Please note this is my personal blog. The objective of this personal blog is to have an online archive of all the fan fiction stories / pastiches that’s been written about Feluda for my personal consumption on the go. Therefore, searching for this blog via search engines has been turned off. If you have reached my blog, please be aware that I do not claim any copyright to any of the content here. The copyright lies solely and wholly with the author/creators/other appropriate holders etc.
Monday, 10 May 2021
Jatayu x Tintin - Eita Sheita Ray by Tanmoy Dutta
Thursday, 23 July 2020
Dragon o chinnamasta by Finding Felu
টিনটিনীয় উপলব্ধি সিরিজ - একটি Finding ফেলু নিবেদন
উপলব্ধি ২ - ড্রাগন ও ছিন্নমস্তা
------------------------------------------
ফেলুবাবু বললেন আজকাল যেমন ওয়েব সিরিজের ট্রেলার, টিজার বেরোয় দর্শকের মনে সুড়সুড়ি দেওয়ার জন্য তেমনি লেখার শুরুতে পাঠকদের একটা প্রশ্ন ছুড়ে দিতে। তা আমার ধারণা এই প্রশ্নটা শুনে বেশির ভাগ পাঠকই মাথা চুলকাবেন .. তবুও
ফেলুবাবুর কথা, তাই জুড়ে দিলাম, বলুন তো দেখি পুন্ডরীক, কোকোনদ আর ইন্দীবর মানে কি?
ভনিতা ছেড়ে আসল কথায় আসি, ল্যান্ড অফ ব্ল্যাক গোল্ড পড়বার পর থেকে, এই বুড়ো বয়সে টিনটিনের গল্প ভালো লাগছে শুনে, তপেশ ভাই ফুল সেট পাঠিয়ে দিয়েছে আমায় ক্যুরিয়ার করে l
তারই একখানা নিয়ে সবে পাতা ওল্টাতে আরম্ভ করেছি, আর প্রথম ছবিটাই যাকে বলে উফ্... টিনটিন কি শেষমেষ আমাদের এই উত্তর কলকাতাতেও ঘুরে গ্যাছে নাকি মশাই। একটা মন্দিরের ছবি, দেখেতো আমার মনে হল রাজা দিনেন্দ্র স্ট্রিটের জৈন মন্দিরের আদলে আঁকা, এ্যাথেনিয়ামের তুলসী বাবু যখন কলকাতায় থাকতেন ( রিটায়ারমেন্টের পরে তো উনি গোঁসাইপুরে চলে যান) তখন গড়পাড় থেকে প্রায়ই হেঁটে হেঁটে যেতাম ওনার বাসায় ওই চা আর বেগুনি সহযোগে আড্ডার জন্য .. , তা ওই মন্দিরটা পেরিয়েই যেতে হতো তো... বইতে অবশ্য দেখছি জায়গাটার একটা অদ্ভূত নাম দিয়েছেন হার্জ সাহেব... গায়েপাজামা, ( আমি ভ্যাঙ্কুয়ারের ভ্যাম্পায়ার নাম দিলেই ফেলুবাবুর যতো সমস্যা অথচ দেখুন হার্জ সাহেবের নামকরণের স্টাইল ) ওখানকার মহারাজার অতিথি হয়ে রয়েছে টিনটিন l ফেলুবাবু অবশ্য ফোনে বললেন জৈন টেম্পেলগুলোর আর্কিটেক্চারের কিছু কমন ফিচার আছে, আর তাই হয়তো বইয়ের ছবি একই রকম লাগছে। ফেলুবাবু যাই বলুন না কেন, আমি বলছি আপনাদের.. দিস ইজ হাইলি সাসপিসাস... আমার বিশ্বাস হার্জ সাহেব এসেছিলেন আমাদের এই উত্তর কলকাতায়, আপনারা নিজেরাই পারলে দেখুন না ছবি গুলো (হ্যাঁ মশাই জানি এই লকডাউনের মধ্যে, রাজা দিনেন্দ্র স্ট্রিটে যাওয়া মুস্কিল, আর তাই তো Finding ফেলু টিমের ছেলে ছোকরারা ছবি জোগাড় করে এনেছে) ।
পাতা ওলটাতে ওলটাতে চোখ আটকে গ্যালো একটা ছোট্ট ছবিতে। একটা জাহাজের ছবি, টিনটিন উঠবে ওই জাহাজে.. কিমআশ্চর্যম জাহাজের নাম কিনা S S Ranchi , ছবিটা চোখের কাছে এনে দেখলাম হ্যাঁ ঠিকই দেখছি, গন্তব্য বোমবাই! আর সেই জাহাজ ছাড়ার পরেই টিনটিন পড়ল বোমবেটেদের খপ্পরে l বুঝুন ব্যাপারটা.. আমার তো ক্যামন একটা ইয়ে.. মানে ওই আর কি... তা রাঁচির কথায় মনে পড়লো সেবার আমরা থ্রি মাস্কেটিয়ার্স রাঁচির অ্যাম্বার হোটেলে এক রাত কাটিয়ে তারপর গেছিলাম হাজারিবাগ... তারপর তো সেই ছিন্নমস্তা নিয়ে... আপনারা সে খবর ভালো করেই জানেন l কিন্তু বলছি মশাই এ আমার কল্পনা শক্তি না টেলিপ্যাথি, রাঁচির থেকে ছিন্নমস্তার কথা মাথায় যেই এলো ওমনি দেখছি টিনটিনর বইতে ইয়া বড়ো এক তরওয়াল দিয়ে এক বিচ্ছু টিনটিনের মস্তকটাই ছিন্ন করার চেষ্টা করছে, বলে কিনা 'I only have to cut your head off!'... তা টিনটিনেরওতো মগজাস্ত্র ফেলুবাবুর মতোই তীক্ষ্ম, আর কাজেই ছিন্ন মস্তক করা কি এতই সোজা।
আমি তো এদিকে টিনটিন আর আমাদের অ্যাডভেঞ্চারের মিল বের করার খেলায় মেতে উঠেছি, ফ্ল্যাশব্যাকে মনে পড়লো আমাদের কাহিনীর মহেশ চৌধুরীর সংকেতের সাহায্যে কথা বলার অভ্যাস, ওনার ডায়েরির নানান হেঁয়ালি সমাধান করেই তো ফেলুবাবু সেবার কেল্লাফতে করলেন। আর কি কাকতালিও ব্যাপার... গল্পের টিনটিন ও কিন্তু সংকেত উদ্ধার করেই খোঁজ পেয়ে গ্যালো সাংঘাইয়ের কুখ্যাত আফিঙের আড্ডা l
কি এইবারে নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন কোন বইটা দেখছি আমি, হে হে ঠিকই ধরেছেন দ্যা ব্লু লোটাস্... তাহলে এই বারে ঝটপট বলে ফেলুন দেখি ফেলুবাবুর দেওয়া ট্রেলারের প্রশ্নখানা।
আর একটা কথা বলে আজকের মতো শেষ করি, আমি কিন্তু আরো কয়েকটা অদ্ভূত মিল খুঁজে পেলাম আমাদের ছিন্নমস্তা অভিযান আর টিনটিনের ইন্দীবর-এ... এই দেখেছেন ছি ছি মুখ ফসকে.. বলেই ফেললাম l
ঠিক আছে আর কোনো কথা নয়.. বাকি মিল গুলো খুঁজে পেলে জানাবেন আমাকে... আর একটা প্রশ্ন ওই যে জাহাজের নামের শুরুতে S S, ওইটা কি কিছু জানেন.. খোঁজ পেলে একটু প্লিজ জানাবেন.. সব কিছু কি আর ওনাকে জিজ্ঞেস করা যায়?
আর কোনও প্রশ্ন নয়। খালি একটা কথা, তপেশ ভাই বলছিল ছিন্নমস্তা নাকি ওয়েব সিরিজ হচ্ছে, তা কবে দেখাবে জানেন নাকি আপনারা? ইশ দেখেছেন আবার প্রশ্ন করে ফেললাম.. ছি ছি.. তবে কি জানেন ফেলুবাবু কে নিয়ে প্রশ্ন করাই যায়, কি বলেন আপনারা?
Saturday, 4 July 2020
Tintin o Telepathy by Finding Felu
টিনটিনীয় উপলব্ধি সিরিজ - একটি Finding ফেলু নিবেদন
উপলব্ধি ১ - টিনটিন ও টেলিপ্যাথি
------------------------------------------
আপনারাতো সব্বাই জানেন আমার মাথা জোড়া টাকটা কেন? ইয়েস ঠিক ধরেছেন স্রেফ গল্পের প্লট খুঁজতে গিয়ে মাথার চুল ছিঁড়ে ছিঁড়ে। তা এই গৃহবন্দি থাকতে থাকতে বেশ এক গাল দাড়ি গজিয়ে উঠেছিল জানেন তো, কিন্তু আজকে সকালে উঠেই একেবারে সব ক্লিন করে নিয়েছি.. উফ বাবা.. এখন নিশ্চিন্ত.. কেন হঠাৎ দাড়ি কাটলাম? সে কথাই তো বলছি মশাই শুনুন না..
ফেলু বাবু যতোই বলুন আমার লেখা গুলো থোড় বড়ি খাড়া, উনি এটাও স্বীকার করেছেন গপ্পোগুলো কিন্তু মশলা আর পরিপাকের গুনে রীতিমত উপাদেয় হয় আর তা যদি না হত তাহলে কি আর মশাই এই এতো গুলো এডিশন... থাক্ নিজের বইয়ের স্যাটিস্টিক্স নিজে দিয়ে আর কাজ নেই...
আর ওই একটু বাইরে ঘোরাঘুরি না করলে আবার ফ্রেশ প্লট ঠিক মাথায় খেলে না, তা এই লকডাউনে তো ঘোরাঘুরি সব ভার্চুয়াল হয়ে গ্যাছে তাই একটু বিদেশী থ্রিলার থেকে ইয়ে মানে.. বুঝতেই পারছেন... হে হে..
বই এর আলমারি ঘাটতে ঘাটতে সেদিন পেলাম এক খানা টিনটিন, হয়তো তপেশ ভাইয়ের দেওয়া আগে ভালো করে দেখা হয় নি... তা মশাই যা পেলাম তা তো একেবারে থ্রিলিং।
সেই প্রথমবার রাজস্থানের অভিযানে মনে হয় তপেশ ভাই এই ল্যান্ড অফ ব্ল্যাক গোল্ডটাই পড়ছিল। মরু অভিযানের প্রস্তুতির জন্যেই হয়তো ওই বইটা সঙ্গে নিয়েছিলো। বই তে টিনটিন পুরো খেমেডের মরুভূমি চষে ফেলেছিল কালো সোনার রহস্য সমাধান করতে, আর ভাবুন আমরা থ্রি মাস্কেটিয়ার্স পুরো থর-ও-হরি-কম্প করলাম রাজস্থান জুড়ে সোনার কেল্লা টা খুঁজতে, আর টেলিপ্যাথির এমনি জোর সেই বছরই প্রকাশিত দুর্ধর্ষ দূষমনে আমি প্রখর রুদ্রকে ফেলেছিলাম গোবি মরুভূমিতে। গোবি, সাহারা , থর.. মানে থর-এ থর-এ সব মরুভূমি একসাথে সাজানো... আবার ভাবুন আমরা এদিকে ছোট্ট মুকুলকে উদ্ধার করছি, ওদিকে টিনটিন আবার শেখের ছেলে ছোট্ট আবদুল্লা কে খুঁজে বেড়াচ্ছে।
বইটা উল্টে পাল্টে তো আগে দেখিনি, এখন দেখলাম টিনটিন সাহারাতে ঘোড়া এ চড়ে পুরো একটা ডেসার্ট চেজ করলো দুষ্টু লোকেদের ধরতে আর আমরাও কি কম যাই নাকি .. দুষ্টু লোকেরা আমাদের কে রাজস্থানের ডেসার্টে ডেসার্টেড করবে ভাবলো, তো ফেলুবাবু নিয়ে এলেন উট, তারপর আমাদের সেই ফেমাস ব্যাপারটা.. এখনো এত বছর বাদে ভাবলেও মশাই গায়ে কাঁটা দেয়..
এখনও ভাবছেন তো সাত সকালে দাড়ি কেন কাটলাম..
বলছি শুনুন... সবচেয়ে রোমহর্ষক যেটা দেখলুম মশাই সেটা হল গিয়ে ল্যান্ড অফ ব্ল্যাক গোল্ডে দুষ্টু লোকটাকে দেখে, আরে বাবা বইয়ের প্রচ্ছদটা একবার বার করে নিজেই দেখুন না লাল রঙের জীপে টিনটিনের পাশেই বসে আছে, চকচকে টাক মাথা আর এক মুখ কালো দাড়ি... কি, কিরকম একটা অদ্ভূত মিল না আমাদের কেল্লা ভিলেন দুষ্টু নকল ডক্টর হাজরার সাথে.. পাতা উল্টে দেখি এর নাম নাকি আবার ডক্টর মুলার... বলছি মশাই একেই কি বলে টেলিপ্যাথি!
টাক মাথা প্লাস মুখে দাড়ি ইজ ইকিউলটু দুষ্টু লোক, এর পরেও দাড়ি না কেটে থাকা যায় নাকি মশাই!
আমার তো ওই যাকে বলে আইজ পুরো ফোরহেড এ উঠে গ্যাছে এই সব দেখে, আপনাদেরও কি তাই?
অনুপ্রেরণা (ছবি)
---------------------
রাজিব দাস (সোনার কেল্লা ফ্যান আর্ট)
ফেলুদা, লালমোহন (সত্যজিৎ রায় - বিভিন্ন ফেলুদা গল্প)
টিনটিন (হার্জ - Tintin in America, Land of Black Gold)
Saturday, 20 June 2020
Inca chakra by Finding Felu
~~~~~~~ইনকাচক্র~~~~~~~~
গত কয়েকদিন ধরেই টিনটিনে মজে ছিলাম আমি। আজও সকাল থেকেই Prisoners of the Sun নিয়ে বসেছিলাম আর এতটাই মগ্ন হয়ে গিয়েছিলাম যে ফেলুদা কখন সামনের সোফাটায় এসে বসেছে খেয়াল করিনি।
চমক ভাঙলো ফেলুদার কথায় - "জানিস তো ইনকারা ছিলো সূর্যের পূজারী।"
আমি বললাম, "ভাগ্যিস, আর তাই তো কাগজের টুকরো থেকে আসন্ন সূর্যগ্রহণের তারিখ আর সময়টা সংগ্রহ করে, ইনকাদের বোকা বানিয়ে, সকলের প্রাণ বাঁচাতে পেরেছিল টিনটিন।"
"একদম ঠিক বলেছিস।" সূর্যগ্রহণ টিনটিনের প্রাণ বাঁচিয়েছিলো যেমন ঠিক সেরকমই এক ভারতীয় মহাকাব্যের চরিত্রকেও বাঁচিয়েছিলো আত্মহত্যা থেকে ... বলতে পারবি কোন মহাকাব্য আর কোন চরিত্র?" প্রশ্নটা ছুঁড়ে দিয়ে চারমিনারে টান দিয়ে রিঙ বানাতে ব্যস্ত বয়ে পড়লো ফেলুদা।
বেশ খানিক্ষণ ভেবেও যখন কিছু মাথায় এলো না ফেলুদাকে বললাম, "তুমিই বলো..!!"
ফেলুদা বললো, "মহাভারতে জয়দ্রথ বধ মনে পড়ে?"
"সে তো কৃষ্ণ সুদর্শন চক্র দিয়ে সূর্য ঢেকে দিয়েছিলেন..." আমতা আমতা করে বলে উঠলাম আমি।
"আচ্ছা এই সুদর্শনচক্র দিয়ে সূর্য ঢেকে দেওয়া - এটা একটা অবাস্তব কল্পনা নয় কি? এটাকে রূপক হিসেবে যদি ধরা যায়, তাহলে আমরা ধরে নিতে পারি ঐ সময়ে একটা পূর্ণগ্রাস সূর্য গ্রহণ হয়েছিল। আর কৃষ্ণ সেই খবরটা আগাম জানতেন। তাঁর সুদর্শন দিয়ে সূর্য ঢাকা আর সূর্যের পূর্ণগ্রাস গ্রহণ মিলিয়ে দে। দেখবি , দুয়ে দুয়ে চার।" - ফেলুদা বলে উঠলো। "পৃথিবীর প্রত্যেক পুরাণেই সূর্যগ্রহণ নিয়ে কিছু কিছু গল্প পাবি ... বুঝলি তোপসে ....!!! নর্স পুরাণ অনুসারে, ক্ষুধার্ত একটি নেকড়ে এসে সূর্যকে খেয়ে ফেলে। আবার কোরিয়ান মাইথোলজিতে এই নেকড়ের বদলে কুকুর, এসে আকাশ থেকে সূর্যটাকে চুরি করে নিয়ে যায়। কিন্তু আসলে তো সূর্যগ্রহণ মানে পৃথিবীর উপরে চাঁদের ছায়া।যেমনটা কাল হতে চলেছে।"
ফেলুদা আর আমি তো কাল সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য তৈরী... আপনারা....???
Tuesday, 27 June 2017
Belgiumer Aguntuk by Snehajit Lahiri
বেলজিয়ামের আগন্তুক
স্নেহজিৎ লাহিড়ী
...................................................................................................
।১।
-হ্যালো!আমরা এয়ারপোর্ট থেকে রওনা দেব কিছুক্ষণের মধ্যেই,আশা করি ঘন্টা দেড়েক এর মধ্যে আপনার বাড়ি পোঁছে যাব।
-(প্রতীক্ষা)
-হ্যাঁ ওনারা তিনজনেই ঠিকমতো এসেছেন,পৌঁছে কথা হচ্ছে তাহলে?
-(প্রতীক্ষা)
-ওকে বাই !
এই বলে নিজের বানানো সুপারস্মার্ট ফোনটা প্যান্টের পকেটে চালান করলেন প্রোফেসর ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কু।জিনিসটার নাম রেখেছেন শ্যঙ্কোবেল।নিজের আর টেলিফোনের আবিষ্কর্তা গ্রাহাম বেলের নাম দিয়ে এই মোবাইলটির নাম রেখেছেন।গত বছর বার্লিনে এই অদ্ভুত ফিচার সমেত ফোনটি সায়েন্স কনফারেন্সে দেখানোর পর,অ্যাপেল ও অনান্য স্মার্টফোন বিক্রয়কারী সংস্থা গুলির পেটেন্ট নিতে একেবারে লঙ্কাকাণ্ড বাধিয়ে দিয়েছিল।অনান্য যন্ত্র গুলোর মত এটির ক্ষেত্রেও না বলে দিয়েছেন তিনি।তিনি যে প্রফেসর শঙ্কু,আবিষ্কারেই তার সুখ,অতিরিক্ত পয়সার লোভ কোনকালেই তার নেই।আর এ জিনিস বাইরে গেলে সাধারণ মানুষের আলসেমিটা আরও বাড়বে বই কমবে না।কাজেই সবাইকে প্রস্তাব নস্যাৎ করে দিয়েছেন প্রোফেসর।
এতক্ষন নিজের অত্যাধুনিক গাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন শঙ্কু।ভয়েস রেকগনিশন টেকনোলজির গাড়ি,একমাত্র তাঁর গলার ওপেন,ক্লোস,স্টার্ট ইত্যাদি কিছু কি-ওয়ার্ড দিয়েই গাড়িটিকে অ্যাক্টিভেট করা যায়।ওপেন বলে দরজা খুলে ড্রাইভিং সিটে বসলেন তিনি। পেছনে ঘুরে দেখলেন তিন অতিথি ততক্ষনে বেশ মানিয়ে গুছিয়ে নিয়েছেন।ভেতরে অনেকটা বড় জায়গা,যেটা বাইরে থেকে দেখে আঁচ করার উপায় নেই মোটেই।ইচ্ছে মত সিট গুলো ছোট বড় করা যায়,ইচ্ছে হলে একটা ক্যাম্প খাটের মত করে চার পাঁচ জন অনায়াসে ঘুমিয়ে নিতে পারে।
“Well gentlemen we need one and half hour to reach, you may sleep or you may enjoy the beauty of Kolkata”- বললেন শঙ্কু ।
“প্লিস শঙ্কুবাবু,বেঙ্গলিতে বলুন ।আমি ওদের দুজনকেই বাংলা শিখিয়েছি।আর আমি নাবিক,আমি অনেকদিন ধরে এ ভাষা জানি। টেগোর পড়েছি আর শুনেছি আমি ।” এই বলে ভদ্রলোক হেঁড়ে গলায় গাইতে লাগলেন “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি...”
-“আহ ক্যাপ্টেন বিরক্ত করো না তো।চুপ করে শুয়ে থাকো,আর এই যে প্রোফেসর,আপনিও বিশ্রাম করুন।কি যে পেন্ডুলাম দোলাচ্ছেন প্লেন থেকে,ভগবানই জানেন।শঙ্কুবাবু আপনি চলুন।”বছর আঠারোর এই ছেলেটির কথা অনেক শুনেছেন শঙ্কু।কিন্তু চাক্ষুষ এই প্রথম।এবং প্রথম দর্শনেই বুঝতে পারছেন এইটুকু বয়সের ছেলেটার সাহস ,মনের জোর,কথা বলার ভঙ্গী ক্যাপ্টেনকেও কেন দমিয়ে রাখে।
গাড়িটিকে অটোড্রাইভ মোডে দিয়ে ,অ্যাড্রেস স্পিকারে বললেন,-“21 রজনী সেন রোড ।”
।২।
“মশাই একটু আগে কে ফোন করেছিল?আপনি কাদের জন্য অপেক্ষা করছেন বলুন তো?”-আর থাকতে না পেরে বললেন স্বনামধন্য রহস্য রোমাঞ্চ ঔপন্যাসিক লালমোহন গাঙ্গুলী।
-“সময় হলে দেখতে পাবেন।আপাতত বলুন তো সায়েন্স ফিকশন শুনলে কার কথা মনে হয় আপনার?”
-“ইয়ে,জুলে ভের্ন”-বেশ তাড়াতাড়ি উত্তর দিলেন জটায়ু।
-“ওটা জুলস ভার্ন লালমোহন বাবু।যাই হোক,আর সায়েন্টিস্ট শুনলে?”
-“জগদীশ বোস।”
“তাহলে ধরে নিন ওনারাই আসছেন গাছের স্পিকিং এবিলিটি নিয়ে চর্চা করতে!”
ফেলুদার খোঁচায় ব্যাজার মুখ করে চুপ করে গেলেন লালমোহনবাবু।
“কি তোপসে?কিছু আন্দাজ করলি?”
আমি উত্তর দিতে যাব ঠিক সেই সময় কলিং বেল টা বেজে উঠল।আমিই দরজাটা খুললাম,আর তার পরক্ষণেই যাদের দেখলাম,তাঁরা সবাই আমার স্বপ্নের হিরো।ওই নীল শার্ট একটা প্লাস ফোর নিকারবকারস প্যান্ট,সামনের চুলটা স্পাইক করা,অনেকটা তোলা।টিনটিন!! টিনটিন এসছে আমাদের বাড়ি,এ তো অবিশ্বাস্য ব্যাপার।তারপরেই চোখ গেল পাইপ মুখে দাঁড়িয়ে থাকা সেই মজার কিন্তু রাগী ভদ্রলোকের দিকে।ক্যাপ্টেন হ্যাডক!সেই কালো জ্যাকেট,নেভি ব্লু শার্ট,মাথায় নেভির টুপি,আমার দিকে তাকিয়ে পাইপ মুখেই একগাল হাসলেন ভদ্রলোক।আর তারপরেই দেখলাম সেই বেঁটে-খাটো চেহারার প্রফেসর ক্যালকুলাস কে।সবুজ ওভারকোট,মাথায় টুপি ,হাতে পেন্ডুলাম। এ যেন কমিকস বই এর পাতা থেকে আশ্চর্য মন্ত্র বলে চরিত্র গুলো প্রান পেয়ে আমাদের বাড়ি ঘুরতে এসছে।আর তার ঠিক পেছনেই,মাথার সামনে টাক পরা,অবিন্যস্ত লম্বা দাড়ি,চোখে গোল চশমা পরিহিত মানুষটি আর কেউ নন-প্রোফেসর ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কু!
।৩।
আমার ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যাওয়ার মুহূর্তে ফেলুদা দরজায় চলে এসে হাত দুটো নমস্কারের ভঙ্গীতে বলল-“welcome to Kolkata gentlemen! I hope you have enjoyed the journey. Please come inside and make yourselves comfortable.”
নমস্কার,প্রতি নমস্কার আর পরিচয় পর্বের পালা শেষ করে সবাই বসলেন আমাদের ড্রয়িং রুমের সোফা আর চেয়ারে।
“ওনারা খুব ভালো বাংলা বলেন মিঃ মিত্তির।–বললেন প্রোফেসর শঙ্কু।
“হাইলি সাসপিশিয়াস!”-এত বিখ্যাত ব্যাক্তিকে একসাথে দেখে ব্যোমকে গ্যাছেন লালমোহনবাবু।
ক্যপ্টেন হ্যাডক কে আড় চোখে ভুরু কুচকে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে ভদ্রলোক জিজ্ঞেস করলেন-“আপনি কি বলে,ইয়ে ,মানে,সেইলার?”
-“আলবাত!সেই জন্যেই তো ৮৭ টা দেশের ১৮৬ রকম ভাষা আমি জানি!”-বেশ বুক ফুলিয়ে বললেন ক্যাপ্টেন হ্যাডক।
-“বলেন কি মশাই! আপনাকে তো কাল্টিভেট করতে হচ্ছে।”
-“আপনি কটা ভাষা জানেন মিঃ গাঙ্গুলী?
-“টু অ্যান্ড হাফ! অনলি আড়াই খানা!বাংলা,ইংরেজি আর অর্ধেক হিন্দি।”
লালমোহন বাবুর কথায় হেসে উঠলাম সবাই।
-“আপনি চিন্তা করবেন না মিঃ গাঙ্গুলী,ক্যপ্টেনের একটু বাড়িয়ে বলা স্বভাব।অতগুলো ভাষা ও জানে না ।”-টিনটিনের কথায় একটু আশ্বস্ত হলেন জটায়ু।
শ্রীনাথদা এসে ততক্ষ্মনে সবার জন্য মকাইবাড়ির চা আর প্লেটে করে শিঙাড়া,চানাচুর সাজিয়ে দিয়ে গ্যাছে।
আমি অনেকক্ষণ ধরে উসখুস করছিলাম,এবার সুযোগ পেয়ে বললাম-“আচ্ছা টিনটিন কুট্টুস কে আননি?”
-“নাহ ফ্লাইটে আনার সমস্যা,আর আমি কালই ফিরে যাব।ওকে নেস্টরের কাছে রেখে এসছি” উত্তর দিল টিনটিন।
চায়ে চুমুক দিয়ে সবার মুখেই একটা স্বস্তির ছাপ লক্ষ্য করলাম।শিঙাড়ায় কামড় বসিয়ে প্রোফেসর শঙ্কু বললেন-“আসলে,প্রফেসর ক্যালকুলাস আর আমি একটা রিসার্চ করছি নিজেদের মত করে।উনি কিছুদূর এগিয়েছেন,আমিও খানিকটা। গতবার জার্মানিতে সায়েন্স কনফারন্সে এ বিষয়ে ক্যালকুলাস বক্তৃতা দেওয়ার পর আমি ওঁর সাথে দেখা করি।কারণ এ বিষয়ে আমিও কিছু গবেষণা করছিলাম।
“কি প্রোফেসর বাকিটা আপনিই বলুন না?”
আনমনা ক্যালকুলাস হঠাৎ যেন বাইরের জগত থেকে রজনী সেন রোডের বৈঠক খানায় ফিরে এসে বললেন-“অ্যাঁ?আমি তো কিছু জানি না,এই ক্যাপ্টেন নিশ্চয়ই আমার নামে কিছু বলেছে?”
-“উফফ এনাকে নিয়ে আর রক্ষে নেই। একেবারে মাথা খারাপ!”
“যখন শুনতে পান না ,কানের হিয়ারিং এইড টা পরেন না ক্যানও?”-ক্যাপ্টেনের চিৎকারে জটায়ু ও বিষম খেয়েছেন।
নির্লিপ্ত ভাবে ক্যালকুলাস বলে চললেন-“তবে হ্যাঁ তোমাদের যেটা বলতে পারি সেটা হল,আমার আর শঙ্কুর নতুন প্রোজেক্ট অটোট্রান্সপোর্টেশন মেশিন।” তোমাদের দেশের ফিল্মমেকার রে এর একটা সিনেমা থেকে আইডিয়াটা পেয়েছিলাম।হাততালি মেরে যেখান সেখান চলে যাচ্ছে কি যেন নাম লোক দুটোর?
-“ইয়ে গুপি বাঘার কথা বলছেন ?”লালমোহন বাবুর কথা শুনতে পেলেন না ভদ্রলোক,বলে চললেন-“তা জাকগে,আমি যেটা ভেবেছি সেটা হল,এটা দুটো স্টেশন মত থাকবে।ধরো তোমরা কলকাতায় আছো,সেখানকার স্টেশন থেকে বোতাম টিপবে যেখানে যেতে চাও পৌঁছে যাবে এক নিমেষে।”
এবার প্রোফেসর শঙ্কু বললেন –“ঠিক সেই কারণেই ওনার এখানে আগমন।আমরা গিরিডী তে ফিরে একসাথে কাজ করব কিছুদিন এবার ।”
“বাহ।চমৎকার আইডিয়া। এরকমটা হলে একটা বেশ যুগান্তকারী আবিষ্কার হবে।কিন্তু সবই তো বুঝলাম শুধু টিনটিন বাবু সুদূর বেলজিয়াম থেকে কি আমার সাথে প্রোফেসর দের এই প্রোজেক্ট নিয়ে আলোচনা করতে এসছেন?তা তো ঠিক মনে হচ্ছে না!” ফেলুদার গলায় চাপা কৌতূহল।
-“তাহলে কি মনে হচ্ছে মিঃ মিটার?”
-“তুমি ঢোকার সময়ই দেখলাম,তোমার প্যান্টের পকেটের কোনা থেকে আই কার্ডের একটা অংশ উঁকি দিচ্ছে,তাতে p t t m e ,গ্যাপ দিয়ে দিয়ে বেশ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।আমার বিশ্বাস ওটা তুমি যে কাগজের সাংবাদিক,অর্থাৎ "Petit Vingtieme" এর আই কার্ড।তুমি এসছ সেই কাগজের হয়ে আমার ইন্টারভিউ নিতে। তাই তো?
-“oh brilliant mr. mitter . You are truly Indian Sherlock holmes!!” এই বলে নিজের ডান হাতটা ফেলুদার দিকে বাড়িয়ে দিল টিনটিন।
।৪।
আসলে বেশ কিছুদিন আগে ব্রাসেলে একটা বিস্ফোরণে বহু মানুষ মারা গিয়েছিল।ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পরা একটা c.c.t.v ফুটেজ দেখে ফেলুদা অপরাধীকে শনাক্ত করে ফেলে,আর সেটা নিয়ে বেলজিয়ামে স্বরাষ্ট্র দপ্তরে একটা মেল পাঠায়।পরে বেলজিয়াম পুলিসের তদন্তে,ফেলুদার সন্দেহ ঠিক বলে প্রমানিত হয়।সেই জন্যই টিনটিনকে ওরা পাঠায় ফেলুদার ইন্টারভিউ নিতে।
সমস্ত কিছু মিটে যাওয়ার পর ,লাঞ্চে ভাত ইলিশ মাছ আর মাটন কষা খেয়ে ভীষণ খুশি হয়েছিল সবাই ।ওরা বেরিয়ে যাওয়ার পর কেমন যেন ঘোরের মধ্যে ছিলাম আমরা সবাই।এতক্ষন স্বপ্ন দেখছিলাম না তো?ফেলুদাও একটু চুপচাপ এখন।
-“ও মশাই কিছু বলুন।আপনার খ্যাতি তো দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে এবার!”
-“ছোঁড়ার এলেম আছে বলতে হবে।ওইটুকু বয়েসে আমারও এত সাহস ছিল না!থ্যাঙ্কস টু প্রোফেসর শঙ্কু।ভাগ্যিস ক্যালকুলাস আর উনি এক কাজ করছেন।নইলে হয়তো টিনটিন আসতো না এখানে।রজনী সেন রোডের যায়গায় আমায় স্কাইপে ইন্টারভিউ দিতে হত!
“জয় বাবা ত্রিলোকেশ্বর!”-জটায়ুর কথায় অন্য দিন হলে সবাই হাসতাম ঠিকই,কিন্তু আজ বাড়িটা হঠাৎ খুব ফাঁকা ফাঁকা লাগছে।লালমোহনবাবু বেড়িয়ে যেতে আমি বইয়ের তাক থেকে ‘তিব্বতে টিনটিন’ টা নিয়ে পড়তে শুরু করলাম,ফেলুদা দেখলাম একমনে বইয়ের কভারটার দিকে চেয়ে আছে। কি ভাবছে ওই জানে !!






