Saturday, 27 January 2018

Londoney Londobhondo by Snehajit Lahiri

 In the 1989 annual issue of the Bengali periodical Desh, Prodosh Chandra Mitter, aka Feluda, aka ABCD (Asia’s Brightest Crime Detector), goes to London. He takes a pilgrimage to Baker Street, and standing in front of 221B, pays the following tribute: “Guru, we would not have been here without you."


He has also acknowledged Holmes as not only his guru but the guru of all private investigators in the 1989 story 'Golapi Mukta Rahasya' in the opening scene where he is giving a speech at Panihati.

This fan fiction bring the guru and shishya together.

***

লন্ডনে লন্ডভন্ড
স্নেহজিৎ লাহিড়ী | Link



(১)
-“কাম কাম! প্লিজ সিট দেয়ার।আই ওয়াজ ওয়েটিং ফর ইউ! হে হে ওয়েলকাম টু মাই লন্ডন কা মাকান।
ইউ নো মাকান?ইটস এ বিগ হাউজ। হোয়াট উইল ইউ টেক টি অউর কফি”? ঘরে প্রবেশ করা দুই ব্যক্তির একজনের দিকে তাকিয়ে, বিছানাতে কনুই দিয়ে ভর দেওয়া অবস্থায় আধশোয়া হয়ে জিজ্ঞেস করলেন ভদ্রলোক।
-“থ্যাঙ্ক ইউ,বাট লেটস টক বিসনেস। আই ডোনট হ্যাভ মাচ টাইম!হি ইস মাই ইন্টারপ্রেটর।ইউ ক্যান স্পিক ইন হিন্দি অ্যান্ড বেঙ্গলি ইফ ইউ ওয়ান্ট”।এই বলে পাশে বসা ভদ্রলোকের দিকে নির্দেশ করলেন আগন্তুক।লম্বা,ফর্সা,চোখগুলো যেন কথা বলে।গোটা চোখেমুখে অসম্ভব তীক্ষ্ণ বুদ্ধির ছাপ।বয়স চল্লিশের আসে পাশে হবে।
-“হামি ইংলিশ বুঝি।আপনার দোভাষী কে আমায় বলতে হবে না।আপনি ব্যস্ত আদমি আছেন। উপর সে ক্ষুরধার বুদ্ধি ভি আছে আপনার।বহুত শুনা হ্যায় আপকে বারে মে । আপতো এখানে ওয়ার্ল্ড ফেমাস আছেন,এই সাধারণ বেওসায়ির উপর আপনার দৃষ্টি কেনো পড়ল বলুন তো”?
পাশে বসা ভদ্রলোক ইংরিজিতে ট্রান্সলেট করে বুঝিয়ে দেওয়ার পর আগন্তুক ভদ্রলোক উত্তর দিলেন-
“আই হ্যাভ হার্ড অ্যাবাউট ইউ।আই নো ইওর জব।জাস্ট টেল মি হোয়াট ডু ইউ ওয়ান্ট হিয়ার ইন লন্ডন?ইউ হ্যাভ স্টার্টেড ইউর বিস্নেস হুইচ মে অ্যাফেক্ট মি”।
-“এ আপনি কেমন কথা বলছেন বলুনতো? আমি সামান্য বেওসায় নেমেছি আর তাতে কিনা আপনার ওসুবিধে হচ্ছে?নো দিস ইস নট এ গুড নিউজ!আমি আমার মতো সামান্য এক্সপোর্ট বিজনেস করছি!আপনার সেটা নিয়ে ভি মুশকিল হচ্ছে”?
প্রত্যুত্তরে আগন্তুক জবাব দিলেন-“ হিয়ার মিঃ ! লিসেন কেয়ারফুলি,ইউ ডোন্ট হ্যাভ এনি আইডিয়া হাউ ফার আই ক্যান গো।আই ডোন্ট ওয়ান্ট এনি কম্পিটিটর হিয়ার।ইটস বেটার ইউ জাস্ট স্টে লো অ্যান্ড আই উইল নট ডিস্টার্ব ইউ ।আই হোপ ইউ হ্যাভ হার্ড মাই নেম?”
- “হাঁ বিলকুল শুনা হ্যায়! ক্যা থা ক্যা থা...হা মরিয়াটি রাইট?”
-“ইটস প্রোফেসর জেমস মরিয়ার্টি!” এই বলে ভদ্রলোক গটগট করে হাঁটা লাগানের সামনের দিকে।”
-একহি বাত হলো।মরিয়ার্টি সাহাব।আপনি ভি শুনুন ।আমার নাম মগনলাল মেঘরাজ ।আমি যখন যেখানে যেটা চাই সেটা শুধু করি না,প্রয়োজন হলে কেড়ে নি!ইয়াদ রাখবেন।আর উয়ো বাড়ির আশা আপনি ছেড়ে দিন প্রোফেসর!ফির কভি আসবেন যদি কখনো একসাথ কাম করবার ইচ্ছে থাকে। গুডনাইট!”
(২)
“এই নিন মশাই আপনাদের জন্যে স্পেশাল ওয়াও মোমো নিয়ে এলাম চার প্যাকেট।ফোর ডিফারেন্ট ফ্লেভার্স স্যার!কী ভায়া তপেশ,মোমো খাও তো নাকি?বড় সুস্বাদু বস্তু ওটি ।”-ঘরে ঢুকেই একটা বড় প্লাস্টিক টেবিলের উপর রাখতে রাখতে বললেন বিখ্যাত রহস্য রোমাঞ্চ ঔপন্যাসিক লালমোহন গাঙ্গুলি ওরফে জটায়ু ।
-আমি বললাম “খাই মানে?আমার আর ফেলুদার হট ফেভারিট জিনিস লালমোহনবাবু!”
-“যাক তাহলে তো কথাই নেই,বিকেলের স্ন্যাক্সটা এখনই সেরে নিলে মন্দ হয় না কী বলেন ফেলুবাবু?”
-জটায়ুর প্রশ্নের উত্তরে ফেলুদা ওর একপেশে হাসিটা হেসে বলল “তা মন্দ হয় না বৈকি! কিন্তু আপনার নতুন গাড়ি কেনার খুশিটা শুধু মোমো দিয়ে সেলিব্রেট করব,তা কী হয় বলুন?”
-“ওরে বাবা আপনি বুঝলেন কি করে? আমি তো বলিনি আপনাদের কিছু!”বেশ অবাক হয়ে বললেন ভদ্রলোক।
-“কী তোপসে? কিভাবে বুঝলাম ?”
ফেলুদার প্রশ্নে আমার বেশ মজা লাগল।কারণ এটা আমিও ধরে ফেলেছিলাম। বললাম –“ গাড়ির হর্ণ ফেলুদা! লালমোহন বাবুর পুরনো আম্ব্যাসাডারটার হর্ণ অনেক বেশি তীক্ষ্ণ ছিল।আজ যখন হরিপদ বাবু বাড়ির পাশে গাড়িটা পার্ক করছিলেন,অভ্যেসবশত দুবার হর্ন দিয়ে ফেলেন।যেটা ওনার অভ্যেস।আর তাছাড়া আপনার সদ্য কেনা গাড়ির একটি জিনিস আপনার বুকপকেট থেকে উঁকি মারছে।”
-“এই দেখেছ কান্ড!”বলে জিভ কেটে ভদ্রলোক চাবিটা সাবধানে পকেটে চালান করলেন।আসলে হয়েছে কী জানেন হরিপদ কাছেই ওর একটা আত্মীয়ের বাড়ি গেলো।তাই আমি চাবিটা নিয়ে নিলুম সাথে।আর গাড়িটা কালই পেয়েছি।গড়পাড়ের বাঁড়ুজ্জ্যে পুরুত কে দিয়ে পুজো করালুম সকালে,আজ একেবারে সটান এইখানে।মারুতি সুজুকি সেলেরিও।বেশ আরামদায়ক কিন্তু যাই বলুন মশাই!”
-“তা এবারের টাও কি গ্রিন নাকি?”আমি জিজ্ঞেস করলাম ।
-“নো ব্রাদার! এবার ওই টকটকে লাল!রেয়ার এডিশন!” বললেন ভদ্রলোক।
-“আচ্ছা ফেলুবাবু আপনার কাজকর্ম কী এলো নতুন কিছু?”
-“আপাতত কাজকর্ম বলতে ওয়াও মোমো! ও জিনিস ঠান্ডা হলে ভালো লাগেনা !”
তিনজন মিলে লালমোহনবাবুর আনা মোমোর সদগতি করছি,ঠিক সে সময়ে আমার মোবাইলে একটা নোটিফিকেশন সাউণ্ড এলো।ভাবলাম কেউ বুঝি হোয়াটসঅ্যাপ করেছে,ওমা খুলে দেখি টাইমস অফ ইন্ডিয়ার একটা নিউজ নোটিফিকেশন। খুলে যেটা দেখলাম,সেটা দেখে আমার হাত কাঁপতে থাকল।
ফেলুদা ব্যাপারটা দেখে ফোনটা আমার হাত থেকে কেড়ে নিল!খবরটা যা ছিল তার বাংলা করলে মোটামুটি এই দাঁড়ায়,
“লন্ডনে কীড স্ট্রিটের এক বাসিন্দা জনৈক ওয়াল্টার স্যাঞ্চো,পেশায় রিয়েল এস্টেট ম্যানেজার,পরশু সন্ধ্যে সাতটা নাগাদ নিজের বাড়ির সামনে একটি গাড়িতে মৃত অবস্থায়,ফোন এবং ল্যাপটপ সহ পাওয়া যায় । তার কললিস্ট আর গাড়ির জিপিএস ট্র্যাকার দেখে পুলিশ বের করেছে ভদ্রলোক মৃত্যুর আগে শেষবার যে লোকেশনে গেছিলেন,সেখানকার লোকেশন আর লাস্ট ফোনকলের লোকেশন মিলে যাচ্ছে। এবং সেই ফোনকলের ব্যক্তি ভারতীয়,নাম মগনলাল মেঘরাজ।”
-“ম ম ম ম ...”
-“গনলাল!” জটায়ুর ব্যোমকে যাওয়া দেখে কথা শেষ করল ফেলুদা।
-“তাহলে কী দাঁড়ালো হালুয়ামোহন বাবু?”
-“লালমোহন,মোহনলাল,মগনলাল আর আমার মারুতি! সব লালে লাল !” কাচুমাচু মুখ করে জবাব দিলেন ভদ্রলোক।
-“ওদিকে যে লন্ডনও লাল হয়ে গেলো? দেখতে হবে না এর পেছনে আমাদের পুরনো দুশমনের কী কানেকশন?”
ফেলুদাকে থামিয়ে দিয়ে জটায়ু বললেন-“ছাড়ুন তো মশাই! ও এ দেশ থেকে গ্যাছে বাঁচা গ্যাছে ! আপনি বেকার চিন্তা করবেন না।”
“অপরাধীদের কোনো দেশ নেই,ধর্ম নেই,জাত নেই লালমোহনবাবু।সে যে দেশেই যাক তাকে দূষিত না করে ছাড়বে না।আমার মন কী বলছে জানেন,হয়তো আমাদের এ ব্যাপারে লন্ডন যেতে হবে।আর সেই ফাঁকে একটা বিশাল গুরুত্বপূর্ণ কাজও হয়ে যাবে!”
“কী কাজ মশাই?” ফেলুদাকে জিজ্ঞেস করলেন ভদ্রলোক।
-“গুরুপ্রণাম!” বলল ফেলুদা ।
ফেলুদার উত্তর শুনে মুখ ব্যাজার করে লালমোহনবাবু বললেন-“ বোঝো!”
-“ধিরে মিঃ জটায়ু । এটা না হলে আমার গোয়েন্দা হওয়াটাও অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।দেখা যাক ফেলু মিত্তিরের টেলিপ্যাথির দৌড় কতটা”।
(৩)
ফেলুদা সবসময় একটা কথা বলে। কোন জিনিস যখন কেউ খুব মন দিয়ে চায়,সেটা নাকি শতকরা নব্বই ভাগ ক্ষেত্রে ঘটে যায়।অবিশ্যি উইল পাওয়ার বিষয়টা নিয়ে বিজ্ঞানিদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের শেষ নেই। তবে ফেলুদার টেলিপ্যাথির জন্যেই হোক বা অন্য কোন কারণে,আমরা এখন লন্ডনের হিথরো এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে ফেলুদার বাল্যবন্ধু সোমেশ্বর সাহার গাড়ি করে ওর বাড়ি যাচ্ছি।
সেদিন লালমোহনবাবু চলে যাওয়ার পর সাড়ে ন’টা নাগাদ সোমেশ্বরদা ফোন করেছিলেন। এবং কথায় কথায় ফেলুদাকে লন্ডনে ওর বাড়িতে আসার অনুরোধ করে,বলে ভীষণ বিপদে পড়েছে।এবং ফেলুদাও হাতে কাজ না থাকায় আর টাইমস অফ ইন্ডিয়ার খবরটায় মেঘরাজের নাম দেখে লন্ডন যাওয়ার সুযোগ খুঁজছিল যে কারণে নিজের বন্ধুকে বলে ফ্লাইট এর অ্যারেঞ্জমেন্টস করে জানাবে। টিকিট পেতেও বিশেষ অসুবিধে হয়নি,সে জন্যে অবিশ্যি ফেলুদার পরিচিতিটাই দায়ী।
দিন তিনেকের গোছগাছ সেরে নিয়ে,আমরা তিনজন বেরিয়ে পড়লাম লন্ডনের উদ্দেশ্যে।জটায়ু বিশেষ রাজি ছিলেন না,তবে ওনার নেক্সট উপন্যাসের কথা ভেবে উনি নাকি যাওয়ার জন্যে রাজি হয়েছেন।এবারও প্লেনটা রানওয়ে থেকে আকাশে ওঠার সময় মাধ্যাকর্ষণের সাথে জটায়ুর তীব্র লড়াই এর ফেসিয়াল প্রতিচ্ছবি দেখে ফেলুদা বলেছিল-“অফফ লালুদা!পুলক ঘোষাল থাকলে একেবারে জুবিলি ছবিতে চান্স পাক্কা!”
বিকেলের লন্ডন বেশ ব্যস্ত।একটু ব্যতিব্যস্তই বলা চলে।সবাই এক নাগাড়ে হেঁটে যাচ্ছে বা গাড়িতে চলে যাচ্ছে,সেই হাঁটার মধ্যেও একটা ব্যস্ততার ছাপ স্পষ্ট।সেদিন জেটল্যাগের কারণেই বোধহয় সাড়ে আটটা নাগাদ খেয়ে দেয়ে আমরা শুয়ে পড়েছিলাম সোমেশ্বরদার বাড়ি এসে।একাই থাকেন একটা দু-কামরার ফ্ল্যাটে।যার একটা ঘর বেশ বড়,সেখানে আমাদের তিনজনের শোয়ার ব্যবস্থা হল।
পরদিন সকালে,সাড়ে আটটা নাগাদ ব্রেকফাস্টের টেবিলে,একসাথে বসলাম সবাই।সোমেশ্বর দার একজন কুক আছেন,রোজ সকালে এসে মোটামুটি গোটা দিনের খাবার করে দিয়ে যান।ক্লাসিক ইংলিশ ব্রেকফাস্ট বলতে যা বোঝায়, ব্রাউন ব্রেড,সসেজ ভাজা,কুকিস এবং অবশ্যই গরম কফি দিয়ে শীতের আট ডিগ্রী টেম্পারেচার বেশ উপভোগ্য হয়ে উঠেছে ।খাওয়া শেষ হলে ফেলুদা সোফায় বসে একটা সিগারেট ধরিয়ে সোমেশ্বরদাকে জিজ্ঞেস করল- “ তোর সাথে ওয়াল্টার স্যাঞ্চোর যোগাযোগ কতদিনের?”
-সোমেশ্বর দা খানিকটা অবাক হয়ে বলল-“তুই জানলি কিভাবে ?আমি তো তোকে...”
-“কাল তোর ঘরে ঢোকার সময়ই টেবিলে তোর রিয়েল এস্টেট কোম্পানির রাইটিং প্যাডে ওয়াল্টারের নামটা দেখি যাকে কিনা গত সপ্তাহে, কিড স্ট্রিটে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছিল!শুরু থেকে খোলসা করে বলতো আমাকে” বলল ফেলুদা ।
“ধন্যি চোখ তোর ফেলু ! অবিশ্যি তোর কাছে এসব জলভাত ।যাইহোক, আমি এখানে এই রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে চাকরি করছি প্রায় বছর তিনেক,ওয়াল্টো কোম্পানিটার ম্যানেজার ।বুঝিসই তো এই সমস্ত কাজে ঝুট-ঝামেলা লেগেই থাকে ভীষণ ভাবে।তবে সমস্যার সূত্রপাত মাস ছয়েক আগে কীড স্ট্রীটের কাছেই একটা বড় বাড়ি নিয়ে।১৮৬০ সালে উইলিয়াম ফ্রান্সিস বলে জনৈক হীরের ব্যাবসায়ী ওই বাড়িটি বানান। পরে অবিশ্যি কালক্রমে সে ব্যবসা লাটে ওঠে,এবং ফ্রান্সিসের বংশধরেরাও এদিক ওদিক বিভিন্ন কাজে জড়িয়ে পড়ে ।হাত ঘুরতে ঘুরতে ওদের পাঁচ নম্বর জেনারশনের দুই ছেলে,ক্রিস্টোফার এবং জোনাথন এখন এই বাড়ির মালিক।দুজন সম্পর্কে কাসিন এবং দুজনের কেউই ওই বাড়িতে থাকেনা।তাই দুজন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাড়িটা বেচে দেবে।যে কারণে জোনাথন আমাদের কোম্পানির শরণাপন্ন হয়। সে বোস্টনে প্রাইভেট ব্যাঙ্কে কাজ করে আর ক্রিস্টোফার এখন সাস্কাটুনে থাকে, তার আবার ব্যবসা, মিউজিক ইন্সট্রুমেন্টসের”।এই বলে একটু থামলেন সোমেশ্বর দা।
ফাঁক পেয়ে জটায়ু জিজ্ঞেস করলেন –“ওনার তো হীরের ব্যবসা ছিল বললেন,তা গুপ্তধনটন কিছু আছে নাকি ওই বাড়িতে”?
-“থাকাটা অস্বাভাবিক কিছুনা,বিশেষ করে মগনলাল মেঘরাজের আগমন হওয়ার পর থেকে...
সোমেশ্বর দাকে থামতেই হল,মেঘরাজের কথা শুনে লালমোহনবাবুর কফির কাপের শেষ চুমুকটা বিশেষ আরামদায়ক হয়নি,সেটা ওনার বিষম খাওয়ার বহর দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।
ভদ্রলোক ধাতস্থ হতে সোমেশ্বরদা আবার বলতে শুরু করবেন তখনি ফেলুদা জিজ্ঞেস করল
-“এই যে বললি বাড়ি বেচার কথা,এতে ক্রিস্টোফারের মত ছিল”?
-“জোনাথন তো তাই বলে,এবং বাড়ির কাগজ-পত্র দিয়ে যায় আমাদের কাছে।তাতে ক্রিস্টোফারের সই ছিল,যদিও বাড়ি বেচা হলে আমরা তার আগে দুই ভাইকে এক জায়গায় বসিয়ে সমস্ত প্রসেসটা বুঝিয়ে দিতাম”।
সমস্যাটা শুরু হয় ওয়েবসাইট এবং কাগজে বিজ্ঞাপন দেওয়ার পর থেকে।এমনি মাসখানেক কোন কিছুই কাজ এগোয় নি,তারপর এখানকারই এক কলেজের প্রফেসর,বিল মরগ্যান,রিটায়ার্ড,তার সাথে বাড়ি বিক্রি নিয়ে কথা এগোতে থাকে,ফোন মারফৎ।এমনি এক সময়ে মগনবাবুর আবির্ভাব!সে তো নাছোড় বান্দা পারলে তখনি বাড়ির কাগজ নিজের নামে করে নিতে চায়,এবং আমাকে মোটা টাকা অফার করে ‘পারিশ্রমিক’ হিসেবে।যথারীতি আমি সে প্রস্তাবে রাজি হইনা,বলি যে সে যা চাইছে সেই মুহূর্তে সেটা আমি তাকে দিতে পারব না।বরং সে যদি রাজি থাকে তাহলে জোনাথনের সাথে বসে একটা আলোচনা করে স্বচ্ছ ভাবে বাড়ি হাতবদল করা যাবে।কিন্তু সে বারবার বলতে থাকে সে যে কোনো উপায়ে যে কোনো ভাবে সেই বাড়ি নিয়েই ছাড়বে,তার কথা না শুনলে ফল ভালো হবে না বলে শাসিয়ে যায়।আর তার মাস দুয়েকের মধ্যেই ওয়াল্টোর খুন হওয়াটা কী নেহাত কাকতালীয় ফেলু?”
একটানা বলে একটু দীর্ঘশ্বাস নিলেন সোমেশ্বর দা।
-“হুম ইন্টারেস্টিং!” মুখের সামনে দুহাতের আঙুল গুলো একটা আরেকটার উপর রেখে জবাব দিল ফেলুদা।কপালে ভ্রকুটি।
-“কী ভাবছিস ফেলু”?
-“লোকটা মারাত্মক ডেঞ্জারাস গোছের।খুন করা ওর কাছে জলভাত।কিন্তু আমি ভাবছি অন্য কথা,ওর সাথে মিঃ ওয়াল্টারের কী কোন রকম কথা-বার্তা চলছিল?”জিজ্ঞেস করল ফেলুদা।
-“ সেরকম তো কিছু খবর অন্তত আমার কাছে নেই!”
-“পুলিস কী বলছে?”
-“ওই সামান্য কিছু রুটিন জিজ্ঞাসাবাদ,তার বাইরে কিছুই না।মেঘরাজ কে ওরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল,কিন্তু প্রমাণের অভাবে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।আমার খুব ভয় করছে ফেলু।তুই আসায় তাও একটু ভরসা পাচ্ছি জানিস”।
ফেলুদা ওর একপেশে হাসিটা হেসে বলল-“আপাতত করণীয় কিছুই নেই। ওই গাড়িটাও এতদিনে পুলিসের আয়ত্তে চলে গ্যাছে,তাই সেটা যে পরীক্ষা করে দেখব সে রাস্তাও বন্ধ”!
-“তাহলে কী করবে ভাবছ এখন ফেলুদা”?জিজ্ঞেস করলাম আমি।
-“ভাবছি একবার মগনবাবুর লন্ডনের বাড়িতে ঢুঁ মেরে আসি।অনেকদিন দেখা সাক্ষাৎ হয়না”।
-“আপনি কিন্তু এবার বাড়াবাড়ি করছেন ফেলুবাবু।শেষে এই বিলেতে এসে বুলেট বিদ্ধ হবেন নাকি।ও ভাবনা ছাড়ুন,মগনলাল মহা ঘোড়েল লোক মশাই।”বেশ রাগ করেই বললেন লালমোহনবাবু।
-“বেনারসের শরবৎ দেখলেন,কাঠমান্ডু তে মুন্ডুপাত হল মেঘরাজের,গোলাপি মুক্তাও পেলেন না ভদ্রলোক আর এবার একটু ‘লন্ডনে লন্ডভন্ড’হলে খুব আপত্তি হবে কী মিঃ জটায়ু”?
-“বাহ! নামটা তো খাসা বললেন। এই দাঁড়ান ফোনে সেভ করে নি।লন্ডনে লন্ডভণ্ড, বাহ চমৎকার”! বলে একটু হাসলেন ভদ্রলোক।
-“সবই তো বুঝলাম,কিন্তু কয়েকটা বিষয়ে যে খটকা থেকেই যাচ্ছে সেটা বুঝতে পারছিস?”
-“রিটায়ার্ড প্রফেসর বিল মরগ্যান এর কথা বলছ”? প্রশ্নটা আমাকে করা হয়েছে বুঝতে পেরে জিজ্ঞেস করলাম আমি।
-“সাবাস তোপসে। বিল বাবাজি কেমন যেন মেঘনাদের মত মেঘের আড়ালে লুকিয়ে,সামনেও আসেনি,অথচ বাড়ি কেনা নিয়ে আগ্রহ প্রবল।ক্রিস্টোফারই বা কোথায়,বাড়িতে কী আছে যার জন্যে মগনলাল উঠে পড়ে লেগেছে”?
-“উফফ ছাড়ুন তো মশাই।একে মেঘরাজে রক্ষে নেই,মেঘনাদ তার দোসর।কেমন যেন গুলিয়ে যাচ্ছে সব,তার চেয়ে চলুন একটু কাছে থেকে কোথাও ঘুরে আসি,আপনার মগজাস্ত্রেও তো মাঝে মাঝে হাওয়া লাগানো দরকার নাকি ফেলুবাবু”? জিজ্ঞেস করলেন জটায়ু।
-“ জো হুকুম স্যার!চলুন তবে কাছেপিঠে কোথাও ঘুরে আসা যাক।”উত্তর দিল ফেলুদা ।
(৪)
সেদিন বিকেলটা কাছাকাছি ঘুরে,কিছু বইপত্রের দোকান ঘুরে,অল্প কিছু স্ন্যাক্স কফি খেয়ে যখন সোমেশ্বর দার ফ্ল্যাটে ঢুকলাম তখন প্রায় সাতটা।দুপুরের খাবারটা বাড়িতেই সেরে নিয়েছিলাম।
সোমেশ্বর দা বেরিয়েছিল একবার অফিসের দিকে,রাস্তায় দেখা হতে একসাথে ফিরে এলাম।
ঘরে বসে ফেলুদা সোমেশ্বরদা কে জিজ্ঞেস করল-“আচ্ছা তোর অফিসে মোট কতজন আছে?”
-“আমাদের এটা তো ব্রাঞ্চ অফিস,লোক বলতে আমি আর ওয়াল্টারই,খুব ছোটই অফিসটা।বাকি সমস্ত টাকা পয়সার লেনদেন বোস্টনে মেন অফিস আর অনলাইন মারফৎ হয়”।উত্তর দিল সোমেশ্বর দা।
-“যে বাড়ি নিয়ে সমস্যা সেটা দেখা যায় একবার?”
ফেলুদার প্রশ্নে একটু সময় নিয়ে সোমেশ্বরদা বললে-“তা দেখা যায়,কিন্তু সে বাড়ির চাবি জোনাথনের কাছে ফেরত দিয়ে এসছি ওয়াল্টো মারা যাবার পরপরই।ওদিকে পুলিসের দিক থেকেও আপাতত ওই বাড়ি সংক্রান্ত ব্যাপারে কড়া নিষেধাজ্ঞা আছে।ভেতরে যেতে গেলে পুলিসি সাহায্য লাগবে,সেটা এই মুহুর্তে কেউ করবে বলে মনে হয় না”।
“চুপচাপ হাত গুটিয়ে বসে থাকতেও ভালো লাগছে না,আবার এদিকে এগোবারও কোন উপায় নেই,ক্রিস্টোফারের সাথে কথা বলার ইচ্ছে আছে কিন্তু তার জন্য জোনাথনের সাথে কথা বলা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।আবার সে তো বাড়ি নিয়ে বিশেষ কিছু বলতেও পারবে না,কোনদিন থাকেনি।অতএব হাতে রইল পেন্সিল” । একটা মৃদু শ্বাস ছেড়ে বলল ফেলুদা।
“আমার কাছে ফোনে বাড়ির ছবিগুলো আছে,যদি কেউ কিনতে এসে দেখতে চায়,সে কারণে চেয়ে রেখেছিলাম,এই নে দেখ যদি কিছু খুঁজে পাস”। এই বলে নিজের ফোনটায় একটা ছবি খুলে ফেলুদার দিকে এগিয়ে দিল সোমেশ্বর দা।
ছবিগুলো দেখে মোটামুটি যা বোঝা গেল,দোতলা বাড়ি,নিচে দুটো আর উপরে তিনটে প্রমাণ সাইজের ঘর,দুটো তলায় বাথরুম দুটো,আর একটা রান্নাঘর নীচে। মার্বেল পাথরের মেঝে,পুরনো আমলের কাঠের সিঁড়ি,জাল দেওয়া জানলা আর ঘরে পর্যাপ্ত আলোর অভাব,সমস্তটাই কেমন যেন রহস্যে আবৃত। আমরা সবাই ছবিগুলো দেখছি,ঠিক তখনি সোমেশ্বর দার বাড়ির কর্ডলেস ফোনে একটা ফোন এলো।সোমেশ্বর দা ধরে অপর প্রান্তের কথা শুনে জটায়ুর দিকে ফোনটা এগিয়ে দিলেন উনি।
জটায়ু বেশ অবাক হয়েই ফোনটা ধরে বললেন
-“হ্যালো?”
অপর প্রান্তের ব্যক্তির গলার স্বর শুনতে পেয়ে ভদ্রলোকের মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে গেল দেখেই ফেলুদা ফোনটা ভদ্রলোকের হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিয়ে লাউডস্পিকারে দিয়ে বললে-
“ বলুন মগনবাবু,আপনার কথাই ভাবছিলাম”।
-“আরে মিঃ মিটার,আঙ্কল কে বললাম কেমোন আছেন,আপনি নিয়ে নিলেন!তা ভাবছিলেন কেনো,কাসিন আউর আঙ্কলকে নিয়ে চলে আসুন বিকেলে,একটু চা-কুকিজ খাবেন গল্প করবেন,দেখা হবে,ভিদেশে এসে বন্ধুত্ব আউর ভি স্ট্রং হবে,চলে আসুন চলে আসুন,আই উইল এক্সপেক্ট ইউ পিপল।”
-“ধন্যবাদ মগনবাবু,নিশ্চয়ই যাবো,আপনার নিমন্ত্রন কি ফেলা যায়”? বলে ফেলুদা ফোনটা রাখতেই লালমোহন বাবু বললেন –“আপনার গোঁয়ার্তুমির একটা মাত্রা থাকা উচিৎ ফেলুবাবু।সবকিছুতে আপনার বাড়াবাড়ি করাটা অভ্যেস”!
-আপনার যদি ভয় করে আপনার আসার দরকার নেই,আপনি বরং টেমস নদীর ধারে গিয়ে আপনার নেক্সট উপন্যাসের প্লট ভাবুন”।উত্তর দিল ফেলুদা ।
-“আমি গড়পারের লালমোহন গাঙ্গুলি,আমার ছোটকাকা দুর্গামোহন গাঙ্গুলির সামনে বলেছিলুম না আমরা এই থ্রি-মাস্কেটিয়ার্স?এক সুতোয় তিনজন বাঁধা,সুতোয় টান পড়লে একসাথে তিনজনই নাচব!”
-“দ্যটস দ্য স্পিরিট আঙ্কল,আপাতত ডিনার সেরে ঘুমিয়ে নিন,কাল মানসিক ভাবে সুস্থ থাকাটা প্রয়োজন!”
-“আপনি ইয়েটা সঙ্গে এনেছেন তো? প্রশ্ন করলেন লালমোহনবাবু।
-“নাহ,রিভলবারটা সাথে আনার প্রয়োজন মনে হয়নি,আনতে গেলে এয়ারপোর্টেও বেশ খানিকটা হ্যাপা সামলাতে হত। তবে নিশ্চিন্তে থাকুন ও জিনিস ব্যবহারের দরকার পড়ত না!”
ফেলুদার উত্তরে খানিকটা আশ্বস্ত হলেন বটে ভদ্রলোক,তাও মুখে তেতো গেলার মত ছাপটা রয়েই গেলো!
(৫)
পরদিন মগনলালের দেওয়া ওর বাড়ির ঠিকানায় পৌঁছালাম বিকেল চারটে নাগাদ। শীতটা বেশ জাঁকিয়ে পড়ে এখানে।তার মধ্যে আবার মগনালাল মেঘরাজ।তবে এই শীতেই তো রহস্যটা জমে ওঠে।আর সাস্পেক্ট যেখানে পরিচিত ক্রিমিন্যাল তখন সে রহস্য পেঁয়াজের খোসার মত ছাড়িয়ে একদম ক্লাইম্যাক্সে পৌঁছানো অব্দি বেশ একটা রোমহর্ষক ব্যাপার হয় ।মগনলালের দোতলা বাড়িটায় ঢোকার আগে লালমোহন বাবু একবার ফেলুদার হাত খামচে ধরে বললেন
-“মশাই,সে আবার কী খেল দিখাবে কে জানে?”
-“ কেউ জানে না লালমোহন বাবু,তবে একসাথে তিনজনে সামলে নেবো”।সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে বলল ফেলুদা।
ডোরবেল বাজাতে মিনিট খানেক পর একজন ষণ্ডা মত লোক এসে ভেতরের ঘরে নিয়ে গেলো।
সেই পরিচিত তাকিয়া,কনুই তে ঠেস দিয়ে কোলবালিশের উপর আধশোয়া মগনলাল মেঘরাজ।ধুতি পাঞ্জাবির জায়গায় এখন গায়ে হাউসকোট জড়ানো।আমাদের দেখেই ভদ্রলোক উঠে বসে বললেন-
“আরে মিঃ মিত্তর।আপনাকেই ইয়াদ করছিলাম।আসুন আঙ্কল,আর খোকাবাবু কোন ক্লাস হল তোমার?”
-“আমার খুব রাগ হচ্ছিল,কোন মতে দাঁতে দাঁত চেপে বললাম ,এম.এস.সি স্ট্যাটস ফাইনাল ইয়ার”।
আমরা সামনে সোফায় বসলাম,ফেলুদা পাশের চেয়ারে।ফেলুদা জিজ্ঞেস করল
-“তা মগনবাবু,এবার আর সার্চ করলেন না তো আমাদের?”
-“আরে কী যে বোলেন আপনি।এতদিনের আলাপ আমাদের,আমরা তো দোস্তই হয়ে গেছি বলেন?”
-“হ্যাঁ তা মন্দ বলেন নি। বিশেষ করে লন্ডনের রাস্তায় ফেলু মিত্তির কে ঘুরতে দেখে পুরনো দোস্তিটা আরেকবার মনে পড়ল তাই না মগনবাবু?অপরাধ করে এখন পুলিশের ভয়ে জর্জরিত মেঘরাজ কী লন্ডন থেকে পাততাড়ি গোটানোর প্ল্যানে আছেন?”ফেলুদার গলাটা ভয়ঙ্কর রকমের তীক্ষ্ণ শোনালো।
-“ওপোরাধ ,কুন ওপোরাধের কথা বলছেন আপনি মিঃ মিত্তর?”
-“ওই বাংলো বাড়ি হাতানোর লোভে,ওয়াল্টার স্যাঞ্চোকে খুন করাটা কী অপরাধ নয় মগনবাবু?”
-“লোভ?আপনি আমাকে লোভি বলছেন?”
-“লোভ জিনিসটাতো আপনার একচেটিয়া মগনবাবু!”ফেলুদার ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি।
-“ঐ বাড়ি হামি নেবো ঠিকই।কিন্তু খুন আমি করিনি মিঃমিত্তর।ওতো কাঁচা কাজ হামি করি না।
এ আপনাকে সাফ বলে দিলাম।আপনি বুদ্ধিমান আদমি আছেন,আমার কাম ধান্দে কে বারে মে আপনার জানকারি ভি আছে ।উয়ো ওয়াল্টার কে সাথ মেরা বাত তক নেহি হুয়া কভি।এ কাম আমার না,এ ওই মরিয়ার্টি কা কাম। আমায় শাসাতে এসছিল এতো সাহস!শেষে ফাঁসিয়ে গেলো।
এবার আমাদের অবাক হওয়ার পালা।এ কি নাম শুনলাম!
লালমোহনবাবু অবাক বিস্ময়ে জিজ্ঞেস করলেন-“নেপো নেপো...নেপোলিয়ন অফ ক্রাইম”?
-“ইয়েস আঙ্কল!বহুত ধান্দেবাজ আদমি আছে।কিন্তু ও মেঘরাজ কে ভী চেনে না।বদলা আমি লিবোই।আপনি তদন্ত চালিয়ে যান মিঃ মিত্তর। কিচ্ছু করতে পারবেন না।”
-ফেলুদা কিছু না বলে দুম করে উঠে দাঁড়িয়ে বলল-
“থ্যাঙ্ক ইউ মগনবাবু!! থ্যাঙ্ক ইউ ভেরি মাচ!তোপসে চল,আসুন লালমোহনবাবু”!তারপর মগনলালকে অবাক করে দিয়ে ঝড়ের বেগে বেরিয়ে গেলো ।
বাইরে বেরিয়ে আমাদের কিংকর্তব্যবিমূড় অবস্থা দেখে ফেলুদা একটু মুচকি হাসলো।
জটায়ু জিজ্ঞেস করলেন – “মশাই আপনি হাসছেন কেনো?বেরিয়েই বা এলেন কেনো এভাবে?”
“প্রয়োজন ছিল লালমোহনবাবু সবটা সময়ে বুঝতে পারবেন।এখন একটা জায়গায় যাওয়া খুব প্রয়োজন। এই রহস্যের সমাধান করতে গেলে একজনের সাহায্য নেওয়াটা অনিবার্য হয়ে পড়েছে।”
ভদ্রলোক জিজ্ঞেস করলেন-“কার সাহায্য মশাই”?
-“দেখতেই পাবেন এক্ষুনি ।যদিও জানি না কতটা কাজ হবে ,তবু রিস্কটা নিতেই হবে”।
- “ও আপনি কী পুলিসের কাছে যাবেন নাকি”?
-“পুলিসের গডফাদারের কাছে যাবো । সেই ফাঁকে গুরুপ্রণামটাও সারা হয়ে যাবে”।
-“উফফ আপনার এই হেঁয়ালি একদম ভাল লাগেনা ফেলুবাবু”! বিরক্ত হয়ে ভুরু কুচকে বললেন জটায়ু ।
এরপর একটা ট্যাক্সি দাঁড় করিয়ে আমাদের পেছনে উঠতে বলে নিজে সামনে উঠে আমাদের সবাইকে অবাক করে দিয়ে ড্রাইভার কে বলল – “221B BAKER STREET PLEASE”!
(৬)
বেকার স্ট্রীটের বাড়িটার সামনে নেমে ভাড়া মিটিয়ে যখন সামনের দরজার দিকে এগোচ্ছি জটায়ু বললেন-“বেশ একটা ইয়ে ইয়ে ফিল হচ্ছে মশাই।প্রদোষ মিত্র আর শার্লক হোমস মুখোমুখি! এ ভাবলেই গায়ে কাঁটা দিচ্ছে মশাই”।
-“কাঁটা গুলো একটু স্টক করে রাখুন, ভেতরে গিয়ে অভিজ্ঞতা সুখের নাও হতে পারে,কারণ গোয়েন্দাবর খুব বেশি লৌকিকতার ধার ধারেন না”।
-“ছাড়ুন মশাই,আপনি আছেন ঠিক সব সামলে নেবেন জানি।”
বাইরের দরজাটা খোলাই ছিল,কাঠের সিঁড়ি বেয়ে দোতলার ঘরে উঠে বেল বাজাতে কিছু সেকেন্ড পর যে ব্যক্তি দরজা খুলে দিলেন এসে তার পরিচয় ডঃ জন হেইমিশ ওয়াটসন!!অনেক ছবি কাগজে এবং ওনার ব্লগে দেখেছি! দরজা খুলে দিয়ে উনি আমাদের জিজ্ঞেস করলেন
-“ Yes,do you have an appointment?”
-“No,certainly not ! they’re visitors and they’ve questions for us,my dear Watson!”
আমাদের সবাইকে অবাক করে দিয়ে পেছন থেকে প্রায় ফেলুদার বয়সী,ফেলুদার থেকে ইঞ্চি দুই লম্বা, হাউসকোট পরা উস্কোখুসকো চুলের এক ভদ্রলোক বেরিয়ে এসে বললেন কথাগুলো।
শার্লক হোমস !!পৃথিবী বিখ্যাত ডিটেকটিভ শার্লক হোমসের সামনে আমরা দাঁড়িয়ে আছি!
কখনো ভাবিনি হোমসের বাড়ি চলে আসব সটান তিনজন মিলে।অবিশ্যি ফেলুদা যখন কলকাতায় জটায়ুকে গুরুপ্রণাম শব্দটা বলেছিল তখন খানিক সন্দেহ হয়েছিল বটে,তবে ওটা ফেলুদার খোঁচা ভেবে আর মাথা ঘামাই নি।ফেলুদার মাথায় কী চলছে এখন কে জানে।কেসটা নিয়ে হেল্প চাইতে এসছে মিঃ হোমসের কাছে,আদৌ কোনো সাহায্য পাবে তো!পাশে লালমোহনবাবু কে দেখলাম এখনো হাঁ করে দেখছেন হোমস এবং ওয়াটসনকে!আমরা সামনে রাখা সোফাটায় তিনজন একসাথে বসলাম।ঘুপচি ঘর,জিনিসপত্রে ঠাসা চারদিক,ভীষণ রকম অগোছালো সবকিছু। এবার মিঃ হোমস বললেন
-“Tell me mister,how can we help you?”
-“Oh do you know them, Sherlock?” জিজ্ঞেস করলেন ডঃ ওয়াটসন।
-“Easy Watson !They’re not clients. A client always comes on his own. We haven’t seen clients coming up in a group. Have we”? বললেন শার্লক হোমস।
ফেলুদা আমাদের সবার পরিচয় দিয়ে,স্যঞ্চোর ঘটনাটা খুলে বলল,এবং এটাও বললে যদি সে বাড়ির ভেতরে কোনো ভাবে যাওয়া যায় ।সব শুনে ভদ্রলোকের উত্তর দিলেন- “ Ahhhh boring!Do you have a cigarette,Mister? I need something really stronger than this stupid tea or caffeine!Please smoke here, I need to smell it!”
আমরা সবাই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছি দেখে জন ওয়াটসন বললেন –“Ohhh come on Sherlock! You can’t smoke. You were badly coughing and bleeding two days ago. You forgot, right?”
-“Nothing will happen okay? Give me my cigarettes back, Watson!”কঠোর ভাবে চিবিয়ে চিবিয়ে বললেন হোমস ।
_ “Sorry for my interruption but I think they’re inside your violin,Sir. Will you please check there once?”. –ফেলুদার উত্তরে আমরা তো বটেই , ডঃ ওয়াটসন ও বিস্মিত হয়ে গ্যাছেন।
-“My goodness,how do you possibly know that”? অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন ডঃ ওয়াটসন ।
-“Actually Mr. Watson, you’re unmindfully looking at that corner when Mr. Holmes was asking for his cigarettes and there is nothing but the violin where you can hide them!” –ফেলুদার ঠোঁটে ওর ট্রেডমার্ক একপেশে হাসি।
-“Oh dear Watson ! I envy you so much! By the way Mr. Mitter,thank you! You are quite a good observer!”বললেন মিঃ হোমস ।
-“Okay we are leaving then! Thanks for your time, Sir. But I think Professor James Moriarty is somehow related to this case”. একটু কর্কশ ভাবে বলল ফেলুদা।
-“And how do you know that?” এইবার একটু শক্ত দৃষ্টিতে ফেলুদার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন মিঃ হোমস ।
-“Actually it’s my intuition,Mr.Holmes.I think something is really fishy ‘bout this Bill Morgan. And Prof. Moriarty is not at all happy with Maganlal Meghraj here as he is intruding into his business” উত্তর দিল ফেলুদা।
-“Mmmmmm…interesting! Watson, call Lestrade right now and tell him that we are going to that house in Kid’s street and we have company also.”প্রচন্ড দ্রুত গতিতে কথাগুলো বলে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন-
“Boy, take a cab and reach that location, I hope you know the address and take your uncle with you. Mr. Mitter is coming with us”.
“আবার আঙ্কল ! আঙ্কল শুনলেই কেমন যেন শুনতে পাই “আসুন আঙ্কল !তক্ত তে পিঠ দিয়ে দাঁড়াবেন আর অর্জুন তার খেল দিখাবে...উফফফ ভাবলেই গা শিউরে ওঠে ভায়া তপেস”! ঘর থেকে বেরোবার সময় আমার দিকে তাকিয়ে মুখ শুকিয়ে বললেন জটায়ু ।
(৭)
ইন্সপেক্টর লেস্ট্রাডের সহায়তায় কীড স্ট্রিটের বাড়িতে ঢুকে বেশ হতাশই হতে হলো।তন্ন-তন্ন করে খুঁজেও কিছু পাওয়া গেল না।না হীরের টুকরো,না কোনো ক্লু।সামনের চেয়ারের দিকে দেখলাম মিঃ হোমস বসে আছেন।আঙ্গুল গুলো মুখের সামনে জড়ো করে কী যেন ভাবছেন।এই বসার ভঙ্গী আমার খুব চেনা।ফেলুদাকে বহুবার দেখেছি এভাবে বসে চিন্তা করতে আর কথা বলতে।
চুপচাপ বসে আছি,হঠাৎ উপরের ঘর থেকে লালমোহনবাবুর ডাক শুনতে পেলাম-“ফেলুবাবু,ও তপেস ভায়া,মিঃ হোমস,আসুন আসুন এ যে কলোম্বাসের থেকেও ভালো জিনিস খুঁজে পেয়েছি মশাই”!ভদ্রলোকের ডাক শুনে আমরা উপরে যেতেই দেখলাম লালমোহন বাবু একটা বড় কাগজ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন,কাগজটা হাতে নিয়ে সবাই মিলে দেখলাম ওটা একটা বংশতালিকা ফ্রান্সিস ফ্যামিলির।গোটা ঘরে দুটো গদি আঁটা চেয়ার,একটা টেবিল,আর দেওয়ালে একটা পেন্টিং এই বাড়িটার,তলায় লেখা উইল-১৮৬০ ।
পুরোটা দেখা হয়ে যাওয়ার পর ফেলুদা আর শার্লক হোমস দুজনেই একসাথে বলল-“স্ট্রেঞ্জ”!
লালমোহনবাবু বললেন-“ওটা ওই গদি আঁটা চেয়ারটার ভেতর ঢুকেছিল।আমি একটু বসতে গিয়েই কেমন খচখচ করে উঠল,তা এটা কী কাজে এল কিছু? না বোধহয়”?
“কী বলছেন লালমোহনবাবু! ভালো করে দেখুন শেষ দুই বংশধর ক্রিস্টোফার এবং জোনাথন গত হয়েছেন ২০১২ আর ২০১৭ সালে ৭৬ আর ৮৩ বছর বয়সে,আর নিচের সইটা ভালো করে লক্ষ্য করুণ কাঁপা হাতে জোনাথনের শেষ বয়সের সই,এবং তার ও নীচে লেখা,Created by Walter Sancho! এবং আমি যদি খুব ভুল না করি এই বংশতালিকার বয়স ১০-১২ দিনের বেশি নয়”।
“So this is the reason of the murder! Hmmmm..But who killed him and how? I think we need to see that car again!”বললেন মিঃ হোমস।
“There’s nothing in that car, we’ve checked it thoroughly. And the post mortem report is saying that it’s nothing but a simple heart attack, Sherlock. It’s the third time he got an attack, it was massive this time and he couldn’t survive it! ”উত্তর দিলেন ইন্সপেক্টর ।
“But still I’ve questions! And who the hell was that fake Jonathon? Where did the real Jonathon die? Too many questions, Lestrade, too much of mystery!! Let’s go and check Walter’s car. Quick.”
পুলিস স্টেশনে পৌঁছে গাড়িটার ভেতর ঢুকে খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎ ডঃ ওয়াটসন বললেন “Ohhh Jesus, look look , Sherlock, what I've found here!!” ডঃ ওয়াটসনের কথায় ওনার দিকে ফিরতে দেখলাম ভদ্রলোকের হাতে একটা পেন-ড্রাইভ,গাড়ির সামনের সিটের কার্পেটের নিচ থেকে পেয়েছেন।
“Elementary my dear Watson! check it quickly”.উত্তেজিত হয়ে বললেন মিঃ হোমস। আমরা পেন-ড্রাইভটা নিয়ে সবাই সোমেশ্বরদার বাড়ি চলে এলাম। সোমেশ্বর দা তো অবাক হয়ে দেখছে ফেলুদা আর মিঃ হোমসকে।
পেনড্রাইভ টা সোমেশ্বর দার ল্যাপটপে লাগাতেই নাম দেখালো Walto,কিন্তু খুলতে গিয়েই বিপত্তি।পেন-ড্রাইভটি পাসওয়ার্ড প্রোটেক্টেড।
নাম,ফোন নাম্বার ইত্যাদি সাধারণ জিনিস গুলো চেষ্টা করেও যখন আনলক করা গেলো না পেনড্রাইভটা তখন মিঃ হোমস বললেন “Think of any recent event. The key of this case is this pen drive. The password should have something to do with any recent incident related to this case.”
এবং তখনই ফেলুদা বলল –“1860!Try this number!”
“Brilliant, Mr. Mitter. But that’s one half of the password. It should have someone’s name also and I’m quite sure that it’s ‘will1860’ ”এই বলে টাইপ করে এন্টার মারতেই পেন্ড্রাইভটা আনলক হয়ে গেলো !
“ফ্রান্সিসের বাড়ির পেন্টিং এর নিচের সই! তাই তো ফেলুদা”? জিজ্ঞেস করলাম আমি।
-“সাবাস তোপসে! বুদ্ধিটা খুলেছে তাহলে”। একটু হেসে উত্তর দিল ফেলুদা।
পেন্ড্রাইভটিতে একটি ভিডিও ছিল তারিখ ছিল যেদিন ওয়াল্টার মারা যান তার আগের দিনের।ভিডিওটি ওয়াল্টারের নিজের এবং তাতে যা বলা হয়েছে তার বাংলা করলে সংক্ষেপে দাঁড়ায়-
“ওয়াল্টারের বিল মরগ্যান এর প্রতি সন্দেহ হওয়াতে সে ওই কীড স্ট্রিটের বাড়িতে যায়,এবং গিয়ে দ্যাখে যে সেখানে এক বৃদ্ধ ভদ্রলোক বসবাস করেন,তিনিই হলেন আসল জোনাথন ফ্রান্সিস।সেই সময়ে তার কাছ থেকে তিনি একটি বংশতালিকা পান,এবং বুঝতে পারেন যে কিছু একটা গড়বড় রয়েছে।এবং ব্যাপারটা তিনি আজই জানতে পারেন,পুলিস কে জানানোর আগে ওই বাড়িতে কারোর একটা ঢোকার আওয়াজ পান এবং ফোন করতে গিয়ে দ্যাখেন ফোনে টাওয়ার নেই।তাই নিজের মোবাইলে ভিডিওটি রেকর্ড করছেন।ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে কীড স্ট্রিটের ওই বাড়িতে বৃদ্ধ জোনাথন শুয়ে আছেন চেয়ারে।ওয়াল্টার তাকে ডাকার চেষ্টা করে এবং বোঝে যে বৃদ্ধ মারা গিয়েছেন সেই মুহুর্তে।হাতের বংশতালিকাটি চেয়ারে কভারের ভেতর ঢোকান,বলা ভালো লুকিয়ে রাখেন যাতে আগন্তুক তার সন্ধান না পায়।এরপর ভিডিওটি অফ হয়ে যায়”।
“Stop stop.Play the last part again!”চিৎকার করে উঠলেন মিঃ হোমস।এবার একটু খেয়াল করে শুনতেই একজনের গলা পাওয়া গেল ভিডিওটি শেষ হওয়ার আগেই-“Anyone in the house?”গলাটা আর কারুর না মগনলালের!
(৮)
মগনলালের বাড়ি বসে আছি আমরা তিনজন,সোমেশ্বর দা,মিঃ হোমস,ডঃ ওয়াটসন এবং ইন্সপেক্টর লেস্ট্রাড।প্রথমে খানিকটা অস্বীকার করলেও লেস্ট্রাডের বন্দুকের সামনে চাপে পড়ে স্বীকার করে নেন সেদিন ওই বাড়িতে সে গেছিল এবং তাকে দেখে ঘাবড়ে গিয়ে হার্ট-অ্যাটাক করে ওয়াল্টারের।পরে জোনাথনকে মৃত অবস্থায় দেখে কী করবে বুঝতে না পেরে মরিয়ার্টিকে ফোন করে।সে আর মরিয়ার্টি এবং তার লোক মিলে জোনাথনকে কবরস্থানে গিয়ে পুঁতে আসে।আর ওয়াল্টারের গাড়ি চালিয়ে তাকে তার বাড়ির কাছে রেখে আসে গাড়ি সমেত।এবং এই কাজটা করে মরিয়ার্টি।লুকিয়ে তোলা একটি ছবিও মগনলাল দেখায় আমাদের যেখানে মরিয়ার্টি এবং তার লোক জোনাথনকে নিয়ে নামছে।
“এক ঢিলে দুই পাখি মারতে গেছিলেন ভদ্রলোক।চালাকি করে গাড়িটা আপনার বাড়ি নিয়ে এসে লোকেশন অন করে ওয়াল্টোর বাড়ির কাছে নিয়ে যায় সে।আপনাকে নিয়ে সে বিরক্ত ছিল।চেয়েছিল ফাঁসিয়ে দিতে।যে কারণে ওয়াল্টোর ফোন থেকে আপনার বাড়িতে একটা ফোন করে সে।যাতে দোষটা পড়ে আপনার ঘাড়ে”।
“ফালতু মে ফেসে গেলাম ইধর।উয়ো ভিডিও আগর রেকর্ড নহি হতো তো কোই মুশকিল হতো না!” ফেলুদার কথা শুনে গজগজ করে উঠল মগনলাল।
সমস্তটা আরেকবার ইংরিজিতে মিঃ হোমসদের বলতেই হোমস বললেন-“That Bill Morgan is Moriarty no doubt. And that fake Jonathon was also him. He planned all this to get rid of Maganlal. He was surely going to kill Jonathon one day, but it happened coincidentally.”
“Now Mr. Meghraj, Call Moriarty and tell him to come here right now, and also add that you’re going to confess everything to the police. Then that fellow will definitely come here”.
মিঃ হোমসের কথাই সত্যি হল,মিনিট দশেকের মধ্যে মগনলালের বাড়িতে ছুটে আসতেই বুঝলেন মস্ত ভুলটা তিনি করেছেন।তারপর আর সত্যিটা স্বীকার করতে বেশি দেরি করেননি ভদ্রলোক।এবং এটাও বলেন যে সমস্তটাই তার সাজানো,তার মূল উদ্দেশ্য ছিল মগনলালকে লন্ডনে ব্যবসা থেকে সরানো।সেই ওই বাড়ির খোঁজ পায় এবং বৃদ্ধ জোনাথনকে দেখে সমস্তটা সাজিয়ে নেয় নিজের মাথায়।সেই বিল মরগ্যান সেজে ধোঁকা দেয় মগনলালকে বিপথে চালনা করার জন্যে,এবং নিজেই জোনাথন সেজে আসে বাড়ি বিক্রির জন্যে,যাতে মগনলাল তার ফাঁদে পা দেয়।
-“এবার যে মাণিকজোড়ের শ্রীঘরে ঘুরে আসার পালা!মগনবাবু পড়ে কখনো দেখা হলে বলবেন লন্ডনের জেলটা বেনারসের থেকে কতটা আলাদা”!
-“কিঁউ?ক্যা কিয়া হমনে মিঃ মিটার?কোই খুন নহী,চোরি ভী নহী?ইয়ে মুঝে ফাসিয়ে দিলে আর জেল খাটব আমি”? বিরক্ত হয়ে উত্তর দিল মগনলাল।

-“খুন হয়তো করেন নি,কিন্তু মৃতদেহ লোপাট করেছেন।আর মনে মনে তো গুপ্তধনের লোভটা ছিলই আপনার।সেদিন কেন গেছিলেন ওই বাড়িতে? নিশ্চয়ই জানতেন আসল জোনাথনের কথা?বাড়িটা হাত করা তো আপনার উদ্দেশ্য ছিল তাই না”?

কোন উত্তর না দিয়ে লেস্ট্রাড আর মরিয়ার্টির সাথে বেড়িয়ে গেলেন মগনলাল।মুখে একরাশ ঘৃণা।
জটায়ু জিজ্ঞেস করলেন-“কিন্তু পেনড্রাইভ?পেনড্রাইভ কোথা থেকে এলো?”

“ওয়াল্টারের পকেট থেকে।ফোন থেকে ল্যাপটপে নিয়ে ভিডিওটা পেন-ড্রাইভে ট্রান্সফার করে ফোন এবং ল্যাপটপ থেকে মুছে ফ্যালে ওয়াল্টার।পড়ে গাড়িতে তার মৃতদেহ ওঠানোর সময় পকেট থেকে সেটা পড়ে,গাড়ির কার্পেটের নিচে ঢুকে যায়।সেটা অবশ্য খেয়াল করেনি মরিয়ার্টি,নইলে মুস্কিল হত বৈকি”।

“Well Mr. Mitter! It was nice meeting you. See you again.”হেসে ডান হাতটা বাড়িয়ে বললেন মিঃ হোমস ।ফেলুদাও ওর হাতটা এগিয়ে দিয়ে হ্যান্ডশেক করতে করতে বললে-“The pleasure is all mine, Sir”! এই ছবিটা ফোনে তুলে রাখতেই হবে,ফেসবুকে জমিয়ে ক্যাপশন দেবো-“When Felu meets Sherlock”!
Note: this is my personal blog. The copyright of the story lies solely and entirely with the author.

No comments:

Post a Comment