বিখ্যাত রহস্য রোমাঞ্চ ঔপন্যাসিক লালমোহন গাঙ্গুলি ওরফে জটায়ু , কাগজের ঠোঙা থেকে একটা চিনে বাদাম আঙ্গুলের আলতো চাপে ভেঙে খোসাটা পুনরায় ঠোঙাতেই ফেলে , বেজার মুখ করে সেটাকে মুখে পুরে বললেন , 'ও মশায় এখন ওখানে না গেলেই কি চলছিল না ? আপনি তো জানেনই জায়গাটার প্রতি আমার একটু ইয়ে আছে ।'
Please note this is my personal blog. The objective of this personal blog is to have an online archive of all the fan fiction stories / pastiches that’s been written about Feluda for my personal consumption on the go. Therefore, searching for this blog via search engines has been turned off. If you have reached my blog, please be aware that I do not claim any copyright to any of the content here. The copyright lies solely and wholly with the author/creators/other appropriate holders etc.
Saturday, 22 May 2021
Fan Fiction by Sourav Halder
লালমোহন বাবুর এইরূপ বেজার মুখের কারণ আর কিছুই নয় ; ধর্মতলা থেকে নিউ মার্কেট ফেলে ময়দান এর দিকে যাবার পথে ফেলুদা হঠাৎ হরিপদ বাবুকে বললো গাড়িটা পার্ক স্ট্রিট গোরস্থানের দিকে ঘোরাতে । অনেকদিন ওই দিকটা যাওয়া হয়নি । বিশেষ কোনো কারণ বা তদন্ত নয় ; এমনই একটু ঘুরে আসা । শেষ যে বার গিয়েছিলাম সেই টমাস গডউইন এর ব্যাপারটায় , সেবার অবশ্য রাত্রে গোরস্থানে যাবার একটা ব্যাপার হয়েছিল , কিন্তু আজ আমরা যাচ্ছি সম্পূর্ণ দিনের পরিষ্কার আলোতে ।
ফেলুদা তার চারমিনারে একটা লম্বা টান দিয়ে বললো , 'তা জটায়ুর কি সাহসের স্টক ফুরিয়ে আসছে নাকি লালমোহন বাবু ? তার গোয়েন্দা প্রখর রুদ্র যে দিনদিন প্রদোষ চন্দ্র মিত্রের রূপ নিচ্ছে , তা গোয়েন্দার ইমপ্রুভমেন্টের সাথে তার সৃষ্টি কর্তাকেও ইমপ্রুভ হতে হবে তো !' এই কথায় লালমোহন বাবু বললেন , 'পরিবর্তন হয়নি বলছেন ! আসলে মনে সাহস থাকলেও গোরস্থান জায়গাটা শুনলে ওই সাহসটাকে আর স্নায়ুর সাথে মেলাতে পারি না স্যার !'
ফেলুদা বললো , 'আপনি ঘাবড়াবেন না লালমোহন বাবু । এই একবিংশ শতাব্দীতে গোরস্থান জায়গাটাকে আর কেউ ভয় করে না । এখানে আজকের মানুষ গিয়ে সেল্ফি তুলে আসে । এই শতাব্দীতে ভূতের থেকেও ভয়ের হলো ভাইরাস ।'
আমি বললাম , 'লালমোহন বাবুর নতুন গল্পের প্লটও কিন্তু ওই ভাইরাস নিয়েই ফেলুদা !'
ফেলুদা বললো , 'বটে ! তাহলে সত্যিই উন্নতি হয়েছে ধরতে হয় । রিসার্চ ওয়ার্কটা কিন্তু শক্ত রাখবেন । কারণ এযুগে আর ওই গাঁজাখুরি গল্পে কেউ পাত্তা দেবে না । ইন্টারনেটের যুগে সবাই অনেক ইনফরমেশন রাখে বাড়িতে বসেই ।'
লালমোহন বাবু বললেন , 'আপনি তো আছেনই । আর জানেন মশায় এবারে আমার গোয়েন্দাকে তদন্ত করতে বিদেশ পর্যন্ত যেতে হবে শুধু তাই নয় রিসার্চ সায়েন্টিস্টদের সাথে কথা বলে তাদের রিসার্চও বুঝতে হবে ।'
ফেলুদা বললো , 'বটে ! বেশ তো প্লট না হয় গোরস্থানে ঢুকে বিচার করা যাবে । আগে যেটার জন্যে জটায়ু বিখ্যাত সেটা শুনি !' বলে ফেলুদা তার শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা পূর্ণ উৎসুক হাসিটা দিল যেটার অর্থ আমি জানি যে ও লালমোহন বাবুর গল্পের নামকরণের ব্যাপারটা কতটা কদর করে । আর এরই সাথে ফেলুদার কাছ থেকে গ্রীন সিগন্যাল পেয়ে লালমোহন বাবু ঠোঙার শেষ বাদামটা মুখে পুরে একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বললেন ,'ভাইরাসে ভিরমি !'
Note: this is my personal blog. The copyright of the story lies solely and entirely with the author.
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment