Sunday, 12 April 2020

Jatayur Dhandha by Suhrid Devsharma

জটায়ু'র ধাঁধা 

চারমিনার সিগারেটের ধোঁয়া উড়িয়ে ফেলুদা বললো, "কি ব্যাপার বল তো তোপসে? দেশ থেকে ক্রাইম কি উধাও হয়ে গেলো নাকি? প্রায় মাসখানেক হতে চললো, হাতে একটাও কেস নেই৷ চুরি ডাকাতি রাহাজানি বাদ দে, এমনকি কেউ কাউকে ব্ল্যাকমেইল'ও করছে না৷ এমন চললে তো আমার মতো প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর না খেয়ে মারা যাবে।" 

"তা কেন, ফেলুদা?", আমি বললাম। "ক্রাইম কমা তো ভালোই। তাছাড়া তোমার তো আরও কত গুণ আছে, তুমি হাত গুটিয়ে বসে থাকতে যাবে কেন? তুমি তো এত ফিট - বাড়িতে বসেই অনলাইন ফিটনেস ক্লাস নাও না কেন? মোক্কাইরি'টাও শেখাতে পারো, ওটা বেশ অন্যরকম৷"

বাড়িতে ডালমুট আসে নিউ মার্কেট থেকে, আর সেখানে যাওয়ার কোনও উপায় নেই। গতকাল'ই ডালমুটের স্টক শেষ হয়েছে, আজকে তাই চায়ের সঙ্গে মুড়ি খাওয়া চলছে। এই চা-মুড়ি'কে সন্ধি করলে সেটাকে 'চাড়ি' না 'মুচা', কোনটা বেশি মানাবে ভাবছি, এমন সময় ফোনের ঘন্টি বেজে উঠলো। 

ঘড়িতে দেখলাম কাঁটায় কাঁটায় দশটা, মানে জটায়ু ফোন করেছেন। আজকাল উনিও গৃহবন্দী হয়ে আছেন বলে আমাদের রজনী সেন রোডে তাঁর, হরিপদবাবু'র বা সেই সবুজ এম্ব্যাসাডরের দেখা নেই। কিন্তু নাকের বদলে নরুনের মতো তিনি রোজ সকাল দশটায় ফোন করে আমাদের সঙ্গে আড্ডা দিতে ভোলেন না৷ আজ আবার রবিবার, তাই নিশ্চয়ই একটু বেশি সময়ই কথা বলবেন। 

"গুড মর্নিং, তপেশরঞ্জন, মর্নিং ফেলুবাবু"। জটায়ু'র গলায় বেশ খুশি'র ছোঁয়া৷ তিনি জানেন যে মাসখানেক আগেই নিউ মার্কেটের জগদ্ধাত্রী ইলেকট্রনিকস থেকে আমরা একটা নতুন স্পিকার ফোন কিনেছি, তাই এখন আর তিনজনে একসাথে কথা বলা'র অসুবিধা নেই। 

"সুপ্রভাত, সর্বজ্ঞ বাবু", লালমোহনবাবু'র পোশাকি নাম'টা বললো ফেলুদা। জটায়ু অপ্রস্তুত। 

"হঠাৎ এই নাম'টা বললেন যে? কি ব্যাপার বলুন তো?" ভদ্রলোকের খুশি ভাব'টা মিলিয়ে গিয়ে গলায় একটা খটকা'র ভাব।

"ব্যাপার আর কি? আপনি সর্বজ্ঞ, মানে সবজান্তা। যে ব্যক্তি 'উলানবাটোরে উলোটপালোট' লিখতে পারেন, তাঁর পক্ষে কিছুই অজানা হওয়া উচিৎ নয়৷ তাই ভাবলাম আপনাকে জিজ্ঞাসা করি এই লকডাউন'টা আর কদিন চলবে? খবরের কাগজওয়ালা'রা তো সবাই আন্দাজে ঢিল ছুড়ছে।" 

জটায়ু যেন আঁতকে উঠলেন। "আপনি এখনও খবরের কাগজ আনাচ্ছেন নাকি? কি সর্বনাশ। বন্ধ করুন, বন্ধ করুন। ওতেও তো শুনছি ভাইরাস ছড়াচ্ছে।"

"কে কি ছড়াচ্ছে তা তো বোঝা'ই যাচ্ছে", বললো ফেলুদা। "আপনিও প্রচুর ছড়াচ্ছেন, তবে ভাইরাস নয়, তার চেয়েও দুর্ধর্ষ দুশমন, অর্থাৎ অযৌক্তিক ভুল খবর আর অযথা ভয়। উটের পাকস্থলী'র থেকে এখনও বেরোতে পারলেন না, লালুদা।"

লালমোহনবাবু লজ্জা পেয়ে গেলেন। "এহে, তাই নাকি? সরি, সরি। আসলে আমার প্রতিবেশী এই কথা'টা আমাকে বলেছেন কিনা, কিন্তু আমার উচিৎ ছিল ব্যাপার'টা যাচাই করে নেওয়া। মাফ করবেন, আর এমন ভুল হবে না৷"

"আচ্ছা লালামোহনবাবু", আমি বলতে শুরু করা মাত্র উনি তৎক্ষণাৎ আমাকে থামিয়ে দিলেন৷ 

"কি বললে? লালামোহন?" জটায়ুর গলায় গভীর উদ্বেগ। 

"মিসটেক, মিসটেক", নিজের ভুল বুঝে আমি বললাম। "আসলে বাংলা খবরে রোজ'ই লালারস পরীক্ষার কথা শুনছি কিনা, তাই ওটাই মাথার মধ্যে ঘুরছে।"

"ওসব ঘোরাঘুরি বন্ধ কর, নাহলে ভাইরাস তোকে না ধরলেও dementia বা depression অবধারিত ভাবে ধরবে", বললো ফেলুদা৷ "তাহলে কি হবে ভেবে দেখ। কোনদিন আবার যদি আমরা শিবাজি কাসলের সেই মিস্টার গোরের মুখোমুখি হই, আর তুই "গোরে গোরে, ও বাঁকে ছোরে" গান'টা গাইতে থাকিস, তাহলে কি ভালো দেখাবে? কি বলেন লালমোহনবাবু?"

"দেখাবে না'ই তো।" জটায়ুও ফেলুদা'র সঙ্গে একমত। "তাছাড়া ওই বোম্বাইয়ের বোম্বেঁটে'কে আমি দেখতেও আর চাই না। ব্যাটা মহা পাজি, আমাকে দিয়েই নওলখা হার পাচার করালো৷"

"লালুদা, এবার যেখানে সেখানে চন্দ্রবিন্দু'র ব্যবহার'টা বর্জন করুন তো। হাসপাতাল'কে যে আপনি হাঁসপাতাল বলেন সেটা না হয় তাও সহ্য করা যায়, ওখানে সবাই হাঁঁসফাঁস করে বলে। কিন্তু বোম্বেটে'তে চন্দ্রবিন্দু তো একটা unpardonable sin. Pirate নয়, মনে হচ্ছে আপনি বলছেন ব্যোম বেঁটে, ঠিক যেন খর্বকায় শিবঠাকুর'কে আহ্বান করছেন। এই অপরাধের শাস্তি কি জানেন? তিন মাস ফাঁসি আর সাতদিনের জেল।"              

"তার মানে আমাকে আপনি হ-জ-ব-র-ল'র নেড়া'র সাথে তুলনা করছেন? তা করুন। নেড়া আর টাকমাথা'র তো তেমন পার্থক্য নেই", নিজের ভুলে বিশেষ বিব্রত না হয়েই বললেন লালমোহনবাবু। "তাছাড়া এখন জীবন'টাও কেমন হ-জ-ব-র-ল হয়ে উঠেছে। কোথাও মাছ পাওয়া যাচ্ছে না, জানেন? গত এক সপ্তাহ মাছের ঝোল না খেতে পেয়ে আমি কাল রাতে মছলিবাবা'কে অবধি স্বপ্নে দেখে ফেলেছি। কি কান্ড, বলুন?"

"তাহলে আর কি?", আমি বললাম। "ওঁর একটি মন্ত্রপূত শল্ক চেয়ে নিন, দেখবেন ভাইরাস ঠিক মাইনাস হয়ে যাবে। তারপর আবার আপনার নতুন উপন্যাস লেখা শুরু হবে। আমার মনে হয় এবার আপনি 'Wuhan'য়ের ভাইরাস' নামে গল্প লিখুন।"

"এই, খবরদার", ফেলুদা খুব জোর ধমকে দিলো আমাকে। "ভাইরাস যেখান থেকেই আসুক না কেন, কোনও রোগ'কে একটা বিশেষ জায়গা'র সঙ্গে মিলিয়ে দিবি না। এখন শুধু নয়, কোনসময়েই জাতপাত, দেশ বিদেশ বা ধর্ম নিয়ে বিভেদ করা উচিৎ না। লালমোহনবাবু, আপনি বরং আপনার গল্পের নাম রাখুন 'পুরঞ্জয় পৃথিবী', আর তাতে লিখুন কিভাবে প্রখর রুদ্র পৃথিবী'র সমস্ত দেশের পুলিশ আর বৈজ্ঞানিক'দের সাথে মিলে এক অজানা আতঙ্ক'কে পরাজিত করছে।"

"বা বা, বেশ বেশ", বললেন জটায়ু। " স্কুলে পুরঞ্জয় নামে আমার এক বন্ধু'ও ছিলো, সেও খুব খুশি হবে। কিন্তু নতুন উপন্যাসের কথা এখন থাক। আজ আপনার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে, সেটাই বলি। ভাই তপেশ'ও মাথা খাটাবার সুযোগ পাবে মনে হয়। কি হয়েছে জানেন, আজ সকালে আমার এথিনিয়াম স্কুলের একটা পুরনো Yearbook ঘাঁটতে গিয়ে বৈকুন্ঠ মল্লিকের লেখা একটা ধাঁধা হঠাৎ খুঁজে পেলাম। আমি তো তার মাথামুন্ডু কিছুই বুঝলাম না, তাই মনে হলো আপনাকে জিজ্ঞাসা করি। আপনার বুদ্ধির ধার'টা একবার পরখ হয়ে যাক।"


"করুন, করুন", ফেলুদা বললো। "মগজে একটু সার দিলে তো ভালোই লাগবে। বাড়িতে বসে থেকে বুদ্ধি'তেও আপনার জং বাহাদুর রাণা'র সেই unsafety razor'য়ের মতো জং ধরে গেছে। এদিকে কৈলাশ চৌধুরী'ও একটা ধাঁধা পাঠাবেন বলেছেন, কিন্তু সেটা এখন'ও এলো না, তাই আপনার'টাই না হয় আগে সমাধান করি। কিন্তু তার আগে আমি একটা নতুন লিমেরিক লিখেছি, সেটা শোনাতে পারি কি?


"কি আশ্চর্য্য, না শোনানোর কি আছে? বলে ফেলুন ঝটপট", বললেন জটায়ু। 


ফেলুদা বললো -


"উহান আর শ্যাংঘাই, ঘুম থেকে উঠেছে,

তার সাথে কোরিয়া ও ইটালি'ও জুটেছে,

ভারত'ও পিছিয়ে নেই,

হারিয়ো না কেউ খেই,

দেখবে আবার গাছে ফুল কুঁড়ি ফুটেছে৷"  


"দারুণ হয়েছে, ফেলুদা," আমি বললাম৷ "এটা নিশ্চই ভাইরাসের উপদ্রব'কে হারাতে আমরা যে সক্ষম হবো সেই বিশ্বাস নিয়েই লেখা, তাই না?"


ফেলুদা মৃদু হেসে মাথা নেড়ে "হ্যাঁ" বললো। জটায়ু'রও এর মধ্যে কিছু না বললেই নয়, তাই তিনি বললেন "বেড়ে হয়েছে, কিন্তু ফুল কুড়ি'টা ফুটবে কি একুশ'টা, তা আপনি জানলেন কি করে?"


ফেলুদা কপাল চাপড়ালো। আমিও। নিজে ডজন দরে চন্দ্রবিন্দু ব্যবহার করেও লালমোহনবাবু স্বয়ং ফুলের কুঁড়ি আর উনিশ-কুড়ির তফাৎ'টা ধরতে পারলেন না দেখে আমার হাসিও পেলো।       


আমাদের মাথা চাপড়ানো'টা ফোনের মাধ্যমে দেখা গেলো না বলে জটায়ু'র কোনও হেলদোল নেই। "তাহলে ছড়া'টা বলি, আপনারা সমাধান করুন", তিনি বললেন।   


"তোপসে, আগে তুই চেষ্টা কর। যদি তুই না পারিস তাহলে আমি বলার চেষ্টা করবো।" ফেলুদা আমাকেই প্রথম সুযোগ দিলো।              

"অতি উত্তম" বলে জটায়ু একটা গলা খাকারি দিয়ে শুরু করলেন -


"লয়ে চলো মোরে আজ, সেই দূর দেশে,

কতদূর, কোনখানে, বেদুইন বেশে।

ডানপিটে ছেলেমেয়ে কাকে মনে রাখে?

উটে'র পিঠে'তে কারা ধায় থাকে থাকে?

নদ-নদী পার করে কে বা যায় চলে,

আমিও ভেবে যে শেষে ঘুমে পড়ি ঢলে। 

রকমারি চিন্তায় মন'কে ভরিয়া,

ফের ভাবি কি বা হবে এসব স্মরিয়া? 

লুকিয়ে ভিতরে আছে কে'ই আজ হেথা,

মিলেও সে মেলে না তো, চলে যায় যেথা -

তরি বেয়ে স্রোত ভাসে সাগরের পানে,

তিথি এলে তারপর আশা আসে প্রাণে।

রেহাই কি পাবো মোরা দুর্দশা থেকে?

রহিবো না সর্বদা এ আঁঁধারে ঢেকে।

সারাদিন ধরে মোরা গাহিবো যে গান,

থেমে গেলে আশঙ্কা রহিবো না ম্লান।  

আবার মিলে ও মিশে একত্রে সবে, 

ডমরুধরের ন্যায় পবিত্র ভবে, 

ডাক দেবো মানুষ'কে - আয়রে ত্বরা,

রহিস রে কেন নিয়ে মনে'তে জরা?

মন থেকে ঝেড়ে ফেল দ্বিধা আর ভয়,      

জানিস আগামী দিন হবে যে অভয়।"  


আমি হাঁ। এটা'র মানে কি? ছড়া'টা মন্দ নয়, কিন্তু এর মধ্যে ধাঁধা কোথায়? কোন'টা মাথা, কোন'টা মুন্ডু কিছুই বুঝছি না। 


জটায়ু'কে বললাম ছড়া'টা ধীরে ধীরে আবার বলতে, আর আমি সেটা খাতায় টুকে নিলাম। তারপর বিস্তর মাথা চুলকেও আমার কাগের ঠ্যাঙ হাতের লেখায় ছড়া'টা কাগের ঠ্যাঙ'ই রইলো, এমনকি বগের ঠ্যাঙ'ও হলো না। 


এদিকে একবার মাত্র ছড়া'টা শুনেই ফেলুদা ফিক করে হেসে ফেলেছে, যার মানে ও ধাঁধা'র সমাধান পেয়ে গেছে মনে হয়। তাহলে আমি পাচ্ছি না কেন?


ফেলুদা আর লালমোহনবাবু মিনিট পাঁচেক এটা ওটা কথা বললেন, আর আমি পেন্সিলের ডগা'টা চিবিয়ে ছিবড়ে করে ফেলেও কিচ্ছু পারলাম না। অবশেষে লালমোহনবাবু বললেন, "কি হে তপেশ, কিছু পেলে, নাকি এবার তোমার দাদা'কেই বলবো উত্তর'টা বাতলাতে?"


"এটা খুব'ই জটিল ধাঁঁধা", গম্ভীর হয়ে আমি বললাম। "ফেলুদা'ও পারবে বলে মনে হয় না।" কথাগুলো বললেও আমি জানি ফেলুদা উত্তর'টা বলে দেবে। কিন্তু সেটা সর্বসমক্ষে স্বীকার করে তো আর নিজের নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দেওয়া যায় না। 


"ধাধা'র সমাধান না হয় পরে হবে, লালমোহনবাবু", ফেলুদা বললো। "তার আগে বলি যে এটা মোটেও বৈকুণ্ঠ মল্লিক লেখেননি, ঘরে বন্দীদশা'র boredom থেকে মুক্তি পেতে লিখেছেন আপনিই। হট কচুরিস'য়ের মতো হাহাকার-ময় উপন্যাসের বদলে এটা লিখে ভালোই করেছেন যদিও। লেখাতে মুন্সিয়ানা আছে মানতেই হবে। অনেকটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের code language'য়ের ধাঁচে। কিন্তু থ্রি মাস্কেটিয়ার্স'য়ের মধ্যে শুধু একজনের'ই নাম দিলেন কেন? সবাই মিলেমিশে গল্প করছি বলেই তো আনন্দ'টা আরও বেশি, তাই না?"


"বাহবা, বাহবা, এই না হলে মগজাস্ত্র!" বলে হাততালি দিয়ে উঠলেন জটায়ু। "এইজন্যই তো আপনাকে A B C D,  মানে Asia's Brightest Crime Detector উপাধি দিয়েছি। অবশ্য এখানে C'টাকে Cryptograph বললেও ভুল হবে না। কি ভাই তপেশ, বুঝতে পারলে?"


আমি অবাক। আবার ভালো করে ছড়া'টা পড়লাম, কিন্তু তাও কিচ্ছু বুঝলাম না। তখন ফেলুদা'ই বললো প্রত্যেক লাইনের প্রথম অক্ষরগুলো নিয়ে নতুন একটা বাক্য বানাতে। আর আজব ব্যাপার, অমনি ব্যাপার'টা জলবৎ তরলং হয়ে গেলো। 


এবার আমি ছড়ার লোকানো মানে'টা ঠিক বুঝতে পেরেছি। আর উত্তরে যে কথা'গুলো পেলাম সেগুলো একেবারে সত্যিও বটে, কারণ আমার মনে হলো এটাই বাড়িতে আটকে থাকা'র একাকীত্ব কাটানোর শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি।   


তোমরা'ও বুঝতে পেরেছো তো? এতক্ষণে বুঝলে, নাকি ফেলুদা'র মতো তোমরা'ও ভীষণ বুদ্ধিমান, আর তাই ধাঁধা'র সমাধান আগেই করে ফেলেছিলে? তাই যদি করে থাকো, তাহলে কিন্তু আমি তোমাদের ক্যাপ্টেন স্পার্ক বলে ডাকবো। ওর'ও খুব বুদ্ধি ছিলো কিনা, তাই।   


সমাপ্ত        


- সুহৃদ দেবশর্মা

No comments:

Post a Comment