Episode 1
সকালে যোগব্যায়াম সেরে বৈঠকখানায় এসে বসতেই ফেলুদা বলল ,"QUARANTINE বানান জানিস?"
সকাল সকাল এরকম একটা বেমক্কা প্রশ্ন শুনে ভ্যাবাচাকা খেলেও সেই ভাবটা কাটিয়ে আমি বললাম, " হ্যাঁ ফেলুদা।ওই তো Q,U,A,R,A,N,T,I,N,E=QUARANTINE।"
ফেলুদা:"good"
"কিন্তু কেন বলছো ফেলুদা? নতুন case পেয়েছো?"
ফেলুদা:"নারে, লালমোহনবাবুর নতুন উপন্যাস ' কলকাতায় করোনা' publish করার আগে পড়তে দিয়েছেন। বানানটা প্রত্যেকবার ভুল হয়েছে।"
আমি কিছু বলতে যাব এমন সময় কলিং বেল বেজে উঠলো। ঘড়িতে দেখলাম প্রায় নটা বাজে। বুঝলাম লালমোহন বাবু।
দরজা খুলতেই হাসি মুখে ঢুকলেন ভদ্রলোক। বললেন,"কি মশাই কেমন হয়েছে উপন্যাসটা?"
ফেলুদা বলল," বেশ কতগুলো spelling mistake ছাড়া বাকি মোটামুটি ঠিক আছে।"
" আসছে পুজোয় বইটা বেরোবে। আচ্ছা মশাই , আপনার কি এখন অবসর? "-------"হ্যাঁ লালমোহনবাবু, এখন আর কে crime করবে?"
এমন সময় দরজার সামনে একটা গাড়ি এসে থামল। আমি উঠে দরজা খুলতে যাচ্ছিলাম ফেলুদা বলল" অত হ্যাংলামো কিসের? বেলটা বাজতে দে। " বলতে বলতেই ক্রিং ক্রিং শব্দে বেজে উঠলো বেল। দরজা খুলতেই ঘরে ঢুকলেন এক মধ্যবয়সী ভদ্রলোক। চুল কাঁচায়- পাকায় মেশানো, পরনে fullsleeve shirt, jeans, মুখে double mask, হাতে gloves,চোখে সোনালি ফ্রেমের চশমা। হাত sanitise করে একটা চেয়ার টেনে নিয়ে প্রায় ছয় ফুট দূরে সরে বসে আমাদের প্রত্যেককে নমস্কার করে বললেন," আপনাদের মধ্যে প্রদোষ চন্দ্র মিত্র কোন জন?"
ফেলুদা ইতিমধ্যেই মাস্ক পরে এসে প্রতিনমস্কার করে বলল " আমিই প্রদোষ চন্দ্র মিত্র।"
ভদ্রলোক বললেন" আমি আপনার খোঁজ পাই আপনার পুরোনো এক মক্কেলের কাছ থেকে। আমি একজন ডাক্তার।নাম শ্যামাপ্রসাদ সেন।আপনার কাছে এসেছি একটি বিশেষ ব্যাপারে।"
ইতিমধ্যে আমি মাস্ক পরে , শ্রীনাথকে চায়ের কথা বলে এসেছি। "বলুন" , ফেলুদা মিনি টেপ রেকর্ডারটা চালু করে দিল। শ্রীনাথ - এর এনে দেওয়া চা খেয়ে ভদ্রলোক বলতে শুরু করলেন।
***
Episode 2
"আমি basically বর্ধমানের বাসিন্দা। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি কলকাতায় থাকছি। কাজের জায়গা অর্থাৎ hospital টা কলকাতাতেই।আপনি জানেন নিশ্চয়ই যে এখন vaccination চলছে। গতকাল এক মাড়োয়ারী অথবা পশ্চিমা ভদ্রলোক এসেছিলেন আমাদের হসপিটালে। যেহেতু আমি সিনিওর most ডাক্তার তাই আমার সাথে দেখা করে পরিচয় দিলেন ব্যবসায়ী হিসেবে। তিনি করলেন এক অন্যায় আবদার। তিনি রেমডেসিভির ,oxygen cylinder এবং দুটি oxygen concentrator কিনতে চান। জনসেবার জন্য।আমাদের হাসপাতালেরই এখন বেসামাল অবস্থা। সুতরাং এই পরিস্থিতিতে আমরা তা করতে পারি না এই বলে ওনাকে অনেক বোঝাতে চেষ্টা করলাম। কিন্তু তিনি এক জেদ ধরে রইলেন।২৫ হাজার পর্যন্ত দিতে রাজী তিনি।"
এই পর্যন্ত শুনেই ফেলুদা বলল, "ভদ্রলোকের নাম কি?"
----- "মেঘরাজ । মগনলাল মেঘরাজ।"
শুনেই আমি চমকে উঠলাম। আবার ওই লোকটা। ওর সাথে আর কতবার মোকাবিলা করতে হবে? ফেলুদা চমকেছে কিনা বোঝা গেলনা। মুখ তো ঢাকা। লালমোহনবাবু জল খেতে গিয়ে মেঘরাজের নাম শুনে বিষম খেয়েছেন।
শ্যামাপ্রসাদবাবু আবার বলতে শুরু করলেন, "আমি রাজী না হওয়ায় ভদ্রলোক বললেন তিনি নিয়েই ছাড়বেন । দুদিন সময় দিয়েছেন। আগামী পরশু ২০ কার্টুন ভ্যাকসিন, ৫ টি concentrator ,১০ হাজার মাস্ক,২৫ হাজার ppe kits,৩০০ oxygen cylinder, ২৫ কার্টুন রেমডেসেভির আসছে। সে কথা তিনি জানেন ।কি করে জানলেন সেটাও আমাদের ভাবনার বিষয়। আমি বাধ্য হয়েই security ডেকে ওনাকে বের করতে পারি।
ফেলুদা: " খুব কড়া মেজাজে কি তিনি কথা বলেছেন? "
-----"তা তো বলেছেন। "
-----" আপনি না করেই ভালো করেছেন। জনসেবার জন্য কিনছেন না। কিনছেন বিদেশে পাচারের জন্য। উনি একজন দালাল। কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করাই ওঁর কাজ। যাওয়ার সময় আপনার whatsapp number আর ফোন নম্বরটা দিয়ে যাবেন।"বলেই ফেলুদা পা'টা এমনভাবে নামালো যাতে ভদ্রলোক আসতে পারেন সেটা বোঝা যায়।
ভদ্রলোক একটা কাগজে নম্বর লিখে চলে গেলেন। লালমোহনবাবু বিরস মুখে শুধু বললেন," আবার মেঘরাজ?"
***
Episode 3
মাঝে মাঝেই আমি আর ফেলুদা আমাদের পুরোনো adventure গুলো নিয়ে আলোচনা করি। পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে মগনলাল মেঘরাজই ওর মতে যাকে বলে জবরদস্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। তিনি যে এতদিন পরে আবার নতুন খেলা দেখাবেন সেটা ভাবিনি। সেটা যথাসময়ে না হয় বলা যাবে।
পরেরদিন কেটে গেল শ্যামাপ্রসাদবাবু সম্বন্ধে কিছু তথ্য জোগাড় করে । ফেলুদা নিজের পুরোনো কিছু ডাক্তার বন্ধুদের কাছে WhatsApp করে রেখেছিল। আজ উত্তর পাওয়া গেল। ভদ্রলোক সত্যিই মস্ত বড় ডাক্তার। দু:স্থ লোকেদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা করেন। কোনো অহঙ্কার নেই। কলকাতায় লেক টেম্পল রোডে এক ফ্ল্যাটের বাসিন্দা।
লালমোহনবাবু এসে বললেন," ঘরে মন থাকতে চাইলো না। তাই চলেই এলুম। Case কতদূর এগুলো?"
ফেলুদা বলল, " সবে তো শুরু। এখন তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।" এরপর আমার দিকে তাকাতেই আমি সকালে আসা সমস্ত তথ্য তাঁকে দিয়ে দিলাম। শুনে ভদ্রলোক তাঁর খুব প্রশংসা করতে লাগলেন।
এত অবধি সব ঠিক ছিল। কিন্তু বোমাটা ফাটল পরদিন সকালে। ঘুম ভাঙতেই দেখি ফেলুদা কার সাথে ফোনে কথা বলছে
-" hello, বলুন।"
-------------
-" সেকী !কি হলো?"
-------------
- " বাকিরা জানে?"
------------
-" আচ্ছা আমি কুড়ি মিনিটের মধ্যে আসছি।"বলেই ফোনে কেটে দিল।
" তাড়াতাড়ি ready হয়ে নে। বেরোতে হবে। পারলে লালমোহনবাবুকেও ফোন করে ডেকে নে। "
লালমোহনবাবু এসে " কি হয়েছে? " জিজ্ঞেস করাতে তাঁকে প্রায় জোর করে ঠেলে নিয়ে গাড়িতে উঠে হরিপদবাবুকে বলল " চলুন লেক টেম্পল রোডে।" এবার আমাদের দিকে ফিরে বলল " মিস্টার সেন। বললেন বিশাল বড় কেলেঙ্কারি হয়েছে। ফোনে সবটা বলা যাবে না বলে বাড়িতে যেতে বললেন।"
***
Episode 4
লেক টেম্পল রোড থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে গেলাম ভদ্রলোকের ফ্ল্যাটে। ফ্ল্যাটের নাম আলেয়া দেখে লালমোহনবাবু বললেন" মশাই, আলেয়ার পিছনে ছোটা কিন্তু অর্থহীন।"
ফেলুদা মেকী ধমকের সুরে বলল" আপনি অর্থহীন কথাবার্তাগুলো বন্ধ করুন তো এখন।"
ফ্ল্যাটে ঢুকতেই ভদ্রলোক অত্যন্ত সম্ভ্রমের সাথে আমাদের আপ্যায়ন করলেন। জানিনা কি হয়েছে তবু আগের দিন দেখা ভদ্রলোকের চেহারার সাথে আজকের চেহারা মেলে না। এরপর ভদ্রলোক বলতে শুরু করলেন" আপনাকে সেদিন যা যা বলে এসেছিলাম, ঠিক তাই তাই আজ ঘটে গেছে। ordered জিনিসের মধ্যে ওই আইটেমগুলো কম। ড্রাইভার দুজনকে রাস্তার ধারে অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া গেছে। গাড়িটা রাস্তার ওপর ছিল। সামনের কাঁচ ভাঙা। পুলিশ উদ্ধার করেছে ড্রাইভারদের এবং গাড়িটাকে। "
এই পর্যন্ত শুনেই লালমোহনবাবু বলে উঠলেন"highly suspesious. "
" উল্টোদিক থেকে একটা ম্যাটাডোর এসে গাড়িটাকে ধাক্কা দেয়। সেই সময়ই চারজন লোক ওদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং chloroform (ড্রাইভারদের কথা অনুযায়ী মিষ্টি গন্ধ মাখা রুমাল) দিয়ে অজ্ঞান করে দেয়। তারপর প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে গেছে।"
ফেলুদা বলল" hospital এর সবাই জানে?"
-" না , শুধু seniour ডাক্তাররা জানেন।panic সৃষ্টি হবে বলে জুনিয়র ডাক্তাররা জানে না। "
----- " ঘটনা স্থল কোথায়?"
-" জি .টি রোডের কাছে।"
-----:" থানায় diary করেছেন?"
-" হ্যাঁ। please আমাদের এ বিপদ থেকে উদ্ধার করুন। শুধু আমরা নয়, সমগ্র মানবজাতি আজ বিপদে।"
------" ok, i will try my best."বলেই উঠে পড়ল। দেখাদেখি আমরাও উঠে পড়লাম।
apartment থেকে বাইরে এসে লালমোহনবাবু
বললেন " মশাই ,এই case কি করে solve করবেন আমার মাথায় আসছে না।"
-" ফেলু মিত্তিরের মাথায় এলেই হবে। "একথার পর ফেলুদা সমস্ত রাস্তা একেবারে নির্বাক।
এরপর সমস্ত দিন ফেলুদা কাটাল medicine সংক্রান্ত বই পড়ে, সিধু জ্যাঠার কাছ থেকে কিছু তথ্য জোগাড় করে, ডাক্তার বন্ধুদের কিছু email,text করে।
পরদিন সকালে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এল ফেলুদা। বুঝলাম যা জানার তা জেনে নিয়েছে। সাহস করে জিজ্ঞেস করলাম" কিছু জানতে পারলে?"
" জেনেছি অনেক কিছু। কিন্তু সবই একটা জায়গাতে গিয়ে জট পাকিয়ে যাচ্ছে। তাই এক জায়গায় যেতে হবে।" বলেই dress change করতে উঠে গেল। যাওয়ার আগে অবশ্য বলল তৈরী হয়ে নিতে।
--- " লালমোহনবাবুকে খবর দেব?"
----" না। যেখানে যাবো ওনাকে না নিয়ে যাওয়াটাই safe।"
বাড়ী থেকে বের হয়ে একটা taxi করে এলাম একটা বাড়ীর সামনে। দেখেই চিনলাম । ফেলুদার সবথেকে প্রিয় প্রতিদ্বন্দ্বী মগনলাল মেঘরাজের বাড়ী। একইসঙ্গে বুঝলাম কেন লালমোহনবাবুকে আনেনি ফেলুদা। কারণ তাঁকে নিয়ে রগড় করাটা এই লোকটার মজ্জাগত।
ক্রমশ
Note: this is my personal blog. The copyright of the story lies solely and entirely with the author.

No comments:
Post a Comment