Showing posts with label Debraj Goswami. Show all posts
Showing posts with label Debraj Goswami. Show all posts

Saturday, 3 July 2021

Jatayur goppo in OTT platform by Debraj Goswami

 আমার গপ্প থেকে এবার ওটিপি মাধ্যমে ছবি হবে জানেন তো ...

ওটিপি ? ফেলুদার ভুরু কুঁচকে গেছে। মানে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড, যেটা অনলাইন ট্রানজাকশান করলে আসে তার কথা বলছেন? 

আরে না মশাই। আজকালকার ছেলেপিলেরা সব মোবাইলেই সিনেমা টিনেমা দেখে দেখেন নি। সেই জিনিস। বললেন জটায়ু। 

বুঝলাম ভদ্রলোক ওটিটি প্লাটফর্মের কথা বলছেন। ভুলটা ফেলুদা শুধরে দেওয়ার পরে ভদ্রলোক একটু বিরক্ত হয়েই বললেন ‘ওই হল মশাই। পুলক ছোকরা লিখেছে যে এই করোনার ঠ্যালায় এমনি ফিলিমের বাজার নাকি মন্দা, তাই এবার ওই ওটিপি থুড়ি ওটিটি প্লাটফর্মে নাকি ছবি করবে। গপ্পটা আমাকেই লিখতে বলেছে অবিশ্যি, কিন্তু বললে আজকালকার ছেলেপিলেরা দেখবে তো, তাই তেল মশলাটা একটু ভালকরে ঢালতে। তা আমার লেখায় তো মশাই তেল মশলা চিরকালই বেশী, তার পরেও যে পুলক ছোকরা ঠিক কি চাইছে ধরতে পারলুম না। তবে ওইই বললে এ ব্যাপারে আপনার সঙ্গে আলোচনা করতে ।’ 

ফেলুদা চায়ের কাপটা শেষ করে একটা চারমিনার ধরিয়ে কয়েকটা ধোঁয়ার রিং ছাড়লো, তারপর বলল ‘পুলকবাবু বোধহয় গল্পের থিমটাকে আরো ডার্ক করার কথা বলছেন’। 

‘ডার্ক’!! লালমোহনবাবু স্যানিটাইজার মাখা হাতে খানিকটা ডালমুট মুখে ফেলেই, তেতো লাগার জন্য কিনা জানিনা মুখটা বিকৃত করলেন। 

‘ডার্কটা কি ব্যাপার মশাই ?’

‘সে অনেক ব্যাপার, বলল ফেলুদা। তবে আপনি লোডশেডিং এর ডার্ক চাইছেন না ব্ল্যাকহোলের ডার্ক চাইছেন সেটা আগে ঠিক করতে হবে ।’

‘তা আপনার ইয়ে ওই ডার্কহোলেই মানে ব্ল্যাকহোলেই কার্যসিদ্ধি হয়ে যাবে বলছেন? 

‘না আরও আছে, নোট করে নিন’। 

লালমোহন বাবু হাতটা ঝেড়ে নিয়ে পকেট থেকে লাল খাতা আর সোনালী পেন্সিল বের করলেন।

‘লিখুন – অবৈধ যৌন সম্পর্ক চাই – অফিসের সহকর্মী, পাড়ার বৌদি যা হোক। প্রতিহিংসা চাই। গোটাকতক খুনের দৃশ্য চাই। তার মধ্যে একটা মবলিঞ্চিং এর দৃশ্য হলে ভাল। একটি অসহায় লোককে অনেকে মিলে পিটিয়ে মারছে এই দৃশ্য আজকাল মানুষ খুব উপভোগ করে। রক্তপাত চাই। যেমন হনুমান হালুইকরের রক্তের ছিটে রাবড়ির রসে পড়ে রস গোলাপি হয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন তেমন ফিনকি দিয়ে ওঠা রক্তের ছিটে ক্যামেরার লেন্সে লেগে গড়িয়ে পড়ার দৃশ্য রাখতে পারলে ভাল হয়। আর সব শেষে চাই একটা রক্ত মাথায় উঠে যাওয়া এন্ডিং। যাতে দেখার পরে দর্শকের মাথায় খুন চেপে যায়, সে দর্শক থেকে কিছুক্ষণের জন্য ধর্ষক বা ক্রিমিনাল হয়ে ওঠে। তবে তার আগে কাঁচা খিস্তির বন্যা বইয়ে দিতে পারলে শেষটা জমে ভালো। - বুঝেছেন তো ?’              

--

This piece was written in the aftermath of the release of Season 1 of "Ray" on Netflix: 

The 2 stories adapted by Srijit Mukherjee are especially terrible. See Anupama Chopra's review that captures this well.




Friday, 27 April 2018

Byomkesh meets Feluda by Debraj Goswami

ব্যোমকেশ ও ফেলুদা , প্রথম আলাপ

১৯৬৭ সাল । ফেলুদার গোয়েন্দাগিরির একেবারে প্রথম যুগ । শ্যামপুকুরের কৈলাস চৌধুরীর কেসটার সমাধান করেছে ফেলুদা মাত্র কদিন আগেই ।তখন আমরা তারা রোডের বাড়িতে থাকি ।সকালের দিকে মাঝে মাঝে লেকে হাঁটতে যাই । তারপর একটা বেঞ্চিতে গিয়ে বসি । সিধু জ্যাঠা এসে পড়েন ইতিমধ্যে । ঘণ্টা খানেক আড্ডা দিয়ে বাড়ি ফিরে আসি । মাত্র মাস তিনেক আগেই এই লেকের ধারটা ছিল জনশূন্য । পর পর বেশ কয়েকটা খুনের ঘটনা ঘটেছিল তখন । তারমধ্যে একটা তো একেবারে এই বেঞ্চিগুলোরই একটার ওপরে । একজন দিনমজুর ঘুমচ্ছিল । তার পিঠের বাঁ দিকে শজারুর কাঁটা ফুটিয়ে দিয়ে তাকে খুন করা হয় । খবরটা কাগজে পড়ে ফেলুদা আমাকে সঙ্গে নিয়ে খুনের যায়গাটা দেখতে গিয়েছিল । ওই বেঞ্চির কাছাকাছি ঘাসের মধ্যে একটা পোড়া সিগারেট খুঁজে পেয়েছিল ফেলুদা । সেটা দেখে ও বলেছিল , যদি সিগারেটটা খুনি খেয়ে থাকে তাহলে দেখবি লোকটা বেজায় কৃপণ ।

কি করে বুঝলে ?

দ্যাখ যারা নিয়মত সিগারেট খায় , কতটা খাওয়ার পর সেটা ফেলে দেবে তার একটা নিজস্ব হিসেব থাকে । যদি অ্যাশট্রেতে পোড়া সিগারেটগুলো লক্ষ করিস দেখবি সেগুলোর মাপও মোটামুটি এক । কিন্তু যারা মাঝেমাঝে খায় বা খুব কম খায় এবং একটু হিসেবি তারা দেখবি চট করে ফেলে দেয় না , পারলে প্রায় ফিল্টার পর্যন্ত টেনে শেষ করে, তারপর ফেলে । এখানেও তাই। যায়গাটা কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস হলে অন্যরকম ভাবতাম , কিন্তু ফিল্টারে পানের পিক লেগে রয়েছে । কাজেই যে খেয়েছে সে হয় কৃপণ অথবা তার অর্থনৈতিক অবস্থা খুব একটা ভাল নয় ।

এর পরেও আর একটা খুনের ঘটনা ঘটেছিল একই ভাবে । তারপর কাগজ পড়েই জানতে পারি খুনি ধরা পড়েছে । খুনি একজন গায়ক , নাম প্রবাল । আমরাও রেডিওতে তার গান মাঝে মাঝে শুনেছি । তার সম্পর্কে যে বর্ণনা বেরিয়েছিল সেটা ফেলুদার অনুমানের সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছিল । ও কিছু বলে নি , শুধু একপেশে হাসিটা হেসেছিল । আমি জানি এই কেসটা ওর হাতে এলে ও এটার সমাধান অনায়াসেই করতে পারত । কিন্তু এই কেসটার সঙ্গে একজন নামকরা ব্যাবসায়ির পারিবারিক ঘটনা জড়িত ছিল । তারা বিখ্যাত ব্যোমকেশ বক্সিকে কাজের ভার দিয়েছিল এবং উনিও ওঁর স্বাভাবিক দক্ষতায় খুনিকে ধরে দেন । খবরটা বেশ বড় করে বেরিয়েছিল কাগজে ।

এর কিছুদিন পরে আমরা লেকের ধারে হাঁটছি , এখন যায়গাটা আবার আগের মতই জনপ্রিয় , কারন শজারুর কাঁটার খুনি ধরা পড়েছে , ফেলুদা একজনকে দেখে দাঁড়িয়ে পড়ল । বছর পাঞ্চান্ন বয়েসের সাদা ধুতিপাঞ্জাবি পরা এক ভদ্রলোক । উন্নত নাক , চোখে একটা মোটা চশমা , শার্প চেহারা , কানের পাশের দিকের চুলে অল্প পাক ধরেছে , কিন্তু চামড়া টানটান । লেকের দিকে মুখকরে একটা বেঞ্চিতে বসে আছেন । ফেলুদা ওঁর দিকে এগিয়ে গেল ।

নমস্কার , আপনি কি ব্যোমকেশ বাবু ?

আজ্ঞে হ্যাঁ , প্রতি নমস্কার করে বললেন ভদ্রলোক ।

আমার নাম প্রদোষ চন্দ্র মিত্র , আমি কাছেই তারা রোডে থাকি ।

ব্যোমকেশ বাবুর ভ্রু কুঁচকে গেল । প্রদোষ মিত্তির । মানে আপনার নামই তো ফেলু ? আপনার আর আমার পেশা তো একই তাইনা ? আপনি তো সম্প্রতি কৈলাস বাবুর কেসটা সলভ করেছেন ?

আজ্ঞে হ্যাঁ , আমাকে আপনি বলবেন না । আমি বয়েসে আপনার থেকে অনেকটাই ছোট ।

বেশ বেশ ,তা তুমি তো বেশ বুদ্ধিমান ছেলে ।

কিন্তু কৈলাসবাবুর কেসটা তো কাগজে বেরোয় নি । আপনি কি করে জানলেন ব্যাপারটা ?
ব্যোমকেশ বাবু আমাদের ওঁর পাশে বসার ইশারা করে একটু মুচকি হেসে বললেন সেই ব্লু বেরিলের কেস তো ? আচ্ছা তুমি তো আমাকে চেন , খবর রাখো , আন্দাজ কর দেখি কিভাবে আমি খবরটা পেলাম ।

ফেলুদা একটু ভেবে বলল , আচ্ছা আপনাদের একটা বইয়ের ব্যাবসা আছে না , কলেজ স্ট্রীটে । অজিতবাবু সেটার দেখাশোনা করেন । কৈলাস বাবুর লেখা শিকারের বইও বইপাড়া থেকেই ছেপে বেরোয় । মানে ওঁর ওই পাড়ায় যাতায়াত আছে নিয়মিত । তাহলে কি অজিতবাবুর সুত্রে আপনাদের আলাপ আছে ?
শাবাশ । তোমার অনুমান নির্ভুল । আসলে অজিত কৈলাস বাবুর লেখা একটা বই ছাপার জন্য ওঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে । সেই সুত্রে আমার সঙ্গেও আলাপ হয় । উনি আমার কাছেই এসেছিলেন প্রথমে । কিন্তু তখন আমি শজারুর কাঁটার কেসটা নিয়ে খুব ব্যাস্ত । অমৃতবাজারে তোমার দেওয়া বিজ্ঞাপন আমি পড়েছিলাম । আমিই ওকে সাজেস্ট করি তোমার কাছে যাওয়ার জন্য । আর আমার নামটা উহ্য রাখতে বলি যাতে তোমার ওপর কোন অতিরিক্ত চাপ না আসে । আমি কেসটা নিলে কেদার সুবিধে করতে পারতো না কারন আসল কৈলাসবাবুর সঙ্গে আমার আগেথেকেই আলাপ ছিল । গোয়েন্দা পাল্টে যাওয়ার সুযোগটাই ও নিয়েছিল । কিন্তু তুমি তো দক্ষতার সঙ্গেই কেসটা সমাধান করেছো , এবং তোমার অজান্তেই আমার মুখরক্ষা করেছো । কৈলাসবাবু পরে ফোন করে সব বর্ণনা দিয়ে তোমার দারুন প্রশংসা করেছেন । তুমি কি খুব ব্যাস্ত , তা না হলে চল , কাছেই আমার বাড়ি , চা খাবে ।

ফেলুদা বলল আমি জানি আপনার বাড়ি কেয়াতলায় । কিন্তু আজ নয় আগামী কাল যাব আপনার বাড়ি যদি অসুবিধে না থাকে । আসলে আমার এক জ্যাঠামশাই রোজ এখানে আসেন আমাদের সঙ্গে দেখা করতে , তাঁকে বলা নেই , না দেখতে পেলে হয়তো চিন্তা করবেন ।

ব্যোমকেশ বললেন তথাস্তু , তাহলে কাল সকালে এইখানেই চলে এস , তারপর একসঙ্গে যাওয়া যাবে ।
এই ছিল ফেলুদা আর ব্যোমকেশ বক্সীর প্রথম আলাপ । ১৯৬৭ সালে ব্যোমকেশ যখন শজারুর কাঁটার কেসটা সলভ করেন তখনই ফেলুদা কৈলাস চৌধুরীর পাথরের কেসটা পায় । পরদিন যখন আমরা ব্যোমকেশ বাবুর বাড়ি যাই সেটাও ছিল এক দারুন অভিজ্ঞতা । অন্য একদিন সে গল্প বলবো ।