ড করেছি। এই কোভিড-১৯ এর আগের সমস্ত বিবর্তিত রূপের ভাইরাসদের সংগ্ৰহ করে আমার মেকশিফ্ট ল‍্যাবরেটরিতে রেখেছি।
তুমি তো জানোই যে একসময় মাইক্রোসোনোগ্ৰাফ দিয়ে আমি টেরাটম্ গ্ৰহের প্রাণীদের, অর্থাৎ ভাইরাসদের সঙ্গে কথোপকথন করতে সক্ষম হয়েছিলাম। সেই পদ্ধতিটি এখানেও প্রয়োগ করেছি, এবং কাল হঠাৎই আংশিক সফল হয়েছি বলতে পারো।
একমাত্র ভাইরাস-ই এই মহাবিশ্বের সমস্ত প্রাণ শেষ করতে পারে ফেলু। এরা নিজেরাও বিবর্তিত হয়, তাই ওই ভাইরাস-রাই বাকি ভাইরাসদের মারতে পারে। এই ভিনগ্ৰহীদের জেনেটিকালি মডিফায়েড করিয়ে নিজেদের মধ্যেই লড়িয়ে দেওয়াই আমার উদ্দেশ্য, যদিও এই যুদ্ধকে 'বায়ো ওয়ারফেয়ার' না বলে 'প্রথম মহাবিশ্বযুদ্ধ' বলাই যুক্তিযুক্ত।
আমি তাই অ্যান্টি-করোনা ভাইরাসদের এক এক করে দলে টানছি। ওদের বশে এনে আমি 'নাকরোনা' সেনা তৈরী করবো। মানবকল্যাণে এটাই হয়তো হবে আমার শেষ এক্সপেরিমেন্ট।
শুভেচ্ছান্তে
ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কু"
পড়া শেষ করে ফেলুদা আমার দিকে ঘুরে বললো, 'বুঝলি তোপসে, জেনেটিকাল মডিফিকেশন আর জেনেটিকালি ইঞ্জিনিয়ারড্ ভাইরাস নিয়ে কাজ অনেক হয়েছে, তবে তার অধিকাংশই বায়োলোজিকাল অস্ত্র তৈরি করতে। এই কোভিড-১৯ ও অস্ত্র হতে পারে, কারণ কিছুদিন আগেই কয়েকজন চাইনিজ বিজ্ঞানীর বিরুদ্ধে কানাডার একটা মাইক্রোবায়োলোজিকাল ল‍্যাবরেটরিতে সিকিউরিটি ব্রিচের অভিযোগ উঠেছিল। এখন প্রফেসর শঙ্কু যদি সেই একই পদ্ধতিতে মানবকল্যাণ করেন,সেটা অন্তত আমার কাছে অপরাধ নয়।'
ইমেইলটা জটায়ুকে পড়াতেই উনি বলে উঠলেন, 'প্রফেসর দেখছি ভাইয়ে ভাইয়ে, আই মিন, ভাই-রাসে ভাই-রাসে লড়াই বাঁধাতে চলেছেন। এব‍্যাপারে তো বাঙালি সিদ্ধহস্ত মশাই। নোভেল করোনাকে বিলুপ্ত করে এইবার বাঙালি আরেকটা নোবেল পাবেই। আর চীনে বসে প্রফেসর যেমন নতুন যুদ্ধকৌশল তৈরী করছেন, তাতে আমার পরের উপন্যাসের নাম-ও ঠিক করে ফেললাম, চায়নায় চাণক্য!'

Note: this is my personal blog. The copyright of the story lies solely and entirely with the author.