~~~~~~ঝড় জলে আমরা~~~~~~~~
আপনারা সব্বাই জানেন আমার কল্পনাশক্তিটা চিরকালই সাধারন লোকের থেকে একটু বেশি । তা আপনারা বলছেন সুপার সাইক্লোন, আর আমি দেখছি এক বিভীষিকাময় গোরিলার গোগ্রাসে দাঁত খিঁচিয়ে এগিয়ে আসা । আমিতো এই গড়পারে এই গড়াগড়ি - ও দিকে পুরো দেশ জুড়ে শিহরণ, হাহাকার আর এসব সামলাতে সব্বাই হিমশিম - আমিতো বলি দ্যা ব্ল্যাকেস্ট লেটার নাইট । তাও বলতেই হবে থ্যাঙ্কস টু বিজ্ঞানের অগ্রগতি, হাওয়া অফিস আগে থেকে প্রেডিকশন টা - না হলে তো আমার মাস্টার মশাই বৈকুণ্ঠ বাবুর কথাই ফলে যেত । ভদ্রলোকের বয়স হয়েছে, সুপার সাইক্লোনের খবর পেয়ে নিজের আগাম স্বর্গপ্রাপ্তি র কবিতা লিখে ফেলেছিলেন -
আম্পানি স্বর্গ
-----------------
এলো আম্পান, ঘনিয়ে আঁধার
ঝিরি ঝিরি বারি ঝরিয়ে।
এত সবে শুরু, শুনছি যেমন
পরে নিয়ে যাবে উড়িয়ে।
ভাবছি শোবনা খাটের ওপর
সেঁধোবত তার তলায়
বেঁচে যেতে পারি, ঝড় যদি শুধু
খাট তুলে নিয়ে পালায়।
আচ্ছা, আসছেত ঝড়
একশ'পঁচাশি বেগে!
আহা বলিই শোননা
কেন আগে যাও রেগে!
মুক্তকচ্ছ দৌড়ই যদি,
উড়ে যদি যাই দু'শ!
তাও আম্পান ধরবে আমাকে?
কি শুনছ কানাঘুষো!
সত্যিই তেড়ে এলে পরে আম্পানে
প্রশ্নটা হল দৌড়ব কোন পানে?
সব থেকে ভাল, গঞ্জিকা টেনে,
স্বপ্নের শাম্পানে,
নয়তো দৌড়ে, উড়ে, ভেসে ভেসে
ওপর দিকেই যাব।
ইন্দ্রের পাশে আয়েশেতে বসে
জমিয়ে গুড়ুক খাব;
উড়ে যেতে হলে, স্বর্গেই তবে যাব।
তা স্বর্গে উনি যাবেন বললেই তো হবে না, আমরা থ্রি মাস্কেটিয়ার্স থাকতে । ঝড় জল তো আমরা ও কম দেখলাম না সে কলকাতা ই হোক বা পাহাড়, জঙ্গল ই হোক বা সমুদ্র - তবে সব দুর্যোগ ই ঠান্ডা হয়েছে ওই তীক্ষ্ম মগজাস্ত্র কাছে ।
এই সেবার বৈকুণ্ঠ পুরে নবকুমার বাবুর সাথে পোড়া ইটের কাজ করা মন্দির দেখতে গিয়ে কি কান্ডটাই না হল । পশ্চিমের আকাশ ঘন কালো করে মেঘ, আর বজ্রপাতের সঙ্গে নামলো তুমুল বৃষ্টি, ওরকম ড্রামাটিক বৃষ্টি আমি তো মশাই দেখিনি । সেই দুর্যোগের সন্ধ্যায় আর কলকাতা এ ফেরা গ্যালো না । আর ভাগ্যিস আটকে পড়লাম নাহলে ভাবুন তো টিনটরেত্তর যীশু র কি হতো?
তারপর সেবার ডুয়ার্স র সেই ভয়ংকর রাত । মহিতোশ সিংহরায় র বাড়ি র পশ্চিম দিকে কালবুনির জঙ্গল । সে রাতে চোখ ধাঁধানো বিদ্যুৎ র সাথে সাথে কানফাটা বাজের আওয়াজ র মধ্যে ই একটা টর্চের আলোও জঙ্গলে র মধ্যে ঘোরাফেরা করছিল । সেই টর্চের মালিক তড়িত বাবু শেষটায় তড়িতপৃষ্ঠ হয়ে... সেই বারেও মগজাস্ত্র র খেলায় উদ্ধার হল নারায়নী মুদ্রা ।
আর সেবার টুয়েন্টি ফোর্থ জুনের ঝড় ( উইন্ড ভেলোসিটি ওয়ান হান্ড্রেড অ্যান্ড ফর্টি ফাইভ কিলোমিটার পার আওয়ার)। তখন ফেলু বাবুর মাথায় পুরনো কলকাতার ভূত... আর আমার সদ্য কেনা গ্রিন অ্যাম্বাসেডর এ চড়ে আমরা তিন মূর্তি গেছি সেন্ট জনস চার্চ -এ জব চার্ণক এর সমাধি দেখতে । ওখানেই এলো সেই প্রলয়ঙ্কর ঝড়, ধুলোর ঝড় এ শহীদ মিনার টাও কোথায় জানি হারিয়ে গেল। গাড়ির মধ্যে থেকেই দেখলাম চানাচুরওয়ালা দের একটা সরু লম্বা বেতের মোড়।র স্ট্যান্ড শূন্যে পাক খেতে খেতে কার্জন পার্কের দিকে হারিয়ে গেল ।
সেদিন তো আমাদের আর প্ল্যান মাফিক গোরস্থানে যাওয়াই হল না, পরদিন কাগজে ছিয়াত্তরটা গাছ ভেঙে পড়ার, সঙ্গে সাউথ পার্ক স্ট্রিট গোরস্থানে নরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস নামের এক ভদ্রলোকের জখম হওয়ার খবর ও বেরিয়ে ছিল । সেদিন দুপুরে খিচুড়ি খেয়ে বিকেলের দিকে যাওয়া হয়েছিল গোরস্থানে । আর জল কাদা ঘেঁটে তার পরের গল্প তো তপেশ ভাই আপনাদেরকে বলেইছে ।
তা এইবারের এই গোগ্রাসে দাঁত বের করা আম্ফান আমাদের সুন্দরবনের যা ক্ষতি টা করলো.. ভাবছি ফেলু বাবু কে নিয়ে একবার ঘুরে আসবো ওদিকে..হরিপদ বাবুর ভায়রাভাই র বাড়ি আছে । শুনলাম সেই গ্রামের অবস্থা বেশ খারাপ, সঙ্গে কিছু শুকনো খাবার, চাল, ডাল, আলু, ত্রিপল নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে... যদি ওনাদের কোনো ইএ মানে কোনো উপকারে আসতে পারি আরকি ... আপনারাও চাইলে এগিয়ে আসতে পারেন...

No comments:
Post a Comment