Showing posts with label Finding Felu. Show all posts
Showing posts with label Finding Felu. Show all posts

Thursday, 23 July 2020

Dragon o chinnamasta by Finding Felu

 টিনটিনীয় উপলব্ধি সিরিজ - একটি Finding ফেলু নিবেদন

উপলব্ধি ২ - ড্রাগন ও ছিন্নমস্তা

------------------------------------------

ফেলুবাবু বললেন আজকাল যেমন ওয়েব সিরিজের ট্রেলার, টিজার বেরোয় দর্শকের মনে সুড়সুড়ি দেওয়ার জন্য তেমনি লেখার শুরুতে পাঠকদের একটা প্রশ্ন ছুড়ে দিতে। তা আমার ধারণা এই প্রশ্নটা শুনে বেশির ভাগ পাঠকই মাথা চুলকাবেন .. তবুও

 ফেলুবাবুর কথা, তাই জুড়ে দিলাম, বলুন তো দেখি পুন্ডরীক, কোকোনদ আর ইন্দীবর মানে কি?

ভনিতা ছেড়ে আসল কথায় আসি, ল্যান্ড অফ ব্ল্যাক গোল্ড পড়বার পর থেকে, এই বুড়ো বয়সে টিনটিনের গল্প ভালো লাগছে শুনে, তপেশ ভাই ফুল সেট পাঠিয়ে দিয়েছে আমায় ক্যুরিয়ার করে l

তারই একখানা নিয়ে সবে পাতা ওল্টাতে আরম্ভ করেছি, আর প্রথম ছবিটাই যাকে বলে উফ্... টিনটিন কি শেষমেষ আমাদের এই উত্তর কলকাতাতেও ঘুরে গ্যাছে নাকি মশাই। একটা মন্দিরের ছবি, দেখেতো আমার মনে হল রাজা দিনেন্দ্র স্ট্রিটের জৈন মন্দিরের আদলে আঁকা, এ্যাথেনিয়ামের তুলসী বাবু যখন কলকাতায় থাকতেন ( রিটায়ারমেন্টের পরে তো উনি গোঁসাইপুরে চলে যান) তখন গড়পাড় থেকে প্রায়ই হেঁটে হেঁটে যেতাম ওনার বাসায় ওই চা আর বেগুনি সহযোগে আড্ডার জন্য .. , তা ওই মন্দিরটা পেরিয়েই যেতে হতো তো... বইতে অবশ্য দেখছি  জায়গাটার  একটা অদ্ভূত নাম দিয়েছেন হার্জ সাহেব... গায়েপাজামা, ( আমি ভ্যাঙ্কুয়ারের ভ্যাম্পায়ার নাম দিলেই ফেলুবাবুর যতো সমস্যা অথচ দেখুন হার্জ সাহেবের  নামকরণের স্টাইল )  ওখানকার মহারাজার অতিথি হয়ে রয়েছে টিনটিন l ফেলুবাবু  অবশ্য ফোনে বললেন জৈন টেম্পেলগুলোর আর্কিটেক্চারের কিছু কমন ফিচার আছে, আর তাই হয়তো বইয়ের ছবি একই রকম লাগছে। ফেলুবাবু যাই বলুন না কেন, আমি বলছি আপনাদের.. দিস ইজ হাইলি সাসপিসাস... আমার বিশ্বাস হার্জ সাহেব এসেছিলেন আমাদের এই উত্তর কলকাতায়, আপনারা নিজেরাই পারলে দেখুন না ছবি গুলো (হ্যাঁ মশাই জানি এই লকডাউনের মধ্যে, রাজা দিনেন্দ্র স্ট্রিটে যাওয়া মুস্কিল, আর তাই তো Finding ফেলু টিমের ছেলে ছোকরারা ছবি জোগাড় করে এনেছে) । 

পাতা ওলটাতে  ওলটাতে চোখ আটকে গ্যালো একটা ছোট্ট ছবিতে। একটা জাহাজের ছবি, টিনটিন উঠবে ওই জাহাজে.. কিমআশ্চর্যম জাহাজের নাম কিনা S S Ranchi , ছবিটা চোখের কাছে এনে দেখলাম হ্যাঁ ঠিকই দেখছি, গন্তব্য বোমবাই! আর সেই জাহাজ ছাড়ার পরেই টিনটিন পড়ল বোমবেটেদের খপ্পরে l বুঝুন ব্যাপারটা.. আমার তো ক্যামন একটা ইয়ে.. মানে ওই আর কি... তা রাঁচির কথায় মনে পড়লো সেবার আমরা থ্রি মাস্কেটিয়ার্স রাঁচির অ্যাম্বার হোটেলে এক রাত কাটিয়ে তারপর গেছিলাম হাজারিবাগ... তারপর তো সেই ছিন্নমস্তা নিয়ে... আপনারা সে খবর ভালো করেই জানেন l কিন্তু বলছি মশাই এ আমার কল্পনা শক্তি না টেলিপ্যাথি, রাঁচির থেকে ছিন্নমস্তার কথা মাথায় যেই এলো ওমনি দেখছি টিনটিনর বইতে ইয়া বড়ো এক তরওয়াল দিয়ে এক বিচ্ছু টিনটিনের মস্তকটাই ছিন্ন করার চেষ্টা করছে, বলে কিনা 'I only have to cut your head off!'... তা টিনটিনেরওতো মগজাস্ত্র ফেলুবাবুর মতোই তীক্ষ্ম, আর কাজেই ছিন্ন মস্তক করা কি এতই সোজা। 

আমি তো এদিকে টিনটিন আর আমাদের অ্যাডভেঞ্চারের মিল বের করার খেলায় মেতে উঠেছি, ফ্ল্যাশব্যাকে মনে পড়লো আমাদের কাহিনীর মহেশ চৌধুরীর সংকেতের সাহায্যে কথা বলার অভ্যাস, ওনার ডায়েরির নানান হেঁয়ালি সমাধান করেই তো ফেলুবাবু সেবার কেল্লাফতে করলেন। আর কি কাকতালিও ব্যাপার... গল্পের টিনটিন ও কিন্তু সংকেত উদ্ধার করেই খোঁজ পেয়ে গ্যালো সাংঘাইয়ের কুখ্যাত আফিঙের আড্ডা l 

কি এইবারে নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন কোন বইটা দেখছি আমি, হে হে ঠিকই ধরেছেন দ্যা ব্লু লোটাস্... তাহলে এই বারে ঝটপট বলে ফেলুন দেখি ফেলুবাবুর দেওয়া ট্রেলারের প্রশ্নখানা। 

আর একটা কথা বলে আজকের মতো শেষ করি, আমি কিন্তু আরো কয়েকটা অদ্ভূত মিল খুঁজে পেলাম আমাদের ছিন্নমস্তা অভিযান আর টিনটিনের ইন্দীবর-এ... এই দেখেছেন ছি ছি মুখ ফসকে.. বলেই ফেললাম l

ঠিক আছে আর কোনো কথা নয়.. বাকি মিল গুলো খুঁজে পেলে জানাবেন আমাকে...  আর একটা প্রশ্ন ওই যে জাহাজের নামের শুরুতে S S, ওইটা কি কিছু জানেন.. খোঁজ পেলে একটু প্লিজ জানাবেন.. সব কিছু কি আর ওনাকে জিজ্ঞেস করা যায়? 

আর কোনও প্রশ্ন নয়। খালি একটা কথা, তপেশ ভাই বলছিল ছিন্নমস্তা নাকি ওয়েব সিরিজ হচ্ছে, তা কবে দেখাবে জানেন নাকি আপনারা? ইশ দেখেছেন আবার প্রশ্ন করে ফেললাম.. ছি ছি.. তবে কি জানেন ফেলুবাবু কে নিয়ে প্রশ্ন করাই যায়, কি বলেন আপনারা?

Monday, 20 July 2020

Happy birthday Akkel Gurum by Finding Felu

Happy Birthday আক্কেল গুড়ুম 

জটায়ু 

সত্যি বলতে কি ঘটনাটা জানতে পারার পরে, আমার বেশ অভিমান হল ফেলুবাবুর ওপর। এত বছরের সম্পর্ক, কত অভিজ্ঞতা এক সাথে.. আর এই বিষয়ে কথা হয় নি, সেরকমও নয়.. উনি নিজেই তো প্রসঙ্গ তুলেছেন.. কিন্ত এ কথা তো কোনোদিন জানাননি, তবে কি ইয়ে মানে .. আচ্ছা  তপেশ ভাই কে একবার জিজ্ঞেস করে দেখতে হবে তাহলে আমার সঙ্গে আলাপ হওয়ার বছর দু তিন আগেই তো উনি অল ইন্ডিয়া রাইফেল কম্পিটিশনে ফার্স্ট হয়েছিলেন, আর তার পর থেকেই ওনার আছে ওই জিনিসটা। সেবার পোখরান স্টেশন এ রাত্রি বেলা ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছি আমরা তিন জন, উনি প্রখর রুদ্র ভোজালি ব্যবহার করে কিনা জিজ্ঞেস করে আমায় খোঁচা দিলেন, আর আমিও মশাই দিলুম বলে ঠাঁই ঠাঁই ঠাঁই ঠাঁই ঠাঁই ঠাঁই... আর তার পরেই তো উনি পকেট থেকে বের করে আমার মুখের সামনে ধরে দেখালেন ওনার সেই কোল্ট .৩২ খানা । আপনারা তো জানেন সে কথা, আমায় দেখালেন কোনটা ট্রিগার কোনটা হ্যামার.. উপদেশও দিলেন বোর, ক্যালিবার, মেক, মডেল এই সব সমন্ধে জেনে তবেই লিখতে হবে। 

পুলক (ঘোষাল) র ভাইঝি,  তৃণা থাকে আমার বাড়ির দুটো বাড়ি পরে,  ফিল্ম স্টlডিজ পড়ে, বেশ চট পটে চালাক চতুর টাইপ বলেই তো মনে হয় , অনেক বই পত্র পড়ে ( আমার সবকটা বই পড়েছে ) , নানান জিনিসের খোঁজ খবর ও রাখে। গতকাল এসেছিল আমার এখানে, ওর মা সর্ষে ইলিশ বানিয়ে পাঠিয়েছিলেন ওর হাতে, কথায় কথায় বললো পুলকের নতুন ওয়েব সিরিজ 'বন্দুক আপনা আপনা' রিলিজ করেছে। সেই প্রসঙ্গেই  বললো ওরা দুই বন্ধু মিলে একটা ছোট্ট ডকুমেন্টারি বানাবে রিভলভার নিয়ে, তাই নিয়ে রিসার্চ করছে। 

আর সেখানে আসবে  স্যামুএল কোল্টের কথা , যার নামে এই রিভলভার। তৃণাও দেখলাম ওর কাকা পুলকের মতোই নাটুকে, আমায় জিজ্ঞেস করে কিনা বলুন দেখি লাফিং গ্যাসের সঙ্গে আপনার ঠাঁই ঠাঁই ঠাঁই এর কি সম্পর্ক? নেহাত হাতে করে ইলিশ মাছ এনেছে নাহলে তো আমি তখনই পত্রপাঠ বিদায় করে দিতাম মশাই.. আমার সঙ্গে মশকরা? 

কিন্তু এর পর ও যা সব খবর দিলো তাতে তো আমার ওই যাকে বলে আইজ পুরো গন স্ট্রেইট আপ টু কপাল.. বলে কিনা স্যামের  যখন ষোলো বছর বয়েস তখন ইস্কুল থেকে তাড়িয়ে দেয় (গুণধর ছেলে আর কি) , আর বাপ ছেলেকে জীবনের শিক্ষা দেওয়ার জন্য জাহাজ কোম্পানি তে চাকরি করে দিলো। সালটা ১৮৩০, কর্ভো নামের এক জাহাজ ছাড়ল বস্টন থেকে, গন্তব্য কলকাতা.. ভায়া লিভারপুল লন্ডন.. তাতে রয়েছে সদ্য পাতলা দাড়ি ওঠা স্যাম কোল্ট। ছোকরার মাথায় বারুদ, বন্দুকের ভূত আগেই ছিল.. ওই সব করতে গিয়েই নাকি ইস্কুল থেকে তো তারালো। তা যাই হোক জাহাজের দীর্ঘ যাত্রাপথেই নাকি এই ঘোরানো রিভলভারের কথা প্রথম মাথায় আসে কোল্টের.. জাহাজের কল কব্জা, চাকা আর ক্লাচ দেখে। আর তারপর আমেরিকা ফিরে বানিয়ে ফেললো কাঠের মডেল রিভলভার, কয়েক বছর বাদেই নিলো পেটেন্ট আর তার ও পরে শুরু হল কারখানাতে তৈরি হওয়া। সেই কোম্পানি আজ এত বছর পরেও বানিয়ে চলেছে ঠাঁই ঠাঁই  ঠাঁই ঠাঁই... ভাবুন ব্যাপারটা... 

আর লাফিং গ্যাস বলছি মশাই.. তা পেটেন্ট নিতে তো টাকা লাগবে, সেই টাকা জোগাড় করার জন্য তরুণ তুর্কি কোল্ট সারা আমেরিকা ও কানাডা ঘুরে ঘুরে শুরু করেছিলো লাফিং গ্যাস নিয়ে প্রদর্শনী ও সভা সমিতি... ওই এখন যাকে বলে ফান্ড রেইসিং আরকি.. আর সে সব প্রদর্শনী তে ভিড় ভালই হত, তখন সবে বাজার এ এসেছে এই লাফিং গ্যাস.. আর সেই সব সভার বিজ্ঞাপনে নাম যেত ডঃ কোল্ট অফ ক্যালকাটা! 

এই সব শুনে তো মশাই আমার কি রকম একটা ইয়ে ইয়ে হচ্ছে.. আর ফেলুবাবুর ওপরে অভিমান.. আমায় যতোই খোঁচা দিন কম জানি বলে... কিন্তু ওনার তো আগেই আমায় বলা উচিৎ ছিল এই ব্যাপারটা.. তাই নয় কি বলুন আপনারা? তৃণা বাড়ি যাওয়ার আগে বললো আজ নাকি কোল্ট সাহেবের Happy Birthday! 

—-

কৃতজ্ঞতা : 

Museums Victoria 

https://collections.museumsvictoria.com.au/articles/2444

আবহসঙ্গীত - চার্লি কুক

https://youtu.be/Bt8h-4dZI6Q

Saturday, 4 July 2020

Tintin o Telepathy by Finding Felu

টিনটিনীয় উপলব্ধি সিরিজ - একটি Finding ফেলু নিবেদন

উপলব্ধি ১ - টিনটিন ও টেলিপ্যাথি

------------------------------------------

আপনারাতো সব্বাই জানেন আমার মাথা জোড়া টাকটা কেন? ইয়েস ঠিক ধরেছেন স্রেফ গল্পের প্লট খুঁজতে গিয়ে মাথার চুল ছিঁড়ে ছিঁড়ে। তা এই গৃহবন্দি থাকতে থাকতে বেশ এক গাল দাড়ি গজিয়ে উঠেছিল জানেন তো, কিন্তু আজকে সকালে উঠেই একেবারে সব ক্লিন করে নিয়েছি.. উফ বাবা.. এখন নিশ্চিন্ত.. কেন হঠাৎ দাড়ি কাটলাম? সে কথাই তো বলছি মশাই শুনুন না.. 

ফেলু বাবু যতোই বলুন আমার লেখা গুলো থোড় বড়ি খাড়া, উনি এটাও স্বীকার করেছেন গপ্পোগুলো কিন্তু মশলা আর পরিপাকের গুনে রীতিমত উপাদেয় হয় আর তা যদি না হত তাহলে কি আর মশাই এই এতো  গুলো এডিশন... থাক্‌ নিজের বইয়ের স্যাটিস্টিক্স নিজে দিয়ে আর কাজ নেই... 

আর ওই একটু বাইরে ঘোরাঘুরি না করলে আবার ফ্রেশ প্লট ঠিক মাথায় খেলে না, তা এই লকডাউনে তো ঘোরাঘুরি সব ভার্চুয়াল হয়ে গ্যাছে তাই একটু বিদেশী থ্রিলার থেকে ইয়ে মানে.. বুঝতেই পারছেন... হে হে.. 

বই এর আলমারি ঘাটতে ঘাটতে সেদিন পেলাম এক খানা টিনটিন, হয়তো  তপেশ ভাইয়ের দেওয়া আগে ভালো করে দেখা হয় নি... তা মশাই যা পেলাম তা তো একেবারে থ্রিলিং।

সেই প্রথমবার রাজস্থানের অভিযানে মনে হয়  তপেশ ভাই এই ল্যান্ড অফ ব্ল্যাক গোল্ডটাই পড়ছিল। মরু অভিযানের প্রস্তুতির জন্যেই হয়তো ওই বইটা সঙ্গে নিয়েছিলো। বই তে টিনটিন পুরো খেমেডের মরুভূমি চষে ফেলেছিল কালো সোনার রহস্য সমাধান করতে, আর ভাবুন আমরা  থ্রি মাস্কেটিয়ার্স পুরো থর-ও-হরি-কম্প করলাম রাজস্থান জুড়ে সোনার কেল্লা টা খুঁজতে, আর টেলিপ্যাথির এমনি জোর সেই বছরই প্রকাশিত দুর্ধর্ষ দূষমনে আমি প্রখর রুদ্রকে ফেলেছিলাম গোবি মরুভূমিতে। গোবি, সাহারা , থর.. মানে থর-এ থর-এ সব মরুভূমি একসাথে সাজানো... আবার ভাবুন আমরা এদিকে ছোট্ট মুকুলকে উদ্ধার করছি, ওদিকে টিনটিন আবার শেখের ছেলে ছোট্ট আবদুল্লা কে খুঁজে বেড়াচ্ছে। 

বইটা উল্টে পাল্টে তো আগে দেখিনি, এখন দেখলাম টিনটিন সাহারাতে ঘোড়া এ চড়ে পুরো একটা ডেসার্ট চেজ করলো দুষ্টু লোকেদের ধরতে আর আমরাও  কি কম যাই নাকি .. দুষ্টু লোকেরা আমাদের কে রাজস্থানের ডেসার্টে ডেসার্টেড করবে ভাবলো, তো ফেলুবাবু নিয়ে এলেন উট, তারপর  আমাদের সেই ফেমাস ব্যাপারটা.. এখনো এত বছর বাদে ভাবলেও মশাই গায়ে কাঁটা দেয়.. 

এখনও ভাবছেন তো সাত সকালে দাড়ি কেন কাটলাম.. 

বলছি শুনুন... সবচেয়ে  রোমহর্ষক যেটা দেখলুম মশাই সেটা হল গিয়ে ল্যান্ড অফ ব্ল্যাক গোল্ডে দুষ্টু লোকটাকে দেখে, আরে বাবা বইয়ের প্রচ্ছদটা একবার বার করে নিজেই দেখুন না লাল রঙের জীপে টিনটিনের পাশেই বসে আছে, চকচকে টাক মাথা আর এক মুখ কালো দাড়ি... কি, কিরকম একটা অদ্ভূত মিল না আমাদের কেল্লা ভিলেন দুষ্টু নকল ডক্টর হাজরার সাথে.. পাতা উল্টে দেখি এর নাম নাকি আবার ডক্টর মুলার... বলছি মশাই একেই কি বলে টেলিপ্যাথি! 

টাক মাথা প্লাস মুখে দাড়ি ইজ ইকিউলটু দুষ্টু লোক, এর পরেও দাড়ি না কেটে থাকা যায় নাকি মশাই! 

আমার তো ওই যাকে বলে আইজ পুরো ফোরহেড এ উঠে গ্যাছে এই সব দেখে, আপনাদেরও কি তাই?

অনুপ্রেরণা (ছবি)

---------------------

রাজিব দাস (সোনার কেল্লা ফ্যান আর্ট)

ফেলুদা, লালমোহন (সত্যজিৎ রায় - বিভিন্ন ফেলুদা গল্প)

টিনটিন (হার্জ - Tintin in America, Land of Black Gold)

Wednesday, 24 June 2020

Jhor joley amra by Finding Felu

~~~~~~ঝড়  জলে আমরা~~~~~~~~

আপনারা সব্বাই জানেন আমার কল্পনাশক্তিটা চিরকালই সাধারন লোকের থেকে একটু বেশি । তা আপনারা বলছেন সুপার সাইক্লোন, আর আমি দেখছি এক বিভীষিকাময়  গোরিলার গোগ্রাসে  দাঁত খিঁচিয়ে এগিয়ে আসা । আমিতো এই গড়পারে এই গড়াগড়ি - ও দিকে পুরো দেশ জুড়ে শিহরণ, হাহাকার আর এসব সামলাতে সব্বাই হিমশিম - আমিতো বলি দ্যা ব্ল্যাকেস্ট লেটার নাইট । তাও বলতেই হবে থ্যাঙ্কস টু বিজ্ঞানের অগ্রগতি, হাওয়া অফিস আগে থেকে প্রেডিকশন টা - না হলে তো আমার মাস্টার মশাই বৈকুণ্ঠ বাবুর কথাই ফলে যেত । ভদ্রলোকের বয়স হয়েছে, সুপার সাইক্লোনের খবর পেয়ে নিজের আগাম স্বর্গপ্রাপ্তি র কবিতা লিখে ফেলেছিলেন -

আম্পানি স্বর্গ

-----------------

এলো আম্পান, ঘনিয়ে আঁধার

ঝিরি ঝিরি বারি ঝরিয়ে।

এত সবে শুরু, শুনছি যেমন

পরে নিয়ে যাবে উড়িয়ে।


ভাবছি শোবনা খাটের ওপর

সেঁধোবত তার তলায়

বেঁচে যেতে পারি, ঝড় যদি শুধু

খাট তুলে নিয়ে পালায়।


আচ্ছা, আসছেত ঝড় 

একশ'পঁচাশি বেগে!

আহা বলিই শোননা 

কেন আগে যাও রেগে!


মুক্তকচ্ছ দৌড়‌ই যদি,

উড়ে যদি যাই দু'শ!

তাও আম্পান ধরবে আমাকে?

কি শুনছ কানাঘুষো!


সত্যিই তেড়ে এলে পরে আম্পানে

প্রশ্নটা হল দৌড়ব কোন পানে?

সব থেকে ভাল, গঞ্জিকা টেনে, 

স্বপ্নের শাম্পানে,

নয়তো দৌড়ে, উড়ে, ভেসে ভেসে 

ওপর দিকেই যাব।

ইন্দ্রের পাশে আয়েশেতে বসে

জমিয়ে গুড়ুক খাব;

উড়ে যেতে হলে, স্বর্গেই তবে যাব।

তা স্বর্গে উনি যাবেন বললেই তো হবে না, আমরা থ্রি মাস্কেটিয়ার্স থাকতে । ঝড় জল তো আমরা ও কম দেখলাম না সে কলকাতা ই হোক বা পাহাড়, জঙ্গল ই হোক বা সমুদ্র - তবে সব দুর্যোগ ই ঠান্ডা হয়েছে ওই তীক্ষ্ম মগজাস্ত্র কাছে ।

এই সেবার বৈকুণ্ঠ পুরে নবকুমার বাবুর সাথে পোড়া ইটের কাজ করা মন্দির দেখতে গিয়ে কি কান্ডটাই না হল । পশ্চিমের আকাশ ঘন কালো করে মেঘ, আর বজ্রপাতের সঙ্গে নামলো তুমুল বৃষ্টি, ওরকম ড্রামাটিক বৃষ্টি আমি তো মশাই দেখিনি । সেই দুর্যোগের সন্ধ্যায় আর কলকাতা এ ফেরা গ্যালো না । আর ভাগ্যিস আটকে পড়লাম নাহলে ভাবুন তো টিনটরেত্তর  যীশু র কি হতো?

তারপর সেবার ডুয়ার্স র সেই ভয়ংকর রাত । মহিতোশ সিংহরায় র বাড়ি র পশ্চিম দিকে কালবুনির  জঙ্গল । সে রাতে চোখ ধাঁধানো বিদ্যুৎ র সাথে সাথে কানফাটা বাজের আওয়াজ র মধ্যে ই একটা টর্চের আলোও জঙ্গলে র মধ্যে ঘোরাফেরা করছিল । সেই টর্চের  মালিক তড়িত বাবু শেষটায় তড়িতপৃষ্ঠ হয়ে... সেই বারেও মগজাস্ত্র র খেলায় উদ্ধার হল নারায়নী মুদ্রা ।

আর সেবার টুয়েন্টি ফোর্থ  জুনের ঝড় ( উইন্ড ভেলোসিটি  ওয়ান হান্ড্রেড অ্যান্ড ফর্টি ফাইভ   কিলোমিটার পার আওয়ার)। তখন ফেলু বাবুর মাথায় পুরনো কলকাতার ভূত... আর আমার সদ্য কেনা  গ্রিন অ্যাম্বাসেডর এ চড়ে আমরা তিন মূর্তি গেছি সেন্ট জনস চার্চ -এ জব চার্ণক এর সমাধি দেখতে । ওখানেই এলো সেই  প্রলয়ঙ্কর ঝড়, ধুলোর ঝড় এ শহীদ মিনার টাও কোথায় জানি হারিয়ে গেল। গাড়ির মধ্যে থেকেই দেখলাম চানাচুরওয়ালা দের একটা সরু লম্বা বেতের মোড়।র স্ট্যান্ড শূন্যে পাক খেতে খেতে কার্জন পার্কের দিকে হারিয়ে গেল ।

সেদিন তো আমাদের আর প্ল্যান মাফিক গোরস্থানে যাওয়াই হল না, পরদিন কাগজে ছিয়াত্তরটা গাছ ভেঙে পড়ার, সঙ্গে সাউথ পার্ক স্ট্রিট গোরস্থানে নরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস নামের এক ভদ্রলোকের জখম হওয়ার খবর ও বেরিয়ে ছিল । সেদিন দুপুরে খিচুড়ি খেয়ে বিকেলের দিকে যাওয়া হয়েছিল গোরস্থানে । আর জল কাদা ঘেঁটে তার পরের গল্প তো তপেশ ভাই আপনাদেরকে বলেইছে ।

তা এইবারের এই গোগ্রাসে দাঁত বের  করা আম্ফান আমাদের সুন্দরবনের যা ক্ষতি টা করলো.. ভাবছি ফেলু বাবু কে নিয়ে একবার ঘুরে আসবো ওদিকে..হরিপদ বাবুর ভায়রাভাই র বাড়ি আছে । শুনলাম সেই গ্রামের অবস্থা বেশ খারাপ, সঙ্গে কিছু শুকনো খাবার, চাল, ডাল, আলু, ত্রিপল নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে... যদি ওনাদের কোনো ইএ মানে কোনো উপকারে আসতে পারি আরকি ... আপনারাও চাইলে এগিয়ে আসতে পারেন...

Sunday, 21 June 2020

Jogajog by Finding Felu

 ~~~~~~~যোগাযোগ~~~~~~~~

শেষ যখন ঘড়ি দেখেছিলাম তখন রাত প্রায় দেড়টা। নেটফ্লিক্সে সিজনটা দেখতে দেখতে কখন যেন নাকের ওপর ফোন চাপা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম রাতে। নিশ্চিন্তেই ঘুমোচ্ছিলাম ... একে তো লকডাউন তার মধ্যে রবিবার ওঠার কোন তাড়াই নেই। কিন্তু আচমকাই ঘুমটা ভেঙে গেলো। না না, কোন ভয়াবহ স্বপ্ন টপ্ন নয়। আচমকাই পিঠটা জ্বালা করে উঠলো। অনেক কষ্টে চোখ করে নাকের ওপর থেকে ফোনটা নামিয়ে, দুবার নাকের ওপর হাত বুলিয়ে ঘড়িতে দেখলাম পাঁচটা।মশা ভেবে চাদরটা জড়িয়ে আবার পাশ ফিরে শুতে যাচ্ছি।আবার খোঁচা।এবার কষ্ট করে ঘাড় ঘোরাতেই ব্যাপারটা স্পষ্ট হল।ফেলুদা খাটের পাশে দাঁড়িয়ে কড়ে আঙুলের নখটা দিয়ে আমাকে খোঁচাচ্ছে। এক্সারসাইজ করার পোষাক পরে সাতসকালে একদম রেডি।

মনে পড়লো কাল রাতেই ফেলুদা বলছিলো আজ ২১শে জুন নাকি আন্তর্জাতিক যোগ দিবস।ফেলুদা বরাবরই সকালে আধঘন্টা ধরে নানারকম আসন করে ... এমনকি কনুইয়ের ওপর ভর দিয়ে মাথা নীচের দিকে আর পা উপর দিকে শূন্যে তুলে শীর্ষাসন পর্যন্ত। কিন্তু কাল রাতেই ফেলুদা বলেছিলো আমাকে আজ থেকে এক্সারসাইজ করানো শুরু করবে .. ওর মতে লকডাউনে বাড়িতে বসে আমি প্রচন্ড আনফিট হয়ে যাচ্ছি।

ফেলুদা কিছু ঠিক করলে করেই ছাড়ে। সুতরাং মনের দু:খ মনেই চেপে কোনরকমে বিছানা ছাড়তেই হলো।

ব্রাশ করতে করতে যখন ঘরে উঁকি দিলাম দেখি ফেলুদা শীর্ষাসন করছে।তার সঙ্গে ঘরের কোনায় রাখা রেডিওতে হালকা সুরে বাজছে ভায়োলিন। বিদেশী ইন্স্ট্রুমেন্টালের ভক্ত ফেলুদা এক্সারসাইজোর সময়টাতে হালকা করে মিউজিক চালিয়ে রাখে .. বলে মন:সংযোগে সুবিধে হয়। ফেলুদার সঙ্গে থেকে আমিও অল্প বিস্তর চিনেছি ইন্স্ট্রুমেন্টাল শিল্পীদের । কান পেতে শুনে বুঝলাম আজ বাজছে ফেলুদার প্রিয় নিকোলা আমাটির ভায়োলিন।

বাজনার আওয়াজের ওপর গলা তুলে আমি বললাম .." এই যোগব্যায়াম প্রথম ভারতে কে করেছিলেন...? মনোহর আইচ... যিনি বিশ্বশ্রী হয়েছিলেন জুনিয়র বিভাগে ?"

ঘড়ি ধরে দেড় মিনিট পরে ফেলুদা উত্তর দিলো.... 

" ছাত্রকে মনে রাখলি আর তার মাস্টারমশাইকে চিনিস না...!"

একে তো সাত সকালে ঘুম থেকে ওঠা .. তারপর আবার এতক্ষণ পরে এরকম একটা উত্তর। ভারী রাগ হলো। 

একটু গম্ভীরভাবেই বললাম " মাস্টারমশাই ...?"

যোগাসনের ম্যাটটা ঝেড়েঝুড়ে স্যানিটাইজার দিতে দিতে ফেলুদা বললো..."হ্যাঁ। মাস্টারমশাই .... ব্যায়ামাচার্য বিষ্ণু চরন ঘোষ ওরফে ছাত্রদের প্রিয় 

বিষ্টু দা।"

আমার রাগের জায়গা ততক্ষণে দখল করেছে কৌতুহল।ফেলুদাও বলে চলেছে ..."আমাদের বাড়িতে পুরোনো বাঁধানো যে শিশুসাথীগুলো আছে দেখবি ওখানে বাচ্ছাদের সহজে যোগব্যায়াম শেখাতেন মনোতোষ  রায়  ... উনিও তো বিষ্টু ঘোষেরই ছাত্র।"

"কোথায় ওনার আখড়া ছিলো ..." জানতে চাওয়ায় ফেলুদা বললো .. লালমোহন বাবুর বাড়ির কাছেই .. গড়পারে।আরও মজার ব্যাপার কি জানিস .. তুই যে মনোহর আইচের কথা বলছিলিস ওনাকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েই তো নারায়ণ দেবনাথ বাবু বাঁটুল দ্য গ্রেট সৃষ্টি করেন।  "


আমি ততক্ষণে মুগ্ধ... আর আমার মুখ দেখে সেটা ফেলুদা  বুঝতেও পেরেছে ... হেসে বললো ..." অনেক তো গল্প হলো আর ছোট্ট ইনফরমেশন দেবো । তারপর প্র্যাকটিকাল এক্সারসাইজ শুরু করবি ঠিক আছে!! ১৯৪৬ এর দাঙ্গার গল্প তো পড়েই ছিস নিশ্চয়।বিষ্ণু ঘোষ ও তাঁর আখড়ার ছেলেরা তখন অসমসাহসিকতায় নিজেদের জীবন বিপন্ন করে এগিয়ে গেছিলেন ধর্ম নির্বিশেষে অসহায় মানুষজনকে গুন্ডার হাত থেকে রক্ষা করতে।তাদের উদ্ধার করে নিজেদের আখড়ায় নিয়ে গিয়ে রেখেছিলেন তিনি।"

গল্প বলতে বলতেই ম্যাট স্যানিটাইজ করে মাটিতে বিছিয়ে ফেলেছে ফেলুদা।

এবার আমার মানে কিনা তোপসের ফেলুদার থেকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে এক্সারসাইজ শেখার পালা।


কৃতজ্ঞতা স্বীকার


আম আঁটির ভেপু প্রচ্ছদ (সত্যজিৎ রায়)

আবহ সঙ্গীত - Sean Avram Carpenter

অরিজিনাল লিঙ্ক - https://youtu.be/_pnhewS40ns

Saturday, 20 June 2020

Inca chakra by Finding Felu

 ~~~~~~~ইনকাচক্র~~~~~~~~

গত কয়েকদিন ধরেই টিনটিনে মজে ছিলাম আমি। আজও সকাল থেকেই Prisoners of the Sun নিয়ে বসেছিলাম আর এতটাই মগ্ন হয়ে গিয়েছিলাম যে ফেলুদা কখন সামনের সোফাটায় এসে বসেছে খেয়াল করিনি।

চমক ভাঙলো ফেলুদার কথায় - "জানিস তো ইনকারা ছিলো সূর্যের পূজারী।"

আমি বললাম, "ভাগ্যিস, আর তাই তো কাগজের টুকরো থেকে আসন্ন সূর্যগ্রহণের তারিখ আর সময়টা সংগ্রহ করে, ইনকাদের বোকা বানিয়ে, সকলের প্রাণ বাঁচাতে পেরেছিল টিনটিন।"

"একদম ঠিক বলেছিস।" সূর্যগ্রহণ টিনটিনের প্রাণ বাঁচিয়েছিলো যেমন ঠিক সেরকমই এক ভারতীয় মহাকাব্যের চরিত্রকেও বাঁচিয়েছিলো আত্মহত্যা থেকে ... বলতে পারবি কোন মহাকাব্য আর কোন চরিত্র?" প্রশ্নটা ছুঁড়ে দিয়ে চারমিনারে টান দিয়ে রিঙ বানাতে ব্যস্ত বয়ে পড়লো ফেলুদা।

বেশ খানিক্ষণ ভেবেও যখন কিছু মাথায় এলো না ফেলুদাকে বললাম, "তুমিই বলো..!!"

ফেলুদা বললো, "মহাভারতে জয়দ্রথ বধ মনে পড়ে?"

"সে তো কৃষ্ণ সুদর্শন চক্র দিয়ে সূর্য ঢেকে দিয়েছিলেন..." আমতা আমতা করে বলে উঠলাম আমি।

"আচ্ছা এই সুদর্শনচক্র দিয়ে সূর্য ঢেকে দেওয়া - এটা একটা অবাস্তব কল্পনা নয় কি? এটাকে রূপক হিসেবে যদি ধরা যায়,  তাহলে আমরা ধরে নিতে পারি ঐ সময়ে একটা পূর্ণগ্রাস সূর্য গ্রহণ হয়েছিল। আর কৃষ্ণ সেই খবরটা আগাম জানতেন। তাঁর সুদর্শন দিয়ে সূর্য ঢাকা আর সূর্যের পূর্ণগ্রাস গ্রহণ মিলিয়ে দে। দেখবি , দুয়ে দুয়ে চার।" - ফেলুদা বলে উঠলো। "পৃথিবীর প্রত্যেক পুরাণেই সূর্যগ্রহণ নিয়ে কিছু কিছু গল্প পাবি ... বুঝলি তোপসে ....!!! নর্স পুরাণ অনুসারে, ক্ষুধার্ত একটি নেকড়ে এসে সূর্যকে খেয়ে ফেলে। আবার কোরিয়ান মাইথোলজিতে এই নেকড়ের বদলে কুকুর, এসে আকাশ থেকে সূর্যটাকে চুরি করে নিয়ে যায়। কিন্তু আসলে তো সূর্যগ্রহণ মানে পৃথিবীর উপরে চাঁদের ছায়া।যেমনটা কাল হতে চলেছে।"

ফেলুদা আর আমি তো কাল সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য তৈরী... আপনারা....???

Sunday, 26 January 2020

Mukuler drawing by Finding Felu


আজ প্রজাতন্ত্র দিবস আর তারপর রবিবারের সকাল। মনে মনে ভাবছি একটা স্কুলের ছুটি মিস হয়ে গেলো। আমরা দুজনে, মানে আমি আর ফেলুদা বাড়ির একতলার বৈঠকখানায় বসে আছি। বাবা সুবিমল কাকার বাড়িতে চলে গিয়েছেন অভ্যাস মতো। লালমোহনবাবুর আসার কথা কিছুক্ষণের মধ্যে। আজ আমরা একসাথে বসে দূরদর্শনে রাজপথের কুচকাওয়াজ দেখব, ভদ্রলোক কাল রাতেই টেলিফোন করে জানালেন।

এখন সকাল ৮ টা, হয়তো উনি কিছুক্ষণের মধ্যেই এসে পড়বেন ভাবছি, এমন সময় কলিং বেল বেজে উঠলো, ফেলুদা ইশারায় আমাকে দরজা খুলতে বললো। আমি ভাবলাম ভদ্রলোক এতো সকালে চলে আসলেন! দরজা খুলে দেখি অপ্রত্যাশিত অতিথির আবির্ভাব।

'নমস্কার, ভালো আছো ?' বেশ খুশি খুশি মনেই বললেন আমাদের মুকুলবাবুর বাবা সুধীর ধর। আমিও এক গাল হেসে জানিয়ে দিলাম ভালই আছি। 

'নমস্কার, সুপ্রভাত', ফেলুদা উঠে এসে বললো। আর ওনাকে বসতে অনুরোধ করলো।

ভদ্রলোক বলে চললেন, 'আর বলবেন না, মুকুলের জন্যই আজ আসা, কাল রাতে বসে সে আপনাদের জন্য ছবি এঁকেছে । সকালে উঠেই আমায় বললো তুমি এটা ফেলুদা আর তোপসেদাকে দিয়ে এসো না। তাই সকাল সকাল চলে আসতেই হলো'। এই বলে উনি একটা আর্ট পেপারের মোড়ক ফেলুদার দিকে এগিয়ে দিলেন।

'বাহ! চমৎকার!!' ছবিটি দেখেই ফেলুদা বলে উঠলো।




Thursday, 23 January 2020

Shyambazarer Netaji by Finding Felu



জানিস তোপসে, 'আমরা তো শুধু এটাকে ল্যান্ডমার্ক হিসেবেই দেখেছি, বলতো দেখি এটা কারা বানিয়েছিলো?

' ওরে বাবা আপনি এটাও মনে রেখেছেন?' - মাথা চুলকে বললেন লালমোহন বাবু

আমিও আমতা আমতা করছিলাম।

সেটা দেখে ফেলুদাই বলে চললো,' তবে শোন, কলকাতা মিউনিসিপাল্টি এটা যতদূর মনে পড়ছে ১৯৬৯ হবে, হ্যাঁ ১৯৬৯ সালে এই স্ট্যাচুটিকে এখানে প্রতিষ্ঠা করে। এরকম স্ট্যাচুকে ইক্যুস্ট্রীয়ান স্ট্যাচু বলে, মানে ঘোড়সওয়ারির স্ট্যাচু। কথাটি ল্যাটিন দুটি শব্দ থেকে এসেছে,'এক্স (Eques)' মানে নাইট(যোদ্ধা) আর সেটা আবার এসেছে আর একটি শব্দ থেকে 'ইক্যুয়াস (Equus) যার মানে আবার ঘোড়া।  তা এই ব্রোঞ্জের স্ট্যাচুটি বানায় মারাঠি ভাস্কর নাগেস যোগেল্কার। এটা নিয়ে সেসময় বিতর্কও কম হয়নি, কারণ এটি দেখতে বা বলতে পারিস পুরো কপি ছিল জেমস আউট্রামের স্ট্যাচুর, যেটি আগে পার্ক স্ট্রিট আর চৌরঙ্গি ক্রসিং এ ছিলো।'