Monday, 20 July 2020

Happy birthday Akkel Gurum by Finding Felu

Happy Birthday আক্কেল গুড়ুম 

জটায়ু 

সত্যি বলতে কি ঘটনাটা জানতে পারার পরে, আমার বেশ অভিমান হল ফেলুবাবুর ওপর। এত বছরের সম্পর্ক, কত অভিজ্ঞতা এক সাথে.. আর এই বিষয়ে কথা হয় নি, সেরকমও নয়.. উনি নিজেই তো প্রসঙ্গ তুলেছেন.. কিন্ত এ কথা তো কোনোদিন জানাননি, তবে কি ইয়ে মানে .. আচ্ছা  তপেশ ভাই কে একবার জিজ্ঞেস করে দেখতে হবে তাহলে আমার সঙ্গে আলাপ হওয়ার বছর দু তিন আগেই তো উনি অল ইন্ডিয়া রাইফেল কম্পিটিশনে ফার্স্ট হয়েছিলেন, আর তার পর থেকেই ওনার আছে ওই জিনিসটা। সেবার পোখরান স্টেশন এ রাত্রি বেলা ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছি আমরা তিন জন, উনি প্রখর রুদ্র ভোজালি ব্যবহার করে কিনা জিজ্ঞেস করে আমায় খোঁচা দিলেন, আর আমিও মশাই দিলুম বলে ঠাঁই ঠাঁই ঠাঁই ঠাঁই ঠাঁই ঠাঁই... আর তার পরেই তো উনি পকেট থেকে বের করে আমার মুখের সামনে ধরে দেখালেন ওনার সেই কোল্ট .৩২ খানা । আপনারা তো জানেন সে কথা, আমায় দেখালেন কোনটা ট্রিগার কোনটা হ্যামার.. উপদেশও দিলেন বোর, ক্যালিবার, মেক, মডেল এই সব সমন্ধে জেনে তবেই লিখতে হবে। 

পুলক (ঘোষাল) র ভাইঝি,  তৃণা থাকে আমার বাড়ির দুটো বাড়ি পরে,  ফিল্ম স্টlডিজ পড়ে, বেশ চট পটে চালাক চতুর টাইপ বলেই তো মনে হয় , অনেক বই পত্র পড়ে ( আমার সবকটা বই পড়েছে ) , নানান জিনিসের খোঁজ খবর ও রাখে। গতকাল এসেছিল আমার এখানে, ওর মা সর্ষে ইলিশ বানিয়ে পাঠিয়েছিলেন ওর হাতে, কথায় কথায় বললো পুলকের নতুন ওয়েব সিরিজ 'বন্দুক আপনা আপনা' রিলিজ করেছে। সেই প্রসঙ্গেই  বললো ওরা দুই বন্ধু মিলে একটা ছোট্ট ডকুমেন্টারি বানাবে রিভলভার নিয়ে, তাই নিয়ে রিসার্চ করছে। 

আর সেখানে আসবে  স্যামুএল কোল্টের কথা , যার নামে এই রিভলভার। তৃণাও দেখলাম ওর কাকা পুলকের মতোই নাটুকে, আমায় জিজ্ঞেস করে কিনা বলুন দেখি লাফিং গ্যাসের সঙ্গে আপনার ঠাঁই ঠাঁই ঠাঁই এর কি সম্পর্ক? নেহাত হাতে করে ইলিশ মাছ এনেছে নাহলে তো আমি তখনই পত্রপাঠ বিদায় করে দিতাম মশাই.. আমার সঙ্গে মশকরা? 

কিন্তু এর পর ও যা সব খবর দিলো তাতে তো আমার ওই যাকে বলে আইজ পুরো গন স্ট্রেইট আপ টু কপাল.. বলে কিনা স্যামের  যখন ষোলো বছর বয়েস তখন ইস্কুল থেকে তাড়িয়ে দেয় (গুণধর ছেলে আর কি) , আর বাপ ছেলেকে জীবনের শিক্ষা দেওয়ার জন্য জাহাজ কোম্পানি তে চাকরি করে দিলো। সালটা ১৮৩০, কর্ভো নামের এক জাহাজ ছাড়ল বস্টন থেকে, গন্তব্য কলকাতা.. ভায়া লিভারপুল লন্ডন.. তাতে রয়েছে সদ্য পাতলা দাড়ি ওঠা স্যাম কোল্ট। ছোকরার মাথায় বারুদ, বন্দুকের ভূত আগেই ছিল.. ওই সব করতে গিয়েই নাকি ইস্কুল থেকে তো তারালো। তা যাই হোক জাহাজের দীর্ঘ যাত্রাপথেই নাকি এই ঘোরানো রিভলভারের কথা প্রথম মাথায় আসে কোল্টের.. জাহাজের কল কব্জা, চাকা আর ক্লাচ দেখে। আর তারপর আমেরিকা ফিরে বানিয়ে ফেললো কাঠের মডেল রিভলভার, কয়েক বছর বাদেই নিলো পেটেন্ট আর তার ও পরে শুরু হল কারখানাতে তৈরি হওয়া। সেই কোম্পানি আজ এত বছর পরেও বানিয়ে চলেছে ঠাঁই ঠাঁই  ঠাঁই ঠাঁই... ভাবুন ব্যাপারটা... 

আর লাফিং গ্যাস বলছি মশাই.. তা পেটেন্ট নিতে তো টাকা লাগবে, সেই টাকা জোগাড় করার জন্য তরুণ তুর্কি কোল্ট সারা আমেরিকা ও কানাডা ঘুরে ঘুরে শুরু করেছিলো লাফিং গ্যাস নিয়ে প্রদর্শনী ও সভা সমিতি... ওই এখন যাকে বলে ফান্ড রেইসিং আরকি.. আর সে সব প্রদর্শনী তে ভিড় ভালই হত, তখন সবে বাজার এ এসেছে এই লাফিং গ্যাস.. আর সেই সব সভার বিজ্ঞাপনে নাম যেত ডঃ কোল্ট অফ ক্যালকাটা! 

এই সব শুনে তো মশাই আমার কি রকম একটা ইয়ে ইয়ে হচ্ছে.. আর ফেলুবাবুর ওপরে অভিমান.. আমায় যতোই খোঁচা দিন কম জানি বলে... কিন্তু ওনার তো আগেই আমায় বলা উচিৎ ছিল এই ব্যাপারটা.. তাই নয় কি বলুন আপনারা? তৃণা বাড়ি যাওয়ার আগে বললো আজ নাকি কোল্ট সাহেবের Happy Birthday! 

—-

কৃতজ্ঞতা : 

Museums Victoria 

https://collections.museumsvictoria.com.au/articles/2444

আবহসঙ্গীত - চার্লি কুক

https://youtu.be/Bt8h-4dZI6Q

No comments:

Post a Comment