।১।
-“ম্যাজিকের ইতিহাসে ‘কিং অফ হ্যান্ডকাফস নামে কে পরিচিত?”
-“হ্যারি হুডিনি।”
-“আসল নাম?”
-“Erik Weisz হাঙ্গেরিতে থাকাকালীন,আর উইসকনসিনে আসার পর Ehrich Weiss।”
-“কত সালে জন্ম?”
-১৮৭৪ ।
-“আর মৃত্যু কবে এবং কিভাবে?”
-“১৯২৬ সালে,কেউ বলে অ্যাপেন্ডিক্স রাপচার,কেউ বলে বিষক্রিয়ায় খুন করা হয় হুডিনি কে।”
-“খুন কেন?”
-“আসলে উনি স্পিরিচুয়াল বা প্যারানর্মাল অ্যাক্টিভিটি কে স্রেফ ভাঁওতা বলে মনে করতেন,এবং স্পিরিচুয়ালিস্ট দের দুচোখের বিষ হয়ে উঠেছিলেন।”
-“সাবাস তোপসে! ফুলমার্কস!”
-“যাক বাবা! পাশ করে গেছি তাহলে।” এতক্ষণ প্রশ্নগুলো করছিল ফেলুদা,আর আমি উত্তর দিচ্ছিলাম।আমার এই বেশ কিছুদিন একটা নেশা পেয়ে বসেছে ‘দ্য ইলিউশনিস্ট’ সিনেমাটা দেখার পর।সেটা হল ম্যাজিক।ফেলুদা অবশ্য সবই জানে প্রায়,কিন্তু আমাকে ইন্টারনেট ঘেঁটে দেখতে হচ্ছে ম্যাজিক সম্বন্ধে।
-“জানিস তোপসে,ম্যাজিকের ইতিহাস ঘাঁটলে বহু লৌকিক,অলৌকিক গল্পগাথার কথা জানা যায়,তার সবটা হয়তো সত্যি নয়,কিন্তু বেশ ইন্টারেস্টিং বুঝলি?প্রাচীন ইজিপ্টে ২৭০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে ডেডি বলে এক মানুষের কথা জানা যায় যিনি নাকি ছোট ছোট পাখির গলা কেটে,আবার জুড়ে দিয়ে তার দেহে প্রাণ ফিরিয়ে আনতেন।”
-“এ তো নেহাতই হাতসাফাই।‘দ্য ইলিউশনিস্ট’ আর ‘প্রেস্টিজ’ সিনেমায় ব্যপারটা দেখিয়েছিল না?”আমি জিজ্ঞেস করলাম।
-“হ্যাঁ দেখিয়েছিল তো।তবে একটু অন্যভাবে।ম্যাজিক সম্বন্ধে প্রথম যে বইটির উল্লেখ পাওয়া যায় সেটা হল‘The Discoverie of Witchcraft’, পাবলিশ করেছিলেন রেজিনাল্ড স্কট ১৫৮৪ সালে । ১৭ শতকের গোড়ার দিকে ওনার বইয়ের কপিগুলো পুড়িয়ে ফেলা হয় তৎকালীন ইংল্যান্ড,স্কটল্যান্ড আর আয়ারল্যান্ডের রাজা জেমস চার্লস স্টুয়ার্ট এর কথায়।আসলে উইচক্র্যাফট এর বিরুদ্ধে রোমান চার্চকে দায়ী করেছিলেন তিনি।
এই বলে একটা চারমিনার ধরালো ফেলুদা।আসলে যখন কোন বিষয়ে বলতে শুরু করে,নিজের ভেতরের মাস্টারমশাইটাকে লুকিয়ে রাখতে পারে না আর।
ফেলুদা আবার শুরু করতে যাচ্ছিল,কিন্তু বাড়ির নিচ থেকে হর্নের আওয়াজ পেয়ে বলল-“লালমোহনবাবু,দরজাটা খোল তোপসে।”
ওকে পরে জিজ্ঞেস করাতে বলেছিল,হরিপদ বাবু একটা বিশেষ প্যাটার্নে হর্ন দেন,সেটা নাকি ওর দুদিন লেগেছিল বুঝতে।
।২।
লালমোহনবাবু প্রবেশ করতেই বললেন-“মশাই আজ লাঞ্চটা এখানেই করব বুঝলেন,তারপর ৪টে নাগাদ চলে যাব তপন থিয়েটার।এই দেখুন মশাই ৩টে অনলাইন টিকিট কেটে রেখেছি বুক মাই শো থেকে।থ্রি টিকিটস অফ দ্য শো অফ দি গ্রেট জাদুকর পি.সি.সরকার(জুনিয়র)।”
-“ইন্দ্রজাল।দেখেছি বার দুয়েক।কিছু ট্রিক ধরেও ফেলেছি আমি।তবে যাব তার আগে বলুন তো
এস্কেপিস্ট বলতে কি বোঝেন?”প্রশ্ন করল ফেলুদা
-“জানি না মশাই!বলুন আপনি।”উত্তর দিলেন ভদ্রলোক।
-“তোপসে”?
-“হাতে পায়ে চেন বা শেকল দিয়ে বেঁধে রেখে,কোথাও আটকে রাখা হয় একজন কে,এবং তিনি সেই সমস্ত বাঁধন খুলে ঠিক বেরিয়ে আসেন।এনাদের এস্কেপিস্ট বলা হয় লালমোহনবাবু।”
“পি.সি.সরকার সিনিয়র এরকম করেছিলেন বলে শুনিচি এককালে।”জবাব দিলেন ভদ্রলোক।
“তা শুনেছেন বৈকি।তবে এ জিনিস কে জনপ্রিয় করেছিলেন হ্যারি হুডিনি।যার নামের অনুপ্রেরণা হলেন আরেক জনপ্রিয় ফরাসি ম্যাজিশিয়ান রবার্ট হুডিন।তবে পরবর্তী কালে হ্যারি হুডিনি তার ‘দ্য আনমাস্কিং অফ রবার্ট হুডিন’ গ্রন্থে সম্পূর্ণ ভাবে মুখোশ খুলে দিয়েছিলেন রবার্ট হুডিনের।তিনি লিখেছিলেন কিভাবে অন্যের কাজ নিজের বলে চালাতেন রবার্ট।”
“বাব্বা! এ জিনিস তো জানতুমই না মশাই!ম্যাজিক সম্বন্ধে আমার আমার দৌড় ওই পি.সি.সরকার পর্যন্ত।”
বললেন জটায়ু।
দুপুর বেলা খেয়ে দেয়ে,একটু বিশ্রাম নিতে নিতে কয়েকটা তাসের ম্যাজিক দেখাচ্ছিল ফেলুদা।সব দেখে শুনে জটায়ু মন্তব্য করলেন-“আপনি গোয়েন্দাগিরি ছেড়ে ম্যাজিক ধরুন মশাই।”
৪টে নাগাদ আমরা বেরোলাম লালমোহম বাবুর গ্রীন অ্যাম্বাস্যাডারটায় চড়ে। রজনী সেন রোড থেকে তপন থিয়েটার খুব বেশি হলে মিনিট কুড়ির পথ।
গাড়িতে যেতে যেতে জটায়ু বললেন
-“একটা প্রশ্ন করতে পারি?”
-“করুন!”জবাব দিল ফেলুদা।
-“পি সি সরকার সিনিয়র কি সত্যি ট্রেন আর তাজমহল ভ্যানিশ করতে পারতেন?আর শুনেছি উনি নাকি কোথাও একটা এক ঘন্টা পর পৌঁছে,সবার হাতের ঘড়ির টাইম একঘন্টা পিছিয়ে দিয়েছিলেন?”
-“এরকম অনেক গল্প ছড়িয়ে আছে পৃথিবীর সমস্ত দেশের ম্যাজিশিয়ানদের নিয়ে ।সত্যি না মিথ্যে সেটা বিশ্বাসের ভার নিজের উপর।তবে এ দেশে ওই ‘কাটিং ওম্যান ইন হাফ’ খেলাটি জনপ্রিয় করেন প্রতুল চন্দ্র সরকার।তবে এর মূল লুকিয়ে আছে রবার্ট হুডিনের একটি ফিকশন ‘Memoirs’ এর মধ্যে।অনেকে বলে থাকেন টরিনি নামের এক জাদুকর, পোপ সপ্তম পিউস কে প্রথম এ জিনিস দ্যাখান।কিন্তু তার অস্তিত্ব নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি আছে। ১৯২১ সালে সেলবিট নামের এক জাদুকর লন্ডনে প্রথম জনসমক্ষে এর প্রথম প্রদর্শন করেন বলে ধরে নেওয়া হয়।”
“গায়ে কাঁটা দিচ্ছে মশাই!”-স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গীতে বললেন ভদ্রলোক।
।৩।
পি সি সরকারের ম্যাজিক সত্যিই মন্ত্রমুগ্ধ করার মত।‘ওয়াটার অফ ইন্ডিয়া’,ঘটির জল যেন আর শেষই হয় না।পরে ফেলুদা বলেছিল,একটা বিশেষ ধরনের ভাল্ভ সিস্টেম পাত্র,শুধু কখন কতটা জল ছাড়বে সে অভ্যেস করলেই এ ম্যাজিক জলভাত।আরো কিছু হাতসাফাই এর খেলা,কার্ডের খেলা,টুপির ভিতর থেকে খরগোশ,রং বে রঙের ফিতে ইত্যাদি অতি পরিচিত ম্যাজিক দেখালেন।আর তারপর দুম করে নিজেকে একটা আলমারির মত জিনিসে বন্ধ করে দিলেন নিজের হাত পা বেঁধে।খানিক বাদে উধাও হয়ে,থিয়েটারের পেছনের দরজা দিয়ে প্রবেশ করে সবাইকে অবাক করে দিলেন।লালমোহন বাবুর মুখ হাঁ হয়ে গ্যাছে ততক্ষনে।এরপর ওই ‘কাটিং ওম্যান ইন হাফ’দেখালেন,তবে ব্যাপারটা ভীষণ যান্ত্রিক লাগল।কাঠের বাক্সের মধ্যে একজন মহিলা সহকারি কে ঢুকিয়ে কাঠের বাক্সটা দুভাগে কেটে দিলেন করাত দিয়ে।যেন মহিলাটিও দুভাগ হয়ে গেল।কিন্তু কোথায় কি,একভাগ একদিকে,আর পায়ের দিকটা অন্যদিকে,দিব্যি বুড়ো আঙুল নাচাচ্ছেন মহিলা।আসল রহস্য ওই বিশেষ ভাবে নির্মিত কাঠের বাক্সে লুকিয়ে।আসলে বাক্সের দুটো ভাগে দুজন মহিলা থাকেন।একজনকে আমরা দেখি,যিনি বাইরে থেকে প্রবেশ করেন,আরেকজন আগে থেকেই বাক্সের অন্য ভাগে লুকিয়ে থাকেন।প্রথম মহিলাটির মাথার অংশ এবং দ্বিতীয় মহিলাটির পায়ের অংশ আমরা দেখতে পাই।কাজেই জাদুকর যখন ওই বিশেষ ভাবে নির্মিত বাক্সটিকে করাত দিয়ে কাটার ভান করেন,সে সময় বাক্সটি দুটি আলাদা ভাগে ভাগ হয়ে যায়,দুই মহিলা কে আপাতদৃষ্টিতে দেখে মনে হয় তারা একই মানুষ,এবং বাক্সের সাথে সাথে মনে হয় মহিলাটিও অর্ধেক হয়ে গ্যাছেন।এগুলো অবশ্য ফেলুদাই বলছিল গাড়িতে ফেরার পথে।তবে তাক লাগানোর মত বিষয় হল ‘দিব্যদৃষ্টি’ ।নিজের চোখে ময়দা আর রুমাল দিয়ে বেঁধে,কিছু দর্শককে সামনে রাখা গ্রীনবোর্ডে চক দিয়ে কিছু লিখতে বললেন।কেউ লিখল কোন সংখ্যা,কেউ কোন অঙ্কের সূত্র।সবগুলোই ঠিক ঠিক বলে দিলেন জাদুকর।সবশেষে একজন একটা স্টার আঁকায় সেটি থেকে পি সি সরকার সিনিয়র এর ছবি এঁকে জাদু দেখানো শেষ করলেন পি সি সরকার।ফেরার পথে ফেলুদা বলছিল ফাদার অফ মডার্ন ইন্ডিয়ান ম্যাজিক বলতে পি সি সরকার সিনিয়র কেই বোঝায়।সেই ধারাটা বেশ বজায় রেখেছেন জুনিয়র সরকার।
“একবার আলাপ করতে পারলে মন্দ হত না মশাই!হিপনোটিসম ফিসম জানেন নিশ্চয়ই,কি বলো হে তপেস ভায়া?”বললেন জটায়ু।
“কেন?আপনার পূর্বজন্ম না পরজন্ম,কোনটা সম্বন্ধে কৌতূহল জেগেছে?”
নো স্যার!আমার নেক্সট উপন্যাসটা লিখব ম্যাজিক নিয়ে।যেখানে আমার হিরো প্রখর রুদ্র কে গল্পের ভিলেন একটা হাঙরের মুখে ঢুকিয়ে দেবে হাত-পা বেঁধে।আর প্রখর রুদ্র ম্যাজিক শিখে এসকেসিপ্ট হয়ে যাবে।নামও ভেবে ফেলেছি-‘হাঙর পেটে হিং টিং’।
“খাসা নাম ভেবেছেন।কিন্তু ওই এস্কেসিপ্টটাকে এস্কেপিস্ট করে দেবেন,নইলে হাঙরের পেট থেকে প্রখর রুদ্র কে বের হতে হিমশিম খেতে হবে এটুকু গ্যারান্টি আপনাকে আমি দিতে পারি।”বলল ফেলুদা।লালমোহনবাবু আমাদের বাড়িতে ড্রপ করে দিয়ে বললেন-“তপেস ভায়া,আজকের সেলফি গুলো ফেসবুকে পোষ্ট করে দিও কিন্তু,ভালো করে দেখাই হল না।এই বলে গড়পাড়ের বাড়ির দিকে রওনা দিলেন ভদ্রলোক তার সবুজ অ্যাম্বাস্যাডারটায় চেপে।
।৪।
দিন সাতেক বাদের একটা বিকেল।আমি লালমোহনবাবুকে সদ্য ফেলুদার থেকে শেখা একটা তাসের ম্যাজিক দেখাচ্ছি,ফেলুদা ইউটিউবে কি সব মার্ডার মিস্ট্রি দেখছে,এমন সময় ঘরের টিউবলাইটের হঠাৎ কেঁপে উঠল।ফেলুদা একটু ভুরু কুচকে ওদিকটা তাকিয়ে আবার ইউটিউবে মন দিল।চার পাঁচ সেকেন্ড পরেই ঘরের আলোটা দপদপ করতে করতে নিভে গেলো।নিভে যাওয়ার আগের মুহূর্তেই দেখলাম ফেলুদা একলাফে,আলমারিটার কাছে চলে গ্যাছে।পরক্ষনেই দেরাজ খোলার আওয়াজ পেয়ে বুঝলাম .৩২ কোল্ট রিভলবারটা এখন ফেলুদার হাতে।এরপর ক্যাঁচ করে ঘরের দরজা খোলার শব্দ,আর তারপরেই ঘরে হঠাৎ আলো জ্বলে ওঠায় চোখ ধাধিয়ে গেছিলো।একটু ধাতস্থ হয়ে দরজায় যাকে দেখলাম তাকে চেনেন না এমন মানুষ বোধহয় পৃথিবীতে নেই।
ফেলুদার হাতের রিভলবারও নেমে এসছে,কালো কোট,কালো প্যান্ট,গলায় লাল স্কার্ফ,মাথায় লম্বা টুপি,হাতে জাদুদন্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটাকে দেখে!লোকটা আর কেউ নয়,লি ফক রচিত সর্বকালের সেরা ইলিউশনিস্ট ম্যানড্রেক দাঁড়িয়ে দরজায়!!
“কাম ডাউন মিঃ মিত্তির।কেমন লাগল আমার ম্যাজিক?”
-লালমোহনবাবু অবাক বিস্ময়ে বললেন-“কমিক্স বুক টু স্ট্রেইট রজনী সেন রোড!এ তো টেলিপ্যাথির ঠাকুরদাদা মশাই!”
“আসলে আমি আপনাদের দেখলাম,সরকারের ম্যাজিক শো তে।বেরোবার সময় আপনি আপনার ভাইকে ম্যাজিক ট্রিক বোঝাচ্ছিলেন।পরে জানলাম আপনি ডিটেকটিভ!”
“সরকার ইস গুড,বাট অ্যাম বেটার!”
এই বলে ম্যানড্রেক জাদুদন্ডটা ফেলুদার দিকে নিক্ষেপ করলেন।অনেক চেষ্টা করেও ফেলু মিত্তির কে হিপনোটাইস করা গেলো না।অবশেষে হাল ছেড়ে দিয়ে ম্যানড্রেক বললেন-“নো!ইটস নট ওয়ার্কিং!”
“ওকে নাউ আই উইল ট্রাই দ্য এক্স রে ভিশন!”
এই বলে সামনে রাখা রুমালটা ভাঁজ করে আমায় বেঁধে দিতে বললেন।তারপর ফেলুদাকে বললেন খাতায় কিছু একটা লিখতে।ফেলুদা একটা চশমার ছবি এঁকে ম্যানড্রেক কে দিল।সেই চশমাটা থেকে ম্যান্ড্রেক একজনের ছবি এঁকে বললেন,”যদি সত্যিই ইন্ডিয়ার ম্যাজিশিয়ন কেউ হয়ে থাকে,তিনি হলেন এই মানুষটা।বলে উঠলেন ম্যানড্রেক।চলে যাবার আগের মুহূর্তে ফেলুদার ঠান্ডা গলাটা শোনা গেলো-“প্রদীপ বাবু!আপনার টুপিটা ফেলে যাচ্ছেন!”
ম্যানড্রেক ঘুরে “থ্যাঙ্ক ইউ” বলেই ,জিভ কাটলেন।বুঝলেন তিনি ধরা পরে গ্যাছেন!
“মেকআপ খুলে ফেলুন মিঃ সরকার!” ফেলুদার কথায় আস্তে আস্তে মেকআপ খুলতেই যে ম্যান্ড্রেক বদলে গেলেন প্রদীপ সরকার অর্থাৎ পি সি সরকার জুনিয়রে!
“আসলে সেদিন আপনাদের আমার শো তে দেখে ভীষণ মনে হতে থাকে আপনাদের সাথে আলাপ করার কথা!আর সে সুযোগে ফেলু মিত্তিরের বুদ্ধির পরিচয়ও পেয়ে গেলাম চাক্ষুস!কিন্তু মশাই আপনি বুঝলেন কি করে?”
-“ওই রুমাল ভাঁজ করা দেখে।ম্যন্ড্রেক আর পি সি সরকারের রুমাল ভাঁজ করার পদ্ধতি হুবহু এক!”বলল ফেলুদা!
-“ধন্যি আপনার দৃষ্টিশক্তি!অতদূর থেকে কিভাবে বুঝলেন বলুন তো?”
-“আপনার যেমন ইন্দ্রজাল,হ্যারির যেমন ওয়ান্ড,তেমনি আমারও একটা ম্যাজিকাল ওয়েপন আছে মিঃ সরকার!”
-“কী?”জিজ্ঞেস করলেন জাদুকর!
-“মগজাস্ত্র!”
খানিক আগে ম্যান্ড্রেক রুপি পি সি সরকারের আঁকা ছবিটা থেকে হাসছেন সত্যজিৎ রায়!যে হাসির জাদু বলতে চাইছে মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ বন্ধ হোক,সন্ত্রাস বন্ধ হোক,দুষ্টু দাঙ্গাবাজ লোকেদের শাস্তি দিক ফেলুর মগজাস্ত্র,আর পৃথিবী থেকে ধর্মভেদ কে মুছে ফেলুক সরকারদের ইন্দ্রজাল!!
Note: this is my personal blog. The copyright of the story lies solely and entirely with the author.

No comments:
Post a Comment