জটায়ু - সর্দারজী রাজস্থান মে ডাকু হ্যায় ইয়া নেহি হ্যায়?
ড্রাইভার - হ্যায় জি।মন্দার বোস - রাজস্থানে রক্তপাত!
জটায়ু - বাঃ! বাঃ! ওয়ান্ডারফুল। দারুণ বলেছেন তো মশাই। আমি বরং এটা লিখে নি......
(ফেলুদার আগমন)
ফেলুদা - আর লিখে কাজ নেই লালমোহন বাবু। ওনামে আর বই বাজারে চলবে না।
জটায়ু - মানে? মানে?
ফেলুদা - গোঁদা বাংলায় বললে ঐ নামে আপনার নেক্সট উপন্যাস বেরোলে পাব্লিক খাবে না।
মন্দার বোস - এমন কথা বলছেন কেন মশাই? নামটার মধ্যেই তো কেমন একটা থ্রিল রয়েছে। "রাজস্থানে রক্তপাত"!
জটায়ু - তাহলে ফেলুবাবু আপনি বলছেন রাজস্থানে আর ডাকু নেই? আরাবল্লী ছেড়ে তারা সব পালিয়েছে?
মন্দার বোস - নাকি ডাকাতি ছেড়ে সন্ন্যাসী হয়ে হিমালয়ে গিয়ে ধ্যান করছে? হেঁ হেঁ হেঁ!!
ফেলুদা - এর কোনটাই নয়। আরাবল্লীর ডেকয়টসরা এখন দারুণ স্মার্ট। তারা আর রক্তপাত ঘটায় না। তারা এখন ধান্দা বদলেছে। তাতে রিস্কও কম, মুনাফাও বেশী। তার উপর সরকারি মহলের হাত রয়েছে মাথার ওপর। ওরা এখন সবাই কড়োরপতি।
জটায়ু - অ্যাঁ!!
ফেলুদা - অ্যাঁ নয় হ্যাঁ। তারা এখন "পাহাড় চুরি" করছে। খবর শোনেননি, আরাবল্লীর ১২৮ টা ছোটবড় পাহাড়ের মধ্যে ৩১ টা টোটাল ভ্যানিশ।
মুকুল -( খানিক উত্তেজিত হয়ে) যেভাবে দুষ্টু লোককে ভ্যানিশ করে দিয়েছিল ডাক্তার কাকু?
ফেলুদা - ঠিক তাই মুকুলবাবু। সেরকমই ভ্যানিশ।
মন্দার বোস - কি যে বলছেন মশাই কিছুই তো মাথায় ঢুকছে না। এতে লাভটাই বা কি?
ফেলুদা - লাভ অনেক। এই পাহাড়গুলো খননের পর তার পাথর বিক্রী হয়ে যাচ্ছে চড়া দামে। যতটা হচ্ছে বৈধভাবে তার থেকে বেআইনি খনন চলছে অনেক বেশী। আর তা বাবদ রাজস্থান সরকার বছরে ৫০০০ কোটি টাকা রয়্যালটি পাচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে এ খনন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।
মন্দার বোস - তাও ভাল। আমি তো ভাবলুম স্বয়ং হনুমান এসে গন্ধমাদনের মত এই পাহাড়গুলো কাঁধে করে তুলে নিয়ে যাচ্ছে।
ফেলুদা - হনুমানই বটে। রাজস্থানে ক্ষমতায় তো তাদেরই ভক্তরা। ফলে তারা যে ইন্সপায়ার্ড হয়ে একের পর এক পাহাড় সাবাড় করবে এতে আর নতুন কি! আপনি লালমোহন বাবু শুধু শুধুই ঐ জং ধরা অস্ত্রটি এদ্দূর বয়ে নিয়ে এলেন।
জটায়ু - তা যা বলেছেন।(ব্যাগ হাতড়ে) কিন্তু একি! অস্ত্র হাওয়া। শুধু খাপটি অবশিষ্ট রয়েছে.....
No comments:
Post a Comment