প্রদোষের প্রেয়সী
অনিন্দ্য
আচ্ছা মশাই আপনি কখন প্রেমে পড়েন নি ?? গরম সিঙ্গারায় একটা কামড় মেরে কথাটা জিজ্ঞাসা করলেন লালমোহন গাঙ্গুলী
একেবারে যে পড়িনি সেটা নয় , স্কুলে পড়া কালীন আমার সাথে একটা মেয়ের অল্পবিস্তর সম্পর্ক হয়েছিল কিন্তু ওই যে শেষ অবধি সম্পর্কটা দাঁড়ায় নি মুখের ভেতর থেকে রিং রিং ধোঁয়া ছেড়ে উত্তর দিল ফেলুদা।
কেন কেন , ফেলু মিত্তিরের মত একজন মেয়েরা পছন্দ করবে না হতেই পারেন, বেশ জোরের সাথে বললেন জটায়ু।
সে অন্যকারণ,
আরে সারাজীবন ধরে তো রহস্য রোমাঞ্চ গপ্প লিখে গেলুম এবার না হয় একটা রোম্যান্টিক গপ্প লিখি।
সে লিখতে পারেন তা গল্পের নামটা কি দেবেন? মুচকি হেসে জিজ্ঞাসা করল ফেলুদা
গল্পের নাম আমার ঠিক করা আছে “প্রদোষের প্রেয়সী”, হা হা হা , জটায়ুর হাসির শব্দ ৪৫ ডেসিবেলের অনেক অপরে গেছে বোঝা গেলো , আপনি কেসটা খুলে বলুন
পয়েন্টগুলো নোট বুকে তুলে রাখি , বলেই পাঞ্জাবির পকেট থেকে ছোট একটা নোট বই আর হাতে কলম নিয়ে প্রস্তুত জটায়ু
সিগারেটে একটা টান মেরে ফেলুদা বলতে শুরু করল – মেয়েটা আমার থেকে বছর খানেক বা বছর দেড়েক ছোট ছিল, এই রজনীসেন রোডের শেষ মাথার বাঁদিকে তাকালে একটা মাঠ দেখতে পাবেন তার গা দিয়ে যে রাস্তাটা চলে গেছে তার নাম বলাই মিত্র লেন, সেই রাস্তায় ঢুকে প্রথম তিনটে বাড়ি ছেড়ে ওরা থাকতো, ওরা মানে বাবা, মা ওর ভাই আর ও। স্কুলে আমার থেকে দুক্লাস জুনিয়ার,আমি তখন ক্লাস টুয়েলভে পড়ি আর ও ক্লাস টেন। ওদের আগে ছুটি হত তারপর আমাদের, প্রথমে এত খেয়াল করিনি , পরে খেয়াল করে দেখালাম ছুটির পর ও স্কুলে বসে থাকতো, আমি বেরোলে ও পেছন পেছন আসতো।
খালি প্লেটে হাতড়াতে হাতড়াতে তাপ্পর তাপ্পর?? অতি উৎসাহে বলে জটায়ু
এরকম চলতে লাগলো, আমি স্কুল থেকে বেরোই আর ও পেছন পেছন আসে। এমনি স্কুলে দেখা হলে দেখতাম হাসতো , ভদ্রতা করে আমিও হাসতাম...
এরকম কত দিন চলেছিল – আবার জিজ্ঞাসা করলেন লালমোহন বাবু
ন দশ মাসের মত, তখন ওর স্কুল ফাইনাল পরীক্ষা এগিয়ে আসছে , আমারও সামনে হায়ার সেকেন্ডারি পরীক্ষা, স্কুল থেকে আমরা দুজনেই বেরিয়ে যাবো একদিন স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফিরছি হঠাৎ দেখি “ফেলুদা একটু দাঁড়াও” পেছন ঘুরে দেখি ও দ্রুত পায়ে আমার দিকে এগিয়ে আসছে, সামনে এসে দাঁড়িয়ে চোখে চোখ রেখে বলল অনেকদিন ধরে তোমায় একটা কথা বলার ছিল, কিন্তু সাহস করে বলতে পারছিলাম না, আমি স্বাভাবিক ভাবেই বললাম “আরে ভয় কিসের? বলই না” আমার চোখে চোখ রেখে মেয়েটা বলে ফেল “ ক্লাসে ম্যাথসের মাখন স্যার আমাদের বলছিল তুমি নাকি অঙ্কে দারুন, স্কুল ফাইনালে তোমাদের ব্যাচে তুমি নাকি হায়েস্ট নম্বর পেয়েছিলে ? তোমার মাধ্যমিকের অঙ্কের খাতাগুলো আমায় দেবে ?আমি তাহলে ওই দেখে প্র্যাকটিস করবো”
অ্যাঁ – ফেলুদার মুখে কথা শুনে জটায়ুর মুখ থেকে ওই একটা শব্দ ছাড়া আর কিছু বেরোল না, আর উচ্চারণ তা কেমন যেন গোঙানির শব্দের মত লাগলো।।
একটু উদাস হয়ে ফেলুদা বলল – অপরাধীর মনের তবু হদিস পাওয়া যায় কিন্তু মেয়েদের মনের উঁহু গোয়েন্দা গুরু হোমসেরও সাধ্য নেই আমি তো কোন ছাড়
No comments:
Post a Comment