বদলা হামি জোরুর লিবে
১
ক্রিং ক্রিং… ক্রিং ক্রিং…
- মিস্টার মিত্তর?
- কী ব্যাপার? চোর আজকাল সাতসকালে গোয়েন্দাকে ফোন করছে, আচ্ছে দিন কি এসে গেল নাকি!
- চোর বলবেন না মিস্টার মিত্তর, চোর বলবেন না। হামার বেওসাকে হামি চোরি বলি না, অর্ডার সাপ্লাই বলি।
- আচ্ছা বেশ, তা উমানাথের গণপতি কার অর্ডারে সাপ্লাই করছিলেন মগনলালজী? আর গোলাপি মুক্তোটা তো বোধহয় সূরয সিংকে সাপ্লাই করতেন, তাই না?
- হামার বেওসার ডিটেলস হামি হাপনাকে দেবে না। অনেক পিছনে লেগেছেন হামার, আর লাগতে দুবো না। যে কোথা বোলার জন্যে হাপনাকে ফোন করিয়েছি, উ কোথায় আসি।
- হ্যাঁ বলুন, আমার আবার ব্যায়াম করার সময় হয়ে এল।
- উসব ব্যায়াম উয়াম ভুলে যান মিঃ মিত্তর। আউর জলদি জলদি ইখানে চোলে আসুন। আঙ্কেলের মৌত হোয়ে গেছে।
- সরি টু হিয়ার মগনলালজী, বয়স কত হয়েছিল আপনার আঙ্কেলের?
- কি বোলছেন হাপনি! আঙ্কেল সেই বাক্স রোহস্যের সোময় সে হাপনার সং ছিলো, আর হাপনিই আঙ্কেলের বোয়স জানিতেন না মিঃ মিত্তর!
- মানে? লালমোহনবাবু! আপনি লালমোহনবাবুর সঙ্গে কি করেছেন? হ্যালো… হ্যালো… মগনলালজী, হ্যালো… আমি কিন্তু আপনাকে ছাড়বো না… হ্যালো…
২
- কই, লালমোহনবাবু কই? আমি কিন্তু এটার শেষ দেখে ছাড়বো মগনলালজী।
- বসেন বসেন মিঃ মিত্তর। আজ হাপনি ইকা আসিয়েছেন, হাপনার কাজিন আসবে না?
- ওসব রাখুন তো মশাই আপনি। লালমোহনবাবু আপনার কি পাকা ধানে মই দিয়েছিল যে ওনাকে আপনি খুন করে দিলেন একেবারে!
- খু-ন- মতলব মার্ডার! হাপনি তো জানেন মিঃ মিত্তর, মার্ডার হামি করি না। ওর চেয়ে অন্য জিনিসে কাম হয় অনেক বেশি।
- তাহলে? একটু ঝেড়ে কাশুন তো মশাই। সক্কাল সক্কাল ফোন করে বললেন লালমোহনবাবু মারা গেছে, এখন আবার… এসব নিয়ে ইয়ার্কি আমার একটুও ভাল লাগে না।
- মজাকি হামারও ভাল লাগে না, ড্যাম সিরিয়াস আছি হামি। আঙ্কেলের মৌত হয়েছে উও ভি সচ, আউর হামি মার্ডার করিনি উও ভি সচ।
- এসব কাজ আপনি করেন না মগনলালজী, আপনার লোকেরা করে। আর সে মার্কামারা কাজ দেখলেই আমি বুঝতে পারি যে পিছনে কে আছে।
- দেখেন মিঃ মিত্তর, হাপনি যোদি ভেবে থাকেন যে হাপনার গলদ কাম আমার কান্ধে দালবেন, তোবে কিন্তু হামি হাপনাকে ছেড়ে দেবো না, ইটা জেনে রাখেন।
- কি আজেবাজে বকছেন! আমি খুন করব! আমি! তাও আবার লালমোহনবাবুকে! এতদিন সাথে থেকে… কি মোটিভ আমার?
- সিটা জানার জন্যেই তো হাপনাকে ইখানে ডাকা।
- আপনি কি LSD নেওয়া শুরু করেছেন নাকি? আপনার কাছে কি প্রমাণ আছে যে আমি খুন করেছি?
- হাপনার বোয়স কেতো হোল মিঃ মিত্তর?
- বিয়াল্লিশ, কেন?
- হামার তিপান্ন হোয়ে গেছে।
- তাতে কি যায় আসে?
- এতো বরষ ধরে হাপনার সং হামার দোস্তি, কুছু তো হাপনার থেকে শিকশা পেয়েছি নাকি?
- মানে?
- সোকালে তো হাপনাকে হামি ফোনে বলেনি যে কুথায় আসতে হোবে। হাপনি হামার মকানে, কিংবা আঙ্কেলের মকানে না গিয়ে, এই হোটেলে কেনো এলেন মিঃ মিত্তর?
- কাল লালমোহনবাবুর সাথে এই হোটেলে খেতে এসেছিলাম, তাই।
- খানা পিনা কোরতে কোরতে আঙ্কেলের খানায় বিষটাও মিশিয়ে দিয়েছিলেন।
- আপনি কি আজ টিভিতে এযুগের মহানায়কের সিনেমা দেখে ফেলেছেন নাকি বলুন তো? সক্কাল সক্কাল এমন ভাট বকছেন!
- সিনেমা হামি দেখি না মিঃ মিত্তর, সিনেমা হামি দেখাই। হাপনাকে বলেছিলাম না যে পুরানা কাম ধান্ধা সোব ছোড়ে দেবো, দিয়ে একঠো বিরিয়ানির দুকান খুলবো?
- হ্যাঁ, তা বলেছিলেন। কিন্তু আমি তো তাতে রাজি হয়নি।
- সিটাই তো কোথা। হাপনি রাজি হোলেন না, হামারো আর দুকান খোলা হলনা। মগর, চোরি-স্মাগলিং আমি ছোড়ে দিয়েছি, হাঁ। এখুন হামার একঠো কম্পুটারের দুকান আছে, উটাই চালাই।
- কিছু বুঝতে পারছি না মগনলালজী, এসবের সঙ্গে লালমোহনবাবুর খুনের কি সম্পর্ক?
- হাপনি কুছু বুঝতে পারছেন না, ইটা কি সম্ভব মিঃ মিত্তর? হাপনি না এবিসিডি আছেন? সেসব কোথা থাক। এই হোটেলের সিসিটিভি ক্যামেরা গুলো হামার দুকান থেকেই নেওয়া মিঃ মিত্তর। হামার সিকুরিটি এজেন্সি এই হোটেলের দেখভাল করে। কাল হাপনার সব কামই হামি হামার চেম্বারে বসে দেখেছি। হাপনি আর আঙ্কেলজী এলেন, রুম বুক করলেন। রুমে ঢুকে আঙ্কেলজীর নেক্সট বুক, গ্রেটিনায় গ্যাঁড়াকলের বেপারে ডিসকাস করলেন। উসকে বাদ হি তো হাপনারা খানাপিনা শুরু করলেন। থোড়াসা খানেকে বাদ আঙ্কেলজী ইল ফিল করলেন। হাপনি ডক্টরকে কল দেওয়ার জন্যে বাহার নিকলেন, আউর ফিরলেন না। হামার পাশ পুরা রেকর্ডিং আছে। হাপনি দেখবেন সে রেকর্ডিং মিঃ মিত্তর?
- পুরোটাই তো জেনে ফেলেছেন তাহলে…
- পুরা জানিনা মিঃ মিত্তর। জানব বলেই তো হাপনাকে ডেকে নিয়ে এলাম। আঙ্কেলকে মার্ডার করলেন কেন হাপনি?
- কী বলি বলুন তো আপনাকে, শুরুর দিকে লোকটাকে আমার কিন্তু বেশ লাগত। তোপসেও পছন্দ করতো। কিন্তু ইদানীং ওপর চালাকিগুলো নিতে পারছিলাম না। মুন্সীর ডাইরিখানার কথাই ভাবুন না, আমাকে কেমন অপ্রস্তুতে ফেলেছিল বলুন তো। ডাইরিটা যে জেরক্স করেছে, সেটা তো জানাবে আমাকে একবার। আর অম্বর সেনের কেসটায় তো আমার মুখেও ওপর বলেই দিল যে আমার প্রয়োজন নাকি ফুরিয়েছে। উনি হাভার্ডের একজন স্কলারকে পেয়েছেন, তিনি নাকি আমার চেয়েও ভাল গাইড করবেন। উনি না থাকলে আপনিও কিন্তু আমায় তিন-তিনবার অপদস্থ করার চান্স পেতেন না মগনলালজী। তাছাড়া ওনার সব ব্যাপারে ইগ্নোরেন্স আর নেওয়া যাচ্ছিল না। কাহাঁতক আর একজনকে সব ব্যাপারে শুধরে দেওয়ার জ্বালা বহন করা যায়? তাও সহ্য করে নিয়েছিলাম মশাই। মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা আমার চিরকালই কম, তাই সংসারধর্ম পালন করিনি। তাও কষ্টেসৃষ্টে মানিয়ে গুছিয়ে নিচ্ছিলাম। কিন্তু কাল সকালে যখন উনি ফোন করে বললেন যে বৈকুন্ঠ মল্লিকের অপ্রকাশিত একটা কবিতার খাতা খুঁজে পেয়েছেন, এবং সেগুলো শোনাবার জন্যে সন্ধ্যেবেলা বাড়ি আসছেন, তখন আর মাথার ঠিক রাখতে পারিনি। চট করে ডিসিশনটা নিয়েই ফেললাম। উনি বাড়িতে এলে তোপসের অফিসের কাজে ডিস্টার্ব হবে, এই কথা বলে টেনে নিয়ে এলাম এই হোটেলে। তারপর বাকিটা তো আপনি জানেনই মগনলালজী।
- এখুন যোদি হাপনার এই রেকর্ডিংটা হামি পুলিশের হাতে তুলে দিই, তাহলে কেমুন হোবে মিঃ মিত্তর? হিসাব কিতাব কুছুটা বরাবর হোবে না?
- কী যে বলেন আপনি, আমরা না পুরনো আলাপী? এতদিনের সম্পর্ক আমাদের, আপনি এ কাজ করতেই পারেন না। তাছাড়া আপনি রুমের ভেতরে ক্যামেরা লাগিয়েছেন, সেটাও তো ইল্লিগাল। এসব ক্যামেরায় দিয়ে আপনি কি কাজ করেন, তা কি আর আমি আন্দাজ করতে পারছি না?
- আইন হামাকে দিখাবেন না মিঃ মিত্তর, আইন দিখাবেন না। হাপনাকে হামি পুলিশে দিবে না। উসবের থেকে অন্য জিনিসে কাম হয়ে অনেক বেশি। হাপনি কাল পালিয়ে যাওয়ার পড়ে হামি এসেছিলাম। পসপতিনাথের চরণামৃত নিয়ে নয়, ডক্টর নিয়ে। আঙ্কলেজী হামার কুনোদিন কুনো ক্ষতি করেননি। হামিও তাই উনার কুনো ক্ষতি হতে দিলাম না মিঃ মিত্তর।
- ক্-কি বলতে চাইছেন আপনি?
- পোরদার আড়াল ছেড়ে ইবার বেরিয়ে আসেন আঙ্কেলজী। সোবই তো শুনতে পেয়ে গেছেন। কী মিঃ মিত্তর, বলেছিলাম না, কাশীর গঙ্গাঘাটের ইনসাল্টের বদলা হামি জোরুর লিবে।
৩
- আসেন আসেন মিঃ মিত্তর। আজকেও ইকা এলেন? কাজিন, আঙ্কেল কেউ এল না?
- আপনি তো মশাই জাত খচ্চর আছেন। নিজেই লালমোহনবাবুর সঙ্গে আমার সম্পর্কটা বিষিয়ে দিয়ে এখন আবার ন্যাকা সাজছেন?
- সি হামি একটু খচ্চর আছি বোটে। মগর ইটা হাপনি কি বললেন? হামি তো আঙ্কেলকে সেভ করেছি জাস্ট। উসকে বাদ হাপনাদের বিচ কী হয়েছে সিটো তো হাপনাদের প্রাইভেট ম্যাটার আছে।
- আপনাকে চিনতে আমার বাকি নেই মগনলালজী, আপনার মতো দূরদর্শী ভিলেন আমি খুব কমই দেখেছি।
- ইটা কি হামায় কম্পলিমেন্ট দিলেন নাকি মজাক ওড়ালেন মিঃ মিত্তর?
- ছাড়ুন এসব, যে জন্যে আসা, সেই কথাটা বলি।
- হাঁ বলেন বলেন, আর টাইম জায়া করে লাভ নেই।
- আগামী পয়লা এপ্রিল আমার বিয়ে। আপনি সপরিবার সবান্ধব আসবেন।
- মজাক করছেন মিঃ মিত্তর? পয়লা এপ্রিল হামাকে এপ্রিল ফুল বনাবেন? মগনলাল ইতো বেওকুফ না।
- আপনার সঙ্গে মজা করব? এমন ধৃষ্টতা আমার এখনও হয়নি মগনলালজী। কুঁজোর তো সাধ হয় চিত হয়ে শুতে, আপনি অবশ্যই আসবেন কিন্তু। আর হ্যাঁ, সঙ্গে করে মছলিবাবা আর অর্জুনকেও নিয়ে আসবেন। ওরাও তো পুরনো আলাপী।
- হাপনি সচমুচ শাদি করছেন তাহলে?
- হ্যাঁ, কেন? আপনি আসবেন না?
- জোরুর যাবো মিঃ মিত্তর। হামি হাপনাকে বলিয়েছিলাম না, যে হামি বদলা জোরুর নিবো? সিটা আউর হামাকে নিতে হোবে না। সিটা এখুন অন্য কেউ লিয়ে লেবে। হা হা হা…
- এই জন্যেই তো আপনাকে আমি খচ্চর বলি মগনলালজী!
- সিটো তো হাপনি ভালবেসে বোলেন। হাপনার শাদিতে হামি হাপনাকে একঠো গিফট দিতে চাই। মানা কোরবেন না, এতোদিনের দোস্তি হামাদের।
- বেশ তো, দিন না।
- ই গিফট কিন্তু অন্য রকম গিফট। হাপনার জন্যে হামার একঠো বিজনেস পরপোজাল আছে।
- না মশাই, আমি বিরিয়ানির দোকান খুলতে পারব না।
- না না, বিরিয়ানি পকানোর অনেক ঝামেলা। ইটা অন্য বেওসা।
- বেশ, বলুন।
- দেখেন মিঃ মিত্তর, হাপনি শাদি করবেন কিছুদিনের মধ্যে। বালবাচ্চা হোবে। হাপনার খোরচ বহুত বেড়ে যাবে। হাপনার তো এখুন ইনকাম খোব একটা নেই। আউর আঙ্কেলজীর সং ঝামেলা হওয়ার বাদ সে হাপনার বইয়ের বিক্রিও কোমে গেছে। সোংসার চালাবেন কি করে?
- আপনার প্রপোজালটা শুনি আগে।
- হামার বেওসা খুব সিম্পল। হামি সিকুরিটি এজেন্সি চালাই। সোব জায়গায় ক্যামেরা লাগাই। হাপনার তো সোরকারি লেভেলে ইনফ্লুয়েন্স আছে। দু একটা ক্যামেরা যোদি রাইটার্সের কনফারেন্স রুমে লাগিয়ে দেওয়া যায়, তাহোলে হামাদের বেওসা দাঁড়িয়ে যাবে। ইসব ইনফোরমেশন পাচার কোরে অনেক লাভ মিঃ মিত্তর। হাপনি তো জানেনই।
- মন্দ নয় প্ল্যানটা। আমি একটু ভেবে দেখি।
- ভাবেন, ভাবেন মিঃ মিত্তর, ভাবেন। হাপনাকে আর চোরির ইনভেস্টিগেশন কোরতে হোবে না, সারা জীবন বোসে বোসে খাবেন।
- হুম, কোথাও লাগিয়েছেন নাকি ক্যামেরা?
- দেখেন মিঃ মিত্তির, হামি তো বোলেইছি যে বিজনেস সিক্রেট হামি হাপনাকে বোলবে না। হাপনি অনেক পিছনে লেগেছেন হামার। ইবারেও লাগতে পারেন।
- না বললে আপনার বিজনেস প্রপোজাল নিয়ে আমি ভাবব কি করে মগনলালজী? আর যদি আমি যদি আপনার পিছনে লাগি, তাহলে লালমোহনবাবুকে খুনের চেষ্টার ভিডিওটা নাহলে পুলিশ কে দিয়ে দেবেন।
- হাঁ, সিটো করা যায়। তোবে হাপনাকে বোলেই দিই। হামি ক্যামেরা লাগিয়েছি। একঠো লাগিয়েছি আই জি সাহিবের মকানে, আউর একঠো ট্রান্সপোর্টেশন মিনিস্টারের মকানে।
- বাঃ, কাজ তো ভালই এগিয়েছেন দেকছি। আচ্ছা, আমি উঠি। ভেবে দেখব আপনার প্রপোজাল।
- শরবত খাবেন না মিঃ মিত্তর?
- নাহ, আজ থাক।
- খেয়ে যান, উ শরবতে…
- জানি জানি, বিষ নেই। বিসনেস প্রপোজাল দিয়ে কেউ বিষ খাওয়ায় না।
৪
- না ভাই তপেশ, আমার পক্ষে আর ফেলুবাবুর সাথে থাকা সম্ভব নয়।
- আপনি বুঝছেন না লালমোহনবাবু, এসব প্ল্যান করেই করা।
- কোনটা প্ল্যান? আমাকে খুন করার চেষ্টাটা প্ল্যান? আমি ভাবতেও পারছি না তপেশ ভাই, এতোদিন তোমাদের সঙ্গে থাকলাম, প্রায় সব কটা অ্যাডভেঞ্চারে সঙ্গী হলাম, বাক্স রহস্যে ফেলুবাবুর প্রানও বাচাঁলাম। তার প্রতিদান কিনা এই?
- আপনি আগে পুরো কথাটা তো শুনুন।
- কি শুনবো? লোকে আমাদের থ্রি মাস্কেটিয়ার্স বলতো। আর এখন? এই সব কথা প্রচার হয়ে গেলে তো আমি মুখ দেখাতে পারব না। আমার গড়পাড়ের বন্ধুদের সামনে আমি কি লজ্জায় পড়ব তা বুঝতে পারছ?
- ফেলুদার হাতে অন্য কোনো উপায় ছিল না বলেই তো…
- কি বলছ তুমি? বৈকুন্ঠ মল্লিকের দুটো কবিতা শোনাতে চেয়েছি বলে একেবারে খুন করতে চাইবে? খুন? ভাবতে পারছ তপেশ ভাই?
- ধ্যের মশাই, পুরো কথাটা তো শুনুন আগে।
- শোনার কি আছে? আমি ভেবেছিলাম ফেলুবাবু একদম আমার প্রখর রুদ্রের মতো। ভুল ভেবেছিলাম। প্রখর রদ্র হয়ত ভুল জায়গায় ভুল লোকের সাথে মারামারি করে, কিন্তু সে বিশ্বাসঘাতকতা করে না।
- আপনি চুপ না করলে আমিই আপনাকে সত্যি সত্যি বিষ খাইয়ে দেব।
- ওরে বাবা, চুপ করলাম।
- দেখুন, ফেলুদার কাছে খবর ছিল মগনলাল আবার নতুন ব্যবসা ফেঁদে বসেছে। তাই আপনাকে নিয়ে এমন একটা নাটক করল। ফেলুদা জানত যে মগনলাল ওর ক্যামেরায় সব দেখে আপনাকে রেসকিউ করতে আসবে। বুঝলেন?
- যদি না আসত? তবে? আমি তো মরেই যেতাম। এতো বড়ো রিস্ক নিলে তোমরা? তাও আবার আমাকে না জানিয়ে?
- আপনাকে জানালে তো টেনশন করেই সব ভন্ডুল করে দিতেন। মগনলালের সামনে আপনার কি দশা হয়, তা আমার জানা আছে। আর ঘুমের ওষুধ খেয়ে কেউ মরে না লালমোহনবাবু। তাছাড়া আমি তো হোটেলের বাইরেই ছিলাম, সাথে ডাক্তারও ছিল। মগনলাল না এলে আমরা যেতাম। ফেলুদার সঙ্গে ব্যাপারটা এবার মিটিয়ে নিন।
- বলছ?
- না মেটালে প্রখর রুদ্র কিন্তু আবার নর্থ পোলে জলহস্তী মারবে।
- তা বটে। তবে চলো, ফেলুবাবুর কাছে গিয়ে ক্ষমাপ্রার্থনার আর্জিটা করেই ফেলি।
- সেটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
- মগনলালের কি অবস্থা?
- তার নিজের কুকীর্তির স্বীকারোক্তির রেকর্ডিং ফেলুদা পুলিশের কাছে জমা দিয়েছে। পুলিশ ভ্যানে ওঠার আগে মগনলাল শাসিয়ে গেছে ফেলুদাকে।
- কি বলেছে?
-মিঃ মিত্তর, এ অপমানের বদলা হামি জোরুর লিবে।
---
No comments:
Post a Comment