Saturday, 4 July 2020

Tintin o Telepathy by Finding Felu

টিনটিনীয় উপলব্ধি সিরিজ - একটি Finding ফেলু নিবেদন

উপলব্ধি ১ - টিনটিন ও টেলিপ্যাথি

------------------------------------------

আপনারাতো সব্বাই জানেন আমার মাথা জোড়া টাকটা কেন? ইয়েস ঠিক ধরেছেন স্রেফ গল্পের প্লট খুঁজতে গিয়ে মাথার চুল ছিঁড়ে ছিঁড়ে। তা এই গৃহবন্দি থাকতে থাকতে বেশ এক গাল দাড়ি গজিয়ে উঠেছিল জানেন তো, কিন্তু আজকে সকালে উঠেই একেবারে সব ক্লিন করে নিয়েছি.. উফ বাবা.. এখন নিশ্চিন্ত.. কেন হঠাৎ দাড়ি কাটলাম? সে কথাই তো বলছি মশাই শুনুন না.. 

ফেলু বাবু যতোই বলুন আমার লেখা গুলো থোড় বড়ি খাড়া, উনি এটাও স্বীকার করেছেন গপ্পোগুলো কিন্তু মশলা আর পরিপাকের গুনে রীতিমত উপাদেয় হয় আর তা যদি না হত তাহলে কি আর মশাই এই এতো  গুলো এডিশন... থাক্‌ নিজের বইয়ের স্যাটিস্টিক্স নিজে দিয়ে আর কাজ নেই... 

আর ওই একটু বাইরে ঘোরাঘুরি না করলে আবার ফ্রেশ প্লট ঠিক মাথায় খেলে না, তা এই লকডাউনে তো ঘোরাঘুরি সব ভার্চুয়াল হয়ে গ্যাছে তাই একটু বিদেশী থ্রিলার থেকে ইয়ে মানে.. বুঝতেই পারছেন... হে হে.. 

বই এর আলমারি ঘাটতে ঘাটতে সেদিন পেলাম এক খানা টিনটিন, হয়তো  তপেশ ভাইয়ের দেওয়া আগে ভালো করে দেখা হয় নি... তা মশাই যা পেলাম তা তো একেবারে থ্রিলিং।

সেই প্রথমবার রাজস্থানের অভিযানে মনে হয়  তপেশ ভাই এই ল্যান্ড অফ ব্ল্যাক গোল্ডটাই পড়ছিল। মরু অভিযানের প্রস্তুতির জন্যেই হয়তো ওই বইটা সঙ্গে নিয়েছিলো। বই তে টিনটিন পুরো খেমেডের মরুভূমি চষে ফেলেছিল কালো সোনার রহস্য সমাধান করতে, আর ভাবুন আমরা  থ্রি মাস্কেটিয়ার্স পুরো থর-ও-হরি-কম্প করলাম রাজস্থান জুড়ে সোনার কেল্লা টা খুঁজতে, আর টেলিপ্যাথির এমনি জোর সেই বছরই প্রকাশিত দুর্ধর্ষ দূষমনে আমি প্রখর রুদ্রকে ফেলেছিলাম গোবি মরুভূমিতে। গোবি, সাহারা , থর.. মানে থর-এ থর-এ সব মরুভূমি একসাথে সাজানো... আবার ভাবুন আমরা এদিকে ছোট্ট মুকুলকে উদ্ধার করছি, ওদিকে টিনটিন আবার শেখের ছেলে ছোট্ট আবদুল্লা কে খুঁজে বেড়াচ্ছে। 

বইটা উল্টে পাল্টে তো আগে দেখিনি, এখন দেখলাম টিনটিন সাহারাতে ঘোড়া এ চড়ে পুরো একটা ডেসার্ট চেজ করলো দুষ্টু লোকেদের ধরতে আর আমরাও  কি কম যাই নাকি .. দুষ্টু লোকেরা আমাদের কে রাজস্থানের ডেসার্টে ডেসার্টেড করবে ভাবলো, তো ফেলুবাবু নিয়ে এলেন উট, তারপর  আমাদের সেই ফেমাস ব্যাপারটা.. এখনো এত বছর বাদে ভাবলেও মশাই গায়ে কাঁটা দেয়.. 

এখনও ভাবছেন তো সাত সকালে দাড়ি কেন কাটলাম.. 

বলছি শুনুন... সবচেয়ে  রোমহর্ষক যেটা দেখলুম মশাই সেটা হল গিয়ে ল্যান্ড অফ ব্ল্যাক গোল্ডে দুষ্টু লোকটাকে দেখে, আরে বাবা বইয়ের প্রচ্ছদটা একবার বার করে নিজেই দেখুন না লাল রঙের জীপে টিনটিনের পাশেই বসে আছে, চকচকে টাক মাথা আর এক মুখ কালো দাড়ি... কি, কিরকম একটা অদ্ভূত মিল না আমাদের কেল্লা ভিলেন দুষ্টু নকল ডক্টর হাজরার সাথে.. পাতা উল্টে দেখি এর নাম নাকি আবার ডক্টর মুলার... বলছি মশাই একেই কি বলে টেলিপ্যাথি! 

টাক মাথা প্লাস মুখে দাড়ি ইজ ইকিউলটু দুষ্টু লোক, এর পরেও দাড়ি না কেটে থাকা যায় নাকি মশাই! 

আমার তো ওই যাকে বলে আইজ পুরো ফোরহেড এ উঠে গ্যাছে এই সব দেখে, আপনাদেরও কি তাই?

অনুপ্রেরণা (ছবি)

---------------------

রাজিব দাস (সোনার কেল্লা ফ্যান আর্ট)

ফেলুদা, লালমোহন (সত্যজিৎ রায় - বিভিন্ন ফেলুদা গল্প)

টিনটিন (হার্জ - Tintin in America, Land of Black Gold)

No comments:

Post a Comment